পাকিস্তান মঙ্গলবারে আরও একবার কম পাল্লার রকেট হাতফ- ৯ এর পরীক্ষা মূলক উড়ান সম্পন্ন করেছে. এই রকেট পারমানবিক বোমা বহন করে নিয়ে যেতে পারে ও নিখুঁত লক্ষ্যে ৬০ কিলোমিটার অবধি দূরত্বে আঘাত হানতে পারে. এটি গত এক মাসের মধ্যে তৃতীয় রকেট পরীক্ষা পাকিস্তানের পক্ষ থেকে করা হয়েছে. এর আগে মে মাসেই পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ব্যালিস্টিক রকেট হাতফ- ৩ পরীক্ষা করেছিল. আর ২৫শে এপ্রিল সেই দেশে এই ধরনের রকেটের নতুন রকম হাতফ- ৫ রকেট সফল ভাবে পরীক্ষা করা হয়েছিল.

 ভারতও নিজেদের রকেট ক্ষমতা খুবই সক্রিয়ভাবে বৃদ্ধি করছে. এপ্রিল মাসের শেষে ভারত নতুন আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক রকেট অগ্নি – ৫ এর সফল উড়ান করেছে. এই রকেটের তিনটি স্তর ও তা কঠিন জ্বালানী শক্তি সম্পন্ন, ভূমি থেকে উড়ান শুরু করা এই রকেটের পাল্লা পাঁচ হাজার কিলোমিটারের উপরে ও তা পারমানবিক অস্ত্র বহন করে নিয়ে যেতে সক্ষম.

 দুই দেশই সক্রিয়ভাবে নিজেদের পারমানবিক অন্ত্রের সংখ্যাও বৃদ্ধি করছে. সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, দুই পক্ষের কাছেই আজ একশরও বেশী বোমা রয়েছে. এই সবই উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে, - এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার রাজনৈতিক গবেষণা কেন্দ্রের কর্মী ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল গেন্নাদি এভস্তাফেয়েভ বলেছেন:

 “হিন্দুস্তান উপদ্বীপ অঞ্চলে রকেট – পারমানবিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে যে সমস্যা তৈরী হয়েছে, তা বহু দিন ধরেই আন্তর্জাতিক সমাজকে চিন্তিত করেছে. দুই দেশই  - যেমন পাকিস্তান, তেমনই ভারত বিগত কয়েক মাসে একাধিকবার বিভিন্ন ধরনের রকেট পরীক্ষা করেছে. কিন্তু যদি ভারত – সেই দেশ হয়, যারা দাবী করেছে, কম করে বিশ্বের না হলেও আঞ্চলিক ক্ষেত্রে এক বৃহত্ রাষ্ট্রের মর্যাদা, আর নিজেদের রকেট পারমানবিক ক্ষমতা তৈরী করছে দূর পাল্লা ও মাঝারি পাল্লার, তবে পাকিস্তানের এই ধরনের কাজ সামনে নেই. তাদের রকেটের সার, কাছের ও কিছুটা দূরে যাওয়ার মতো, যা শুধু ভারত ও তাদের নিকট প্রতিবেশী দেশ গুলির জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে. আমাদের চোখের সামনেই এখন খুবই গুরুতর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে এই ক্ষেত্রে, যা কোন রকমের বাধা দিয়েই নিয়ন্ত্রিত নয়.রকেট – পারমানবিক ক্ষমতায় ভারত ও পাকিস্তান এখন সেই সমস্ত দেশের ক্ষমতার কাছে পৌঁছেছে, যেমন ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স. তার উপরে এই প্রতিযোগিতা চলছে সেই সব এলাকার দেশে, যেখানে খুবই বেশী রকমের বিরোধ রয়েছে বলে স্বীকৃত”.

 অবশ্য ভারত বা পাকিস্তান কেউই আত্মঘাতী জাতি নয় ও তারা কেউই পারমানবিক অস্ত্র আক্রমণের জন্য ব্যবহার করতে তৈরী নয়. তাদের জন্য এই ধরনের অস্ত্র প্রাথমিক ভাবে ভয় দেখানোর অস্ত্র. ভারত নিজের দিক থেকেই এমনকি সরকারি ভাবেই ঘোষণা করেছে যে, তারা কখনোই একতরফা প্রথমে পারমানবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না. পাকিস্তান এটা করে নি, কিন্তু কোন সন্দেহ নেই যে, তারাও ভাল ভাবেই বুঝতে পারে যে, এই পারমানবিক সংঘাত এই অঞ্চলে কি পরিণতি নিয়ে আসতে পারে.

 তা স্বত্ত্বেও, ভারত বা পাকিস্তান এখনও কোন পক্ষই সব রকমের পারমানবিক পরীক্ষা বন্ধ করা নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করে নি, এমনকি পারমানবিক অস্ত্র প্রসার রোধ সংক্রান্ত চুক্তিও স্বাক্ষর করে নি. ভারত মনে করেছে যে, এই দলিল ন্যায় সঙ্গত নয় ও প্রস্তাব করেছে নিজেদের নিরস্ত্রীকরণের প্রকল্প – সম্পূর্ণ ভাবে ও একই সঙ্গে বিশ্বের সমস্ত পারমানবিক অস্ত্র নষ্ট করে ফেলা নিয়ে. কিন্তু এই ধরনের পরিকল্পনা বর্তমানে বাস্তবায়িত করা সম্ভব নয়, তাই এই প্রস্তাবও বাস্তব হতে পারে না. পাকিস্তান এই প্রসঙ্গেই বলেছে যে, তারা নিজেদের পারমানবিক অস্ত্র থেকে নিষেধ মানতে পারে না, কারণ এটা ভারতও করছে না বলে. ফলে, বর্তমানে এই দুটি চুক্তির অংশীদার হয়েছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সমস্ত সদস্য দেশ শুধু ইজরায়েল, ভারত, উত্তর কোরিয়া ও পাকিস্তান বাদ দিয়ে.

 বিগত সময়ে ভারত – পাকিস্তান সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নির্দিষ্ট উষ্ণতা লক্ষ্য করা সম্ভব হয়েছে. ইসলামাবাদ ভারতের ব্যবসাকে তাদের দেশে সেই রকমেরই সুবিধাজনক বাণিজ্যের শর্ত দিতে অঙ্গীকার করেছে, যা আগে দিল্লী পাকিস্তানের ব্যবসায়ীদের জন্য করেছিল. দুই দেশই বর্তমানে সন্ত্রাসবাদের ঐক্যবদ্ধ ভাবে মোকাবিলা, সীমান্ত পার হওয়া মাদক পাচার, জাল ব্যাঙ্ক নোট ছাপার চক্র ধ্বংস আর ভিসা ব্যবস্থা সহজ করা নিয়ে কথা বলছে. এই সমস্ত বুদ্ধি উপযুক্ত পদক্ষেপের সঙ্গে খুবই বাজে রকম মিলছে এই অঞ্চলের রকেট- পারমানবিক অস্ত্রের প্রতিযোগিতা...