উত্তর কোরিয়া দেশের সংবিধানে পরিবর্তন এনেছে ও নিজেদের পারমানবিক শক্তি বলে ঘোষণা করেছে, এই খবর টোকিওর কোরিয়া বিশ্লেষণ কেন্দ্রের উত্স থেকে পাওয়া বলে কিওডো সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে.

 পিয়ংইয়ং বহু দিন ধরেই যুদ্ধপোযোগী পারমানবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে চেয়েছে, প্রায়ই নিজেদের দক্ষিণ দিকের প্রতিবেশী ও তাদের প্রধান অভিভাবক ও রক্ষা কর্তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হৃদয় বৈকল্যে দিকে পাঠিয়ে দিয়ে. হতে পারে যে, ভয়ের চোখই গোলাকার? কি আর বলা যেতে পারে. উত্তর কোরিয়ার একেবারেই অশান্তি পূর্ণ পরমাণুর ইতিহাসও তো একেবারেই একক সংজ্ঞাবহ নয়.

 সেই আশির দশকের শেষের দিকে সেখানে পারমানবিক অস্ত্র বানানোর কাজ জোরদার করার ঘোষণা হয়েছিল. ১৯৯৮ সালের আগষ্ট মাসে যখন কোরিয়ার গণ প্রজাতন্ত্রী দেশ ব্যালিস্টিক প্রকৌশলগত রকেট জাপানের উপর দিয়ে নিক্ষেপ করেছিল. পশ্চিম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল, যা উত্তর কোরিয়ার থেকে ক্রমাগত পারমানবিক ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করণের খবর দিয়ে উত্তপ্ত রাজনৈতিক ভূমিতেই আছড়ে পড়েছিল. ক্লিন্টনের পরে উত্তর সূরী জর্জ বুশ তো উত্তর কোরিয়াকে একঘরে করে দেওয়া দেশ বলেই অভিহিত করেছিলেন. এই ভাবেই শুরু হয়েছিল বর্তমানের উত্তর কোরিয়া পারমানবিক সঙ্কটের.

 কিন্তু ২০০৫ সালে হেমন্ত কালে ছয় পক্ষের আলোচনার কাঠামোর মধ্যে উত্তর কোরিয়া রাজী হয়েছিল নিজেদের পারমানবিক পরিকল্পনা গুটিয়ে ফেলতে, বিনিময়ে চেয়েছিল ৫ লক্ষ টন খনিজ তেল, নিজেদের তাপ বিদ্যুত কেন্দ্র চালানোর জন্য. এই চুক্তি সত্য যে, কাজ করে নি. এর জায়গায় “উত্তর কোরিয়ার” লোকরা ২০০৬ সালে নিজেদের প্রথম পারমানবিক বোমার পরীক্ষা করেছিল. ফলে ২০০৭ সালে “ছয় পক্ষের” পরবর্তী আলোচনার সময়ে বেজিংয়ে একই ধরনের “নিষেধের” বিনিময়ে তারা দাবী করে বসেছিল সম্পূর্ণ ১০ লক্ষ টন খনিজ তেল অথবা সম পরিমানে বিদ্যুত শক্তির.

 ২০০৮ সালের শেষে উত্তর কোরিয়া ইওনবেন কেন্দ্রে তাদের পারমানবিক পরীক্ষাগার নষ্ট করে দেওয়ার কথা বলেছিল, যেখানে “পারমানবিক সঙ্কটের” বছর গুলিতে অস্ত্র বানানোর উপযুক্ত প্লুটোনিয়ামের সমৃদ্ধি করণ করা হয়েছিল, আর আলোচনার পক্ষদের কাছে নিজেদের সমস্ত পারমানবিক প্রকল্পের তালিকা দেবে বলে ঠিক করা হয়েছিল, যা পরে নষ্ট করে দেওয়ারও কথা ছিল. ২০০৮ সালের গ্রীষ্ম কালে উত্তর কোরিয়ার পারমানবিক কেন্দ্র গুলির তালিকা চিনের প্রতিনিধি দপ্তরে দেওয়া হয়েছিল, আর তারপরে তা ছয় পক্ষের আলোচনা দলের প্রতিনিধিদের মধ্যেও দেওয়া হয়েছিল. ১০ই জুলাই বেজিংয়ে আবার ছয় পক্ষের আলোচনা শুরু হয়েছিল.

 পরে – আরও বাড়াবাড়ি হয়েছে. ২০১০ সালের মে মাসে সাফল্য নিশ্চিত করতে ও পরবর্তী কালের প্রগতির জন্য পিয়ংইয়ং দ্বিতীয় পারমানবিক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল.

 বহু বিশ্লেষকই মনে করেন যে, দুটি পারমানবিক বোমা বিস্ফোরণের পরে পিয়ংইয়ং বোধহয় খুবই দৃঢ় বিশ্বাস করে যে, কোন দেশই তাদেরকে সামরিক ক্ষেত্রে হুমকি দিতে সাহস করবে না. মনে তো হয় না যে, উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্ব এতটাই সরল. সংখ্যার দিক থেকে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী প্রযুক্তি ও সম্ভারের তুলনায় প্রতিবেশী দেশের চেয়ে অনেক শক্তিশালী. সামরিক ক্ষমতার তুলনায় পিয়ংইয়ং এর কোন রকমের এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা এমনিতেই নেই, এমনকি আমেরিকার কোন রকমের হস্তক্ষেপ ছাড়াই.

 এই পরিস্থিতিতে উত্তরের লোকরা সরাসরি সামরিক বিরোধের মধ্যে যাবে কি? আজকে তো মনে হয় না. আর কাল?...

 কাল উত্তর কোরিয়ার, আপাততঃ কোন রকমের লাভের সুযোগ না থাকা পারমানবিক বোমার পাশাপাশি থাকতে পারে স্ট্র্যাটেজিক রকেট – পারমানবিক অস্ত্র. পারমানবিক অস্ত্র তৈরী করা ছাড়াও সেখানে তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে রকেট – মহাকাশ ব্যবস্থা তৈরী করার. আমেরিকার গুপ্তচর তথ্য অনুযায়ী পিয়ংইয়ং বর্তমানে ২০০টি প্রকৌশলগত রকেট “নোডং” তৈরী করেছে, যা জাপানের মধ্যে লক্ষ্যভেদ করতে সক্ষম. মূল্যায়ণ অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া প্রায় তিরিশটি প্রকৌশলগত ও ২৪টি আক্রমণাত্মক রকেট ব্যবস্থা যুদ্ধে প্রস্তুত অবস্থায় রেখেছে.

 উত্তর কোরিয়া এক সেকেন্ডের জন্যও নিজেদের আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরী করার ধারণা ত্যাগ করে নি. প্রথম পরীক্ষা মূলক উড়ান এই ধরনের রকেটের করা হয়েছে – “তেপখোদন – ২”, যা ৬০০০ থেকে ৬৭০০ কিলোমিটার অবধি উড়তে পারে, অর্থাত্ প্রয়োজনে লস অ্যাঞ্জেলেস অবধি উড়ে যেতে পারে এমন, ২০০৬ সালের গ্রীষ্মকালে. আমেরিকার গুপ্তচর বিভাগ নথিবদ্ধ করেছে যে, এই রকেটের উড়ান হয়েছিল ও তা উড়ানের ৪০ সেকেন্ড পরেই পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্যেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল. একই রকম ভাবে এই বছরের এপ্রিল মাসে ছোঁড়া রকেটও ধ্বংস হয়েছে. কিন্তু পিয়ংইয়ং তো আর ধৈর্যের পরীক্ষা কম দেয় নি...