সোভিয়েত দেশ ও বর্তমানের রাশিয়ার প্রকল্প অনুযায়ী তৈরী হওয়া সমস্ত পারমানবিক বিদ্যুতে কেন্দ্র গুলির জন্য ঐক্যবদ্ধ সঙ্কট কালীণ কেন্দ্র রাশিয়াতে তৈরী করা হবে. এই সম্বন্ধে ২০১২ সালের অষ্টম আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান প্রযুক্তি সম্মেলন, যা পারমানবিক শক্তি বিষয়ে নিরাপত্তা, ফলপ্রসূতা ও ব্যয়সঙ্কোচ নামে করা হয়েছে, তার পরে ঘোষণা করেছেন রসএনের্গোঅ্যাটম সংস্থার ডেপুটি জেনারেল ডিরেক্টর ভ্লাদিমির আসমোলভ.

   পারমানবিক শক্তি ক্ষেত্রের বর্তমানে খুব একটা ভাল সময় যাচ্ছে না. ফুকুসিমা- ১ পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের ট্র্যাজিক ঘটনার পরে এই আতঙ্কের মানসিকতা একটা চূড়ান্ত অবস্থায় পৌঁছেছে. এখানে যথেষ্ট হবে বললে যে, জাপান, যেখানে এক বছর আগেও ৫৪টি পারমানবিক রিয়্যাক্টর কাজ করত, সেখানে সব কটি রিয়্যাক্টরই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে. কিছু দেশ অংশতঃ জার্মানী ও সুইজারল্যান্ড, একেবারেই ঠিক করেছে পারমানবিক বিদ্যুত থেকে নিরত হতে, এমনকি তৈরী হতে শুরু করা কেন্দ্রের কাজও বন্ধ করে দিয়েছে. রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা কোন তাড়াহুড়ো করে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ না করে, তার জায়গায় বরং পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র গুলিকে আরও নিরাপদ করার ব্যবস্থা করতে চেয়েছেন. অংশতঃ, দুর্ঘটনার সময়ের শক্তি সরবরাহ বিষয়ে আধুনিকীকরণ করা হয়েছে, বাষ্প উত্পাদক জেনারেটর গুলিতে জল দেওয়ার বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, গ্যাস ব্যবহার করে আগুন নেভানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে ভ্লাদিমির আসমোলভ বলেছেন:

 “বিগত চার বছরে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র গুলির আধুনিকীকরণের কাজে প্রতি বছরে এক বিলিয়ন ডলারের বেশী খরচ করা হয়েছে. উদাহরণ হিসাবে, যেখানে দুটি নিরাপত্তার চ্যানেল ছিল, সেখানে আমরা তৃতীয় চ্যানেল তৈরী করেছি. আমরা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও ভাল করেছি, দুর্ঘটনার সময়ে রিয়্যাক্টর বন্ধ করার জন্য নতুন ডিজিট্যাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা করেছি, বাড়তি ব্যবস্থা নিয়েছি রিয়্যাক্টর বন্ধ করার”.

 রসএনের্গোঅ্যাটম সংস্থার উপপ্রধানের মতে, রাশিয়ার পারমানবিক বিজ্ঞানীরা জেনে শুনেই এত বেশী খরচের পথ ধরেছেন. আর তাঁরা এই খরচকে কোন উত্পাদনের জন্য খরচ হিসাবে না ধরে, তার বদলে রাশিয়ার পারমানবিক শক্তি উত্পাদনের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা ক্ষম হওয়ার জন্যে দীর্ঘস্থায়ী বিনিয়োগ বলেই মনে করেছেন. তার উপরে জাপানের ঘটনার পরেই রাশিয়ার সমস্ত পারমানবিক কেন্দ্র গুলির ১০টিতেই চাপ পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে. সেগুলি চরম প্রাকৃতিক ও প্রযুক্তিগত ভাবে উত্পন্ন হওয়া পরিস্থিতিতে সুরক্ষিত বলে প্রমাণিত হয়েছে, এই কথা বলে ভ্লাদিমির আসমোলভ বলেছেন:

 “সকলেই খুব ভাল করে মনে করতে পারেন যে, ফুকুসিমা বিপর্যয়ের পরে কি করে দমকলের গাড়ী গুলি এসেছিল ও তারা কোথাও একটা জল ঢালছিল, কিসের উপরে জল ছিটিয়ে দিচ্ছিল, এটা খুব একটা ফলপ্রসূ ছিল না, কারণ এই কেন্দ্র দুর্ঘটনাকে সীমাবদ্ধ করার জন্য এই ধরনের কাজকর্মের জন্য তৈরী ছিল না. রাশিয়ার কেন্দ্র গুলিতে অনেক দিন আগে থেকেই বিশেষ ধরনের যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে. দমকলের গাড়ী চলে আসবে ও অবিলম্বে যোগ দেবে এক পৌঁছনোর মত জায়গায় আর জল ঢালবে, সেখানে যেখানে দরকার: দ্বিতীয় খোলসে, যেখানে বাষ্প জেনারেটর রয়েছে, যাতে ব্লক ঠাণ্ডা করা যায়”.

 রসঅ্যাটম সংস্থার তথ্য অনুযায়ী গত পাঁচ বছরে রাশিয়ার পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র গুলিতে একটিও কোন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নথিবদ্ধ করা হয় নি. ভরসা যোগ্যতা হিসাবে রাশিয়ার পারমানবিক কেন্দ্র গুলি বর্তমানে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, এই ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গ্রেট ব্রিটেন ও জার্মানীকে পেরিয়ে. রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থাতেও সমর্থন করা হয়েছে. রাশিয়ার পারমানবিক বিশেষজ্ঞদের কথামতো, পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র গুলিতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজ আরও করা হবে.আগামী বছরেই বিজ্ঞানীরা রিয়্যাক্টরের ভূমিকম্প থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এক অনন্য সুরক্ষা ব্যবস্থা তৈরী করবেন. পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের চারপাশে অনেক কিলোমিটার দূরে ভূমিকম্প মাপার জন্য যন্ত্র বসানো হবে. এসওএস সঙ্কেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই ব্যবস্থা নিজে থেকেই রিয়্যাক্টর বন্ধ করে দেবে, ভূমিকম্পের ধ্বংস করে দেওয়ার মতো কম্পন কেন্দ্রের কাছে আসার অনেক আগেই...