অল্পবয়সীদের সঙ্গে সঠিক কাজ আর তার আগে ভাল রকমের পড়াশোনা হল সামরিক প্রযুক্তির উন্নতি ও দেশের প্রতিরক্ষার জন্য প্রধান শর্ত. এই ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করেন খুবই বিখ্যাত নির্মাতা সের্গেই নিপবেদিমী, যিনি রকেট ব্যবস্থা “ওকা” ও “ইস্কান্দের- এম” সৃষ্টি করেছেন.

 প্রায় সারা জীবন ধরেই সের্গেই নিপবেদিমী ছিলেন সোভিয়েত দেশের একজন অত্যন্ত গোপনীয় ব্যক্তিত্ব. তাঁর দেশের বাইরে যাওয়া বারণ ছিল. আর তাঁর ফোটো কোন প্রকাশনা থেকেই ছাপা হত না. তাঁর ছবি এমনকি অনেকের একসাথে ছবি থেকেও কেটে বাদ দেওয়া হত. শোনা কথা আছে এই রকম যে, সিআইএ সংস্থা এই বিখ্যাত নির্মাতার সন্ধান করে ফিরেছে বেশ কয়েক দশক ধরে, যাতে অন্তত জানা যায় যে, তাঁকে কি রকমের দেখতে. রকেট ব্যবস্থা, যেগুলি তিনি তৈরী করেছেন (“মাল্যুত্কা”, “স্তুর্ম”, “ইগলা”, “তোচকা”, “ওকা”) – সারা বিশ্বে কিছু কম জনপ্রিয় হয় নি, যেমন হয়েছিল কালাশনিকভ স্বয়ংক্রিয় বন্দুক নিয়ে, কিন্তু এই গুলিতে স্রষ্টার নাম দেওয়া – তার বাস্তব অর্থ হত তাঁকে প্রকাশ করে ফেলা. প্রসঙ্গতঃ, তাঁর পদবি নিপবেদিমী এসেছে এক ডাকনাম থেকেই, যা সের্গেই পাভলোভিচের  ঠাকুরদাদা পেয়েছিলেন, এই প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন:

 “আমার বাবা খুবই শক্তিশালী লোক ছিলেন, আর তাঁর বাবা গ্রামের সবচেয়ে সেরা লড়াই করিয়ে ছিলেন. তাঁকে এই জন্যই বলা হত “নিপবেদিমী” (যার বিরুদ্ধে জেতা সম্ভব নয়). আর যখন বাবা নিজে বড় হয়েছিলেন, তখন একটা অল্প বয়সের উপযুক্ত কাজ করে নিজের নতুন পদবি নিয়েছিলেন – নিপবেদিমী”.

 রিয়াজান শহরে ১৯২১ সালে সের্গেই নিপবেদিমী জন্মেছিলেন, ১৯২২ সালে তাঁদের পরিবার কুর্স্ক রাজ্যের শিগরোভস্কি এলাকার নিকোলস্কোয়ে গ্রামে চলে গিয়েছিলেন. সেখানেই ভবিষ্যতের “ওকা” ও “ইস্কান্দের – এম” স্রষ্টা স্কুলে পড়াশোনা করেছিলেন. একেবারে শিশু বয়স থেকেই নিপবেদিমী নানা ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে আগ্রহী ছিলেন আর বাস্তবে আমাদের দেশের বিজ্ঞানের সঙ্গেই একেবারে গ্রামীণ কামারশালা থেকে নির্মাতা ব্যুরো পর্যন্ত সমস্ত পথ এক সাথেই এগিয়ে ছিলেন. স্কুলের পরে ১৯৩৮ সালে নিপবেদিমী এন. এ. বাউম্যান নামাঙ্কিত প্রযুক্তি বিশ্ব বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে শুরু করেছিলেন. মহান পিতৃভূমি রক্ষার যুদ্ধের সময়ে তাঁকে স্বেচ্ছা সেবক হিসাবে যুদ্ধে যেতে দেওয়া হয় নি. সরকারি নির্দেশ ছিল যে, সামরিক বাহিনীতে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বর্ষের ছাত্র ছাত্রীদের না নেওয়ার, যাতে দেশের বুদ্ধিমান লোকদের সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়. কিন্তু ফ্রন্টের কাছেই নিপবেদিমী তাও পৌঁছে ছিলেন: ছাত্র বাহিনীর সাথে একত্রে তিনি ডাগ আউট খনন করতে গিয়েছিলেন. যুদ্ধের সময়ে নিজের চোখে তিনি বিমান, ট্যাঙ্ক সবই দেখেছিলেন, যদিও নিজে যুদ্ধ করেন নি. তখনই তিনি ঠিক করেছিলেন যে, নিজে এমন অস্ত্র তৈরী করবেন, যা এই লোহার যন্ত্রদের ঠেকিয়ে রাখতে পারে, প্রতিরক্ষার অস্ত্র. এখনও নিজের সবচেয়ে প্রধান সৃষ্টি বলে তিনি মনে করেন প্রকৌশলগত রকেট ব্যবস্থা ওকা তৈরী করা, যা দেশের সামরিক বাহিনীতে ১৯৮০ সালে যোগ হয়েছিল, এই প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন:

 “মাইন ছোঁড়ার কামান খুবই কম দূরত্বে আঘাত করে, সেটা প্রথমেই সমস্ত শক্তি দিয়ে ছোঁড়া হয়ে থাকে, মাইন একটা নির্দিষ্ট গতিতে উড়ে যায় আর থেমে যাওয়ার কারণেই গতিবেগ কম হতে থাকে – এই ভাবে বেশী দূর অবধি উড়ে যাওয়া সম্ভব নয়. আমি অন্য রকমের প্রযুক্তি নিয়ে চিন্তা করেছিলাম, যখন রকেট বের হয়, তখন শুধু ওড়ার সময়েই তার প্রধান গতিবেগ সংক্রান্ত পরিবর্তন ঘটে, আর এটা দূরত্ব বৃদ্ধি করার সম্ভাবনা দেয়. আর শেষে আমি বিশ্বে সবচেয়ে ভাল ব্যবস্থা তৈরী করেছিলাম, যা ৪০০ কিলোমিটার অবধি উড়ে যেতে পারে, সেটা “ওকা”. বিশ্বে কারও কাছেই এই ধরনের ব্যবস্থা ছিল না. আমরা এই বিষয়ে আমেরিকার চেয়ে এগিয়ে গিয়েছিলাম”.

 কিন্তু ১৯৮৯ সালে স্ট্র্যাটেজিক আক্রমণাত্মক রকেট প্রযুক্তি চুক্তির বাস্তবায়নের সময়ে সমস্ত “ওকা” ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল, যদিও এই গুলি চুক্তির আওতায় সরাসরি ভাবে ছিল না. তখন নিপবেদিমী কলোমনা শহরে যন্ত্র প্রযুক্তি ডিজাইন নির্মাণ ব্যুরোর প্রধান নির্মাতার পোস্ট ছেড়ে দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন, কিন্তু তার আগেই তিনি এক রকেট ব্যবস্থার সৃষ্টি করেছিলেন, যা “ওকা” ব্যবস্থার বদলে তৈরী করা যেতে পারে, যা এখন “ইস্কান্দের – এম” বলে সকলে জানে.

 রাজনীতিবিদরা অনেক দিন ধরেই নিরস্ত্রীকরণের কথা বলে চলেছেন, তাঁরা বলছেন যে, একবিংশ শতক হওয়া উচিত্ শান্তিপূর্ণ. কিন্তু সের্গেই নিপবেদিমী দৃঢ় বিশ্বাস করেন যে, এই ধরনের কথা বিশ্বাস করা শেষ অবধি যেতে পারে না. যে কোন ধরনের কম করাই প্রাথমিক ভাবে হওয়া উচিত্ আক্রমণাত্মক অস্ত্রের বিষয়ে, কিন্তু কোন ভাবেই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় হাত দেওয়া যেতে পারে না. দেশের জন্য সারা জীবন ধরেই প্রতিরক্ষার শক্ত আবরণ তৈরী করা একজন মানুষ হিসাবে তিনি এখনও বিশ্বাস করেন যে, এটা আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্যের জন্য প্রধান সম্পদ...