বুধবারে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ সিরিয়া নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছে. গত সপ্তাহে হোমস শহরের কাছে এল- হুলা গ্রামের শতাধিক সিরিয়ার নাগরিকের মারণযজ্ঞ নিয়ে রিপোর্ট শোনা হয়েছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশেষজ্ঞদের কাছে. তার সঙ্ঘে এই তথ্যে জানানো হয়েছে যে, দৈর-এজ-জোর রাজ্যে ১৩ জন সিরিয়ার নাগরিকের মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে হাত বাঁধা অবস্থায়.

 এই বৈঠকের খুঁটিনাটি ও সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছু জানানো হয় নি. তারই মধ্যে জানা গিয়েছে যে, পশ্চিমের বেশ কিছু দেশের পক্ষ থেকে সিরিয়াতে হিংসা বৃদ্ধির জন্য নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার ধারণা ব্যক্ত করা হয়েছে. রাশিয়া এর বিরুদ্ধে বক্তব্য প্রকাশ করেছে. এর আগে চিনের পররাষ্ট্র দপ্তর একই সঙ্গে ঘোষণা করেছিল যে, সিরিয়ার সঙ্কট শুধু এই নতুন নিষেধাজ্ঞার জন্য আরও বেশী ঘোরালো হবে.

 রুদ্ধদ্বার বৈঠকের শেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে রাষ্ট্রসঙ্ঘের স্থায়ী প্রতিনিধি স্যুজান রাইস যদি কোফি আন্নানের শান্তি পরিকল্পনা কার্যকরী না হয় তাহলে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের বাইরে কাজ করার সম্ভাবনাকে অস্বীকার করেন নি. এই প্রসঙ্গে তিনি ঘোষণা করেছেন যে, আজকের দিনে সবচেয়ে সম্ভাব্য হতে পারে এ পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়া. রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ কূটনৈতিক একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান কেন্দ্রের প্রধান আন্দ্রেই ভলোদিনের এই প্রসঙ্গে মন্তব্য হল:

 “আমি এই প্রসঙ্গে এই মহিলাকে একটা প্রশ্ন করতে চাইতে পারতাম, যিনি রাষ্ট্রসঙ্ঘকে এড়িয়ে সম্ভাব্য কাজকর্মের কথা বলছেন. ২০১২ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এই অনুপ্রবেশ কি রকমের প্রভাব ফেলতে পারে? এই ধরনের অনুপ্রবেশ করে বর্তমানের ক্ষমতাসীন আমেরিকার প্রভাবশালী রাজনীতিবিদরা অনেক কিছু নিয়ে ঝুঁকি নিতে চলেছেন. দ্বিতীয় প্রশ্ন হল – এই ধরনের সামরিক অনুপ্রবেশ কোন সন্দেহ নেই যে, সেই পূর্ব ভূমধ্য সাগরীয় এলাকায় পারস্পরিক সম্পর্কের কাঠামোর যে বুনোট রয়েছে তা অবশ্যম্ভাবী ভাবেই নষ্ট হয়ে যাবে. এখানে শুধু সিরিয়া নয়, বরং এখানে তুরস্ক, অন্যান্য প্রতিবেশী ও সংলগ্ন দেশও রয়েছে. এই অনুপ্রবেশ এখানে একেবারে সম্পূর্ণ এক সারি মাঝারি ও অত্যন্ত তীক্ষ্ণ বিরোধের ঢেউ তুলবে, যা নিয়ন্ত্রণ করতে পশ্চিম পারবে না”.

 বিপর্যয় সম্ভাব্য ঘটনা পরম্পরা এড়ানোর শ্রেষ্ঠ উপায় হল – কোফি আন্নানের পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করা. এই বিষয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রসঙ্ঘের স্থায়ী প্রতিনিধি ভিতালি চুরকিন ঘোষণা করেছেন, বৈঠকের পরে তাঁর পশ্চিমের সহকর্মী দেশ গুলির প্রতিনিধিদের অবস্থান সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে, যাঁরা সিরিয়ার সঙ্কটের অবসানে সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনাকে বাদ দেন নি. একই সঙ্গে রাশিয়ার কূটনীতিবিদ বলেছেন যে বর্তমানে সিরিয়ার ঘটনার গতি প্রকৃতি মেনে নেওয়া যেতে পারে না. তাঁর কথামতো, এই ব্যাপারটা, কোন ভাল দিকে নিয়ে যাবে না- তা যেমন প্রশাসনের জন্য নয়, তেমনই বিরোধীদের জন্যও নয়. ভিতালি চুরকিন আহ্বান করেছেন বাড়তি সাহসী পদক্ষেপ নিতে, যাতে এই নেতিবাচক প্রবণতা ভেঙে দেওয়া যায়. রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক ভ্লাদিমির ইসায়েভ মস্কোর তরফ থেকে করা এই ঘোষণাকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন:

 “এই ঘোষণা যথেষ্ট ভারসাম্য রেখে ও বুদ্ধি উপযুক্ত হয়েছে. সাহসী পদক্ষেপের আহ্বান আমি মনে করি প্রাথমিক ভাবে বিরোধী পক্ষের কাছেই করা হয়েছে. কারণ যতই বিরোধী প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাত্কার প্রকাশ করা হোক না কেন – তাদের একটাই কথা: আসাদ সরে যেতে বাধ্য. আমি বহুবার তাদের সঙ্গে কথা বলেছি:  ভাল কথা, কিন্তু তার পরে কি হবে? কোন পরিকল্পনা আছে? পরিকল্পনা নেই. কিছু ব্যক্তিত্বের নাম করুন, যারা পরিবর্তে এগিয়ে আসতে পারে. তাতেও কোন উত্তর নেই. তাই, খুব সম্ভবতঃ, এই কথা গুলি প্রাথমিক ভাবে সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের প্রতি বুদ্ধিমান ও সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্যেই বলা হয়েছে. তারা নিজেদের মধ্যে পুরুষকার খুঁজে নিতে বাধ্য ও আলোচনার টেবিলে বসতেও বাধ্য, যে কোন রকমের অস্ত্র ছাড়াই স্বাভাবিক ভাবে সমস্যা সমাধান করতে বাধ্য”.

 সিরিয়ার পক্ষ থেকে রাষ্ট্রসঙ্ঘে স্থায়ী প্রতিনিধি বাশার জাফরি যেমন ঘোষণা করেছেন যে, সিরিয়ার বাইরে থাকা শক্তি দেশের ভিতরের বিরোধী পক্ষের উপরে চাপ সৃষ্টি করেছে, যাতে তারা দামাস্কাসের সঙ্গে কোন রকম আলোচনায় না বসে. এই প্রসঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক সমাজকে দামাস্কাসকে সঙ্কট সমাধানে সহায়তা করতে আহ্বান করেছেন, তা আরও বাড়াতে নয়.

 সিরিয়ার বিরোধীরা এই সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদকে এক চরম শর্ত দিয়েছে. তারা তাঁকে ৪৮ ঘন্টা সময় দিয়েছে কোফি আন্নানের পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নের জন্য. এই শর্ত অনুযায়ী সময় সীমা পার হবে শুক্রবারে মধ্য দিনে. এর পরে “স্বাধীন সিরিয়ার সেনা বাহিনী” – বিরোধী পক্ষের সামরিক বাহিনী – নিজেদের মনে করবে সব রকমের বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত, যা রাষ্ট্রসঙ্ঘ ও আরব লীগের বিশেষ প্রতিনিধির সিরিয়া সঙ্কট সমাধানের পরিকল্পনা থেকে উদ্ভূত হয়েছে.