বুধবারে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ সিরিয়াতে সঙ্ঘের তরফ থেকে পাঠানো মিশনের কাজকর্মের রিপোর্ট শুনবে. এই ক্ষেত্রে বাদ দেওয়া যেতে পারে না যে, বেশ কিছু দেশ সিরিয়াতে সামরিক অনুপ্রবেশের প্রশ্ন উত্থাপন করবে. আগামী রুদ্ধদ্বার বৈঠকের আগে পশ্চিমের দেশ গুলি এক যোগে দামাস্কাসের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক ব্যবস্থা নিয়েছে.

 সিরিয়া চারপাশ ঘিরে সঙ্কট খুবই তীক্ষ্ণ হয়েছে গত সপ্তাহে হোমস শহরের কাছে এল- হুলা গ্রামে ট্র্যাজেডিক ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরে. বেশীর ভাগ সিরিয়ার নাগরিক সেখানে মারা গিয়েছে খুবই কাছের থেকে করা গুলির আঘাতে, ধরে নেওয়া যেতে পারে যে, তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল. বাকীরা মারা গিয়েছে – সাঁজোয়া গাড়ী থেকে করা কামানের গোলায়. কয়েকটি দেহে শারীরিক ভাবে অত্যাচারের চিহ্ন দেখতে পাওয়া গিয়েছে, এই খবর দিয়েছেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার রক্ষা কমিশনের হাই কমিশনারের প্রতিনিধি. নাম না জানা স্থানীয় বাসিন্দারা জোর গলায় বলছে যে, নাগরিকদের উপরে এই ধরনের মারণযজ্ঞ – সরকারের পক্ষের গোষ্ঠী শাবিহা বাহিনীর কাজ. দামাস্কাস থেকে আবার উল্টো ভাবে এই ট্র্যাজেডির বর্ণনা করা হয়েছে: সামরিক বাহিনী এই গ্রামের উপরে গোলা চালিয়েছে, সেখানে ঐস্লামিক জঙ্গীদের আক্রমণের পরেই.

 মঙ্গলবারে রাষ্ট্রসঙ্ঘের ও আরব লীগের বিশেষ দূত কোফি আন্নানের সঙ্গে টেলিফোন আলোচনা করার সময়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ আহ্বান করেছেন এই ঘটনার সম্বন্ধে বাস্তব ও নিরপেক্ষ তদন্ত করার. একই সময়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহা সচিবের শান্তি রক্ষা সংক্রান্ত অপারেশনের ডেপুটি এর্ভে লাদসুস স্বীকার করেছেন যে, মিশন বর্তমানে সম্পূর্ণ আকারের তদন্ত করার জন্য তৈরী নয়. কারণ – তাঁদের কোন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ নেই. এই সবই কোফি আন্নানকে স্বীকার করতে ভিত্তি দিয়েছে যে, সিরিয়াতে সঙ্কট তার লক্ষণরেখা অবধি পৌঁছেছে.

 এল- হুলা মারণযজ্ঞের পরে ফ্রান্স, জার্মানী, ইতালি, স্পেন, বালগেরিয়া, গ্রেট ব্রিটেন, অস্ট্রিয়া, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, কানাডা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়া রাষ্ট্রদূত অথবা সাময়িক ভাবে দায়িত্ব প্রাপ্ত লোকদের তাদের দেশে অবাঞ্ছিত বলে ঘোষণা করেছে. ইউরোপীয় সঙ্ঘে রাশিয়ার কূটনৈতিক মিশনের প্রধান ভ্লাদিমির চিঝভ কূটনীতিবিদদের ফেরত পাঠানো ফলপ্রসূ হবে কতটা, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন. বিরোধের প্যাঁচ কষা সহজ, আর তা থেকে বের হওয়া কঠিন, মনে করিয়ে দিয়েছেন চিঝভ.

 এরই মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, বেলজিয়াম আরও বেশী সম্ভব বলে উল্লেখ করেছে সিরিয়াতে বিদেশী অনুপ্রবেশ. বুধবারে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে তারা চেষ্টা করবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার, যা রাষ্ট্রসঙ্ঘের সনদের আওতার মধ্যেই সিরিয়ার প্রশাসনের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের সুযোগ করে দেবে. সাত নম্বর অধ্যায়ে শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কা ও আগ্রাসী কাজকর্মের ক্ষেত্রে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে বলে এই কথা মনে করিয়ে দিয়ে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ আলেক্সেই পদশ্যেরব বলেছেন:

 “আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী শক্তি প্রয়োগ সম্ভব শুধু দুটি উপায়েই. হয় তা আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে অথবা রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী. এই ক্ষেত্রে এর কোনটিই নেই. প্রসঙ্গতঃ, আন্তর্জাতিক আইনের ক্ষেত্রে পশ্চিম খুব কমই হিসাবের মধ্যে আনে. ১৯৯৯ সালে যুগোস্লাভিয়ার বিরুদ্ধে আগ্রাসনের কথাই মনে করে দেখুন, ইরাকে ২০০৩ সালের সামরিক অনুপ্রবেশের কথাও ভেবে দেখুন, তার পরেও গত বছরের লিবিয়া অনুপ্রবেশ মনে করা যেতে পারে”.

0 রাশিয়া রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে সিরিয়াতে বিদেশী সামরিক অনুপ্রবেশ করার উদ্যোগ গৃহীত হতে দিতে রাজী নয়, ঘোষণা করেছেন বুধবারে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান গেন্নাদি গাতিলভ. রাশিয়া সিরিয়ার বিরোধে কোন রকমের বিদেশী সামরিক অনুপ্রবেশের সব সময়েই বিরোধী ছিল. এটা শুধু সিরিয়াতেই পরিস্থিতি আরও ঘোরালো করবে না, সারা এলাকাতেই তা হবে বলে কূটনীতিবিদ উল্লেখ করেছেন. বেজিংয়ে এই সম্বন্ধে একমত, যেখানে আবারও বলা হয়েছে যে, সিরিয়াতে যে কোন ধরনের সামরিক অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে তারা মত প্রকাশ করবে.