তহরির চক ইজিপ্টের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রথম দফার ফল মেনে নেয় নি. প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হোসনি মুবারকের এক কালীণ সহকর্মী আহমাদ শাফিকের নির্বাচন পূর্ববর্তী কেন্দ্রে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে. তিনি রাষ্ট্রপতি পদের জন্য “মুসলমান ভাইদের” প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন. মুহাম্মেদ মুর্সি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রথম দফায় যে জিতেছেন, তা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কারীরা ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ করেছে.

 সোমবার সন্ধ্যায় তহরির চকে কায়রো শহরে ও দেশের অন্যান্য শহরগুলিতে বহু শত সমাবেশে মানুষ জড়ো হয়েছিল. বৈপ্লবিক যুব আন্দোলন, বেশ কিছু রাজনৈতিক দল ও সামাজিক নেতৃত্ব খুবই অসন্তুষ্ট হয়েছে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে “হোসনি মুবারকের শেষ প্রধানমন্ত্রীর” উত্তীর্ণ হওয়াতে. একই সঙ্গে অসন্তুষ্ট – তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মুহাম্মেদ মুর্সি উত্তীর্ণ হওয়ার জন্যও. ইজিপ্টের রাস্তা মনে করে যে, ২৫শে জানুয়ারীর বিপ্লব তাদের কাছ থেকে এই সব রাজনৈতিক নেতারা চুরি করে নিয়েছে ও তারা নতুন করে গণ অভ্যুত্থানের ডাক দিয়েছে. নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করার দাবী উঠেছে ও নতুন করে “বৈপ্লবিক নেতৃত্বের” মধ্যে ভোট আয়োজনের দাবী করা হয়েছে, যাতে শাফিক ও মুর্সি অংশ নিতে পারবেন না.

 ইজিপ্টের পরিস্থিতি নিয়ে নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার আগে, আর তা আগামী ১৬- ১৭ই জুন স্থির করা হয়েছে, মন্তব্য করেছেন রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর আফ্রিকা গবেষণা ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর আলেক্সেই ভাসিলিয়েভ:

 “এক দলের পছন্দ নয়, যে দেশে ঐস্লামিকদের প্রভাব বেড়েছে, তাই তারা এদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে. অন্যদের পছন্দ নয় যে, আগের প্রশাসনের প্রতিনিধি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে ও রাষ্ট্রপতিও হতে পারেন. প্রতিবাদের আন্দোলন দুই পক্ষ থেকেই সম্ভব. তথাকথিত ইন্টারনেট- যুব সমাজ, স্বাধীনচেতা মানসিকতার যুব সমাজ নিজেদের প্রতিনিধিদের দেশের পার্লামেন্টে প্রায় উপস্থিত করতেই পারে নি, যদিও জানুয়ারী বিপ্লবের আয়োজনে তাদের ভূমিকাই ছিল প্রথম সারিতে. তাদের প্রথম ও দ্বিতীয় কোন প্রার্থীই পছন্দ নয়. এই প্রতিবাদ চলতেই থাকবে, কিন্তু অন্য কোন পথও নেই, নির্বাচন করা ছাড়া আর ইজিপ্টের লোকেদের মত গ্রহণ করে বোঝা ছাড়া”.

 সম্ভব হতে পারে কি দেশের বৈপ্লবিক, দেশ প্রেমী ও বামপন্থী দের পক্ষ থেকে আসন্ন দ্বিতীয় দফার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বয়কট করা? নিজের দৃষ্টিকোণ থেকে “রেডিও রাশিয়াকে” দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে কায়রোর আন্তর্জাতিক স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর আদেল সুলেইমান বলেছেন:

 “বয়কটের ডাক কিছু বৈপ্লবিক শক্তি ও যুব সমাজের অংশ থেকে আছে. কিন্তু এই ধরনের ডাক বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত চরিত্রের ও তা কোন ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের ভিত্তিতে করা হয় নি, তাই আমি মনে করি যে, তারা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় কোন প্রভাব বিস্তার করবে না. প্রধান রাজনৈতিক শক্তি গুলি এখন চেষ্টা করছে যত দ্রুত সম্ভব “মুসলমান ভাইদের” দলের সাথে একটা বোঝাপড়ায় আসতে যাতে প্রয়োজনীয় গ্যারান্টি ও সুযোগ পাওয়া যায়, নির্বাচন বয়কট করার পথে যাওয়ার চেয়ে. আমরা রাজনৈতিক দর কষাকষির একটা অধ্যায় দেখতে পাচ্ছি, যেখানে প্রত্যেক পক্ষই চেষ্টা করছে সবচেয়ে বেশী লাভ আদায় করতে”.

 রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সর্ব্বোচ্চ কমিশনের সভাপতি ফারুক সুলতান বিগত নির্বাচনকে “গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ” হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন. আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করেছেন যে, তা হয়েছে সুশৃঙ্খল ভাবে ও কোন রকমের গুরুতর আইন ভঙ্গ না করেই.