ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি রাজ কুমার সিং ও তাঁর পাকিস্তানের সহকর্মী খোজা সিদ্দিকী আকবর ইসলামাবাদে সন্ত্রাস মোকাবিলার সমস্যা নিয়ে আলোচনা করছেন. বিষয় নিয়ে বিশদ করে জানিয়েছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

 ইসলামাবাদের এই সাক্ষাত্কার গত সপ্তাহের শেষে পর্যটন কেন্দ্র ভুর্বন শহরে দুই দিন ধরে দুই দেশের শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনার পরবর্তী পর্যায় হয়েছে. এই বারে দুই দেশের সেক্রেটারি একসঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসেছেন. খুবই তীক্ষ্ণ হয়ে দাঁড়ানো পাক- আমেরিকা সম্পর্ক এখন পাকিস্তানকে বাধ্য করছে প্রতিবেশী দের সঙ্গে সম্পর্ক ভাল করার, বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে. এই দুই দেশের বহু দিনের সমস্যা হল সন্ত্রাসবাদের সমস্যা. তা সমাধান না হওয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ভাল করার বিষয়ে, বিশেষ করে বাণিজ্য ও ব্যবসায় সংক্রান্ত যোগাযোগের উন্নতি করতে অসুবিধার সৃষ্টি করেছে, এই এলাকার পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা নষ্ট করেছে. অংশতঃ, ২০০৮ সালে সন্ত্রাসবাদীদের আক্রমণের ফলে ভারতের বাণিজ্য রাজধানী মুম্বাই শহরে সন্ত্রাস নতুন করে দুই দেশকেই বিরোধের সম্মুখীণ করেছিল. ভারত এর পিছনে পাকিস্তানের হাত দেখতে পেয়েছিল, ঘোষণা করেছিল পাকিস্তানের সরকারি কাঠামোর এই সন্ত্রাসবাদী কাণ্ডের সঙ্ঘে যোগসাজসের কথা, অংশতঃ আন্তর্বিভাগীয় গুপ্তচর সংস্থার কথা. ইসলামাবাদ এই ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে. শুক্রবারে আলোচনা শেষ হওয়ার পরে এক সম্মিলিত ঘোষণায় বলা হয়েছে যে, “দুই পক্ষই আবার করে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সমস্ত রকম ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে এবং সন্ত্রাসবাদীদের আদালতে তুলে ছাড়বে”. আর. কে সিং আশ্বাস দিয়েছেন যে, তিনি কে. এস, আকবরকে “লস্কর এ তৈবা” গোষ্ঠীর স্রষ্টা হাফিজ মহম্মদ সৈয়দের মুম্বাই হামলার আয়োজনের সঙ্গে যোগের বাড়তি প্রমাণ তুলে দিয়েছেন. ভারতের পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে সৈয়দের বিষয়ে তদন্তের ফলাফলের সঙ্গে এই সাক্ষ্য প্রমাণ যোগ করে দেওয়া হোক ও পাকিস্তানের আদালত তার অপরাধ মূলক কাজকর্মের জন্য বিচার করুক.

 ভারত ও পাকিস্তান আর চায় না সন্ত্রাসবাদীদের ধ্বংস লীলায় বন্দী থাকতে. রাশিয়ার ভারত বিশারদ ও বিজ্ঞানী, মস্কোর ভারতীয় অনুসন্ধান কেন্দ্রের প্রধান তাতিয়ানা শাউমিয়ান মনে করেছেন যে, এই সুযোগ ছেড়ে দেওয়া উচিত্ হবে না, ভারত- পাকিস্তানের মধ্যে শান্তিপূর্ণ ভাবে আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক তৈরী হওয়ার জন্য, বর্তমানের বিতর্ক অতিক্রম করার জন্য. তিনি তাই যোগ করে বলেছেন:

 “এত বছর ধরে চলে আসা বিরোধের পরে সম্পর্ক ভাল করার পথ খুঁজতেই হবে, তা সভ্য রূপ দিতে হবে. পাকিস্তানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি খুবই জটিল, আর ভারতের সঙ্গে বিরোধ আরও বেশী করেই তাকে জটিল করবে. ভারতের প্রয়োজন তাদের সীমান্তে ভাল প্রতিবেশীকে পাওয়া, কোন শত্রু দেশ পাওয়ার বদলে. দুই দেশেরই এবারে সময় হয়েছে বিরোধের অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা, আলোচনার টেবিলে বসা, একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে লড়াই করা”.

 দুঃখের বিষয় হল যে, এই বিষয়ে পারস্পরিক বিশ্বাসের অভাব এখনও খুবই সমস্যার সৃষ্টি করছে. “পাকিস্তান আগের মতই সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে লড়াই করার জন্য কোন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছে না, যারা তাদেরই দেশের ভিতরে বসে কাজ করছে”, – এই কথা বলেছেন গোয়া রাজ্যের রাজধানী পানাজি শহরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এ. কে. অ্যান্টনি. তিনি একই সঙ্গে জোর দিয়ে বলেছেন যে, এখনও পাকিস্তানের এলাকায় কাজ করছে ৪২টি সন্ত্রাসবাদী ক্যাম্প. এই সমস্যা সমাধান করা হলে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিশ্বাস মজবুত হবে. এর জন্য প্রাথমিক কারণ এখন রয়েছে...