রাশিয়া ও ভারত শক্তি একত্রিত করছে নতুন বহু লক্ষ্য সাধনে সক্ষম সামরিক পরিবহনের উপযুক্ত বিমানের সৃষ্টি ও নির্মাণের জন্য. ভারতের বাঙ্গালোর শহরে এই মর্মে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে. বিষয় নিয়ে বিশদ করে বলেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

 ভারতের তরফ থেকে এই প্রকল্পে অংশ নিচ্ছে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকস্ লিমিটেড (হ্যাল), আর রাশিয়ার তরফ থেকে- ঐক্যবদ্ধ বিমান নির্মাণ কর্পোরেশন. এর ভিত্তি মূলক চুক্তি হ্যাল ও রাশিয়ার কর্পোরেশন সেই ২০১০ সালেই করেছিল. বহু লক্ষ্য সাধনে সক্ষম সামরিক পরিবহন বিমান নির্মাণের জন্য স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী তার উত্পাদন ক্ষেত্র হবে ভারতবর্ষ. নতুন যৌথ প্রকল্পের (নাম: “এমটিএ লিমিটেড”) কেন্দ্রীয় দপ্তর, থাকবে ভারতে. একই সময়ে মস্কোতেও এর একটি দপ্তর খোলা হবে.

 আশা করা হয়েছে যে, নতুন এই বিমান কার্যকর মাল বহনের ক্ষমতা রাখবে ২০ টন পর্যন্ত, আর তার উড়ানের সময়ের গতি হবে ঘন্টায় ৮০০ কিলোমিটার, সবচেয়ে বেশী দূর উড়ে যেতে পারবে ২৭০০ কিলোমিটার অবধি. এই বিমান বিশ্বের সমস্ত রকমের জায়গাতেই নানা রকমের আবহাওয়াতে ও পরিবেশে কাজ করতে সক্ষম হবে. এমটিএ ছোট রান ওয়ে থেকে ওঠা নামা করতে পারবে ও তাকে মাল ও নির্মাণের উপযুক্ত যন্ত্রপাতি ভর্তি করে নতুন করে তৈরী হতে যাওয়া জায়গাতেও পাঠানো যাবে. ভারতের সামরিক বিমান বাহিনীতে নতুন বিমান পুরনো হয়ে যাওয়া আন – ৩২ বিমানের কিছু অংশে জায়গা নেবে. পরিকল্পনা করা হয়েছে এই ধরনের বিমান কম করে হলেও ২০৫টি তৈরী করা হবে: ১০০টি রাশিয়ার বিমান বাহিনীর জন্য, ৪৫টি ভারতের বিমান বাহিনীর জন্য ও আরও ৬০টি তৃতীয় দেশে বিক্রী করার জন্য. আশা করা হয়েছে যে, সম্ভাবনাময় এই সামরিক পরিবহনের বিমান তার প্রথম উড়ান করবে ২০১৭ সালে, আর তার নিয়মিত উত্পাদন শুরু হবে ২০১৯ সাল থেকে. এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ রুসলান পুখভ বলেছেন:

 “এই প্রকল্প রাশিয়া ও ভারতের সামরিক বিমান বাহিনীকে আরও সংযুক্ত করেছে, রাশিয়ার শিল্প ও ভারতের শিল্প সহযোগিতার বন্ধনে বিগত সময়ে বহু দিন ধরেই আবদ্ধ. আমি মনে করি যে, এই সহযোগিতা আরও একটি সেতু হবে সামরিক – প্রযুক্তি নির্মাণের ক্ষেত্রে, আর ভবিষ্যতে আমাদের ভারতীয়দের সাথে একত্রে আরও অনেক একই ধরনের প্রকল্প হবে”.

 নতুন চুক্তি রুশ- ভারত আরও একই ধরনের প্রসারিত চুক্তির একটি হয়েছে, যা রয়েছে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ বিমান পাক ফা টি ৫০, ভারতে লাইসেন্স ব্যবহার করে বানানো সু- ৩০ এম কা ই, এম -১৭ ধরনের হেলিকপ্টার সরবরাহ ইত্যাদি. রুশ –ভারত সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতার ক্ষেত্রে বিমান নির্মাণে সব সময়েই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে. এই প্রবণতা এখনও বজায় রয়েছে.