নীল হেলমেট পরিহিত সেনারা আজ তাদের উত্সব দিবস পালন করছে. ২৯শে মে – রাষ্ট্রসঙ্ঘের আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা বাহিনী দিবস. রাষ্ট্রসঙ্ঘে বিশেষ করে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিরোধের এলাকায় শান্তি রক্ষার কাজ- বিশ্ব সহযোগিতার এক অনন্য উদাহরণ. আর তারই সঙ্গে পুরুষকারের উদাহরণ: কারণ শান্তি রক্ষক নিজের কাজের ধরনের জন্যই সব সময়েই “দুই পক্ষের আগুনের” মধ্যে থাকে.

 ২৯শে মে শান্তি রক্ষীদের আন্তর্জাতিক দিবস পালন করা ঠিক হয়েছিল ২০০২ সালে. রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারন সভা এই দিনটি হঠাত্ করেই ঠিক করে নি. এই দিনেই ১৯৪৮ সালে সংস্থার প্রথম শান্তি রক্ষী বাহিনী প্যালেস্টাইন দেশে কাজ করা শুরু করেছিল.

 আজকের দিনের শান্তি রক্ষক বাহিনী অবশ্যই, আর শুধু হাল্কা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সেনা ও অফিসারদের দল নয়, যারা দুই বিরোধী পক্ষের মাঝে বিভাজন রেখায় টহল দিয়ে বেড়ায়. রাষ্ট্রসঙ্ঘের শান্তিরক্ষক অপারেশন এক জটিল ও বহুমাত্রিক চরিত্র অর্জন করেছে. এট শুধু অগ্নি সম্বরণের নিয়ম পালন করা হচ্ছে কি না তা দেখা নয়: তারা বাস্তবে সেই সব রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজ করে থাকে, যারা প্রায় ধ্বংসের মুখে গিয়ে দাঁড়ায়, অনেক সময়েই তা বহু দশক ধরে চলা বিরোধের পরে. নীল হেলমেট পরিহিত সেনারা ও তাদের অসামরিক সহকর্মীরা নির্বাচনের আয়োজন করে, পুলিশ ও বিচার ব্যবস্থায় সংশোধনে সাহায্য করে, মানবাধিকার রক্ষা করে, মাইন মুক্ত করে, মানবিক ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করে.

 বিশ্বে বিরোধ দুঃখের বিষয় হলেও প্রতি বছরের সাথে কম হচ্ছে না. আর তাই শান্তি রক্ষক বাহিনীর লোকরা শুধু খালি বসে থাকছে না, এই কথা উল্লেখ করে “রেডিও রাশিয়াকে” দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে মস্কো শহরের রাষ্ট্রসঙ্ঘের তথ্য কেন্দ্রের ডেপুটি ডিরেক্টর ইউরি শিশায়েভ বলেছেন:

 “যদি আমরা কাজের তালিকা দেখি, যা প্রমাণ করে দেয় রাষ্ট্রসঙ্ঘের শান্তিরক্ষক দের ক্ষমতার প্রয়োজনীয়তা, তাহলে আমরা দেখতে পাবো যে, তা খুবই দ্রুত বেড়ে গিয়েছে, গত শতকের আশির দশকের মাঝামাঝি থেকেই. বর্তমানে বিশ্বে বাস্তবে অস্ত্র ধারণ করে সেবায় নিরত রয়েছে এক লক্ষ কুড়ি হাজার লোকের মত, যারা ১৭টি শান্তি রক্ষার অপারেশন করছে. শুধু গত বছরেই ১১২ জন সেনা নিহত হয়েছেন. আমরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এক অস্ত্র নিয়ে কাজ করছি, যা আন্তর্জাতিক সমাজের হাতে সশস্ত্র বিরোধ থামানোর জন্য কাজে লাগতে পারে”.

 প্রায় ১০০টিরও বেশী দেশ নিজেদের সামরিক বাহিনী থেকে রাষ্ট্র সঙ্ঘের নীল হেলমেট দলে লোক পাঠিয়ে থাকে. সবচেয়ে বেশী  - প্রায় শতকরা ৩৫ ভাগ এই ধরনের সেনা পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশ থেকে আসেন. শান্তি রক্ষার প্রয়াসে সারা বছরে যত খরচ করা হয়ে থাকে – আর এটা বছরে প্রায় পাঁচশো কোটি ডলারের বেশী – তা দিয়ে থাকে প্রধানতঃ ইউরোপের দেশ গুলি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান. রাষ্ট্রসঙ্ঘের বেশীর ভাগ অপারেশন আজ করা হচ্ছে আফ্রিকার দেশ গুলিতে, যেখানে খুবই অশান্ত অবস্থা. সবচেয়ে বড় অপারেশন চলছে সুদানে, যা গৃহযুদ্ধে বর্তমানে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গিয়েছে.

 শান্তিরক্ষক দের মধ্যে রাশিয়ার লোক কমই. রাশিয়ার শান্তিরক্ষকরা, সেই আশির দশক থেকেই বালকান এলাকায় ও দক্ষিণ ককেশাসে আলাদা করে কাজ দেখিয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে জাতীয় প্রতিরক্ষা জার্নালের প্রধান সম্পাদক ইগর করোতচেঙ্কো বলেছেন:

 “কোসভা ও ককেশাসে রাশিয়ার শান্তিরক্ষকরা খুবই উল্লেখ যোগ্য অবদান রেখেছে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার জন্য ও নিজেদের সামরিক ঋণ খুবই মর্যাদার সঙ্গে সম্পন্ন করেছে. দক্ষিণ অসেতিয়া সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তা হল যে আমরা জানি, ২০০৮ সালে শান্তিরক্ষক বাহিনীর লোকরাই জর্জিয়ার পক্ষ থেকে আগ্রাসনের শিকার হয়েছিল. সেই লোকরা নিজেদের উপরে যুদ্ধ হতে দিয়েছিল, যদিও সব মিলিয়ে তারা এর জন্য প্রস্তুত ছিল না. তাদের প্রধান কাজ ছিল শান্তি রক্ষা করার, জর্জিয়ার আগ্রাসকদের সশস্ত্র ভাবে বাধা দিয়ে দাঁড়ানো নয়. শান্তি রক্ষার কাজ সব সময়েই কঠিন. শান্তিরক্ষক বাহিনীর লোকরা খুবই জটিল বিরোধের জায়গাতেই গিয়ে থাকেন. কিন্তু সমস্ত জায়গা, যেখানেই রুশ লোকরা নিজেদের কাজ করে থাকেন, তারা এটা গুণগত ভাবে ভাল করেই করেছেন. আর এটা সকলেই স্বীকার করেছে, তাদের মধ্যে বিদেশী সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিরাও ছিল”.

 শান্তিরক্ষকদের প্রধান কাজ – যুযুধান প্রতিপক্ষদের আলাদা করে দেওয়া, শান্তির নিয়ম পালন করা. তার চেয়েও বেশী বড় কাজ – মানুষকে বিরোধের জায়গায় স্থিতিশীলতা দেওয়া ও স্বাভাবিক জীবন যাপনের ব্যবস্থা করে দেওয়া. দুই পক্ষের মধ্যে “খিল” হয়ে থাকা সোজা কাজ নয়. এই ধরনের কাজে শুধু আরও বেশী করে পুরুষকার ও নিরপেক্ষতা প্রয়োজনীয়.