রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ একটি জরুরী বৈঠকে সিরিয়ার পরিস্থিতি আবার তীক্ষ্ণ হওয়া নিয়ে আলোচনা করেছে. প্রধান প্রশ্ন ছিল হুলা শহরে মারণযজ্ঞ, যেখানে শেষ অবধি পাওয়া তথ্য অনুযায়ী নিহত হয়েছে প্রায় ১২০ জন মানুষ ও আহত হয়েছেন কয়েকশো মানুষ.

 কিছু দিনের জন্য সামান্য স্তিমিত হয়ে আসার পরে সিরিয়া থেকে পাওয়া খবর যেন যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পাওয়া খবরের মতো মনে হয়েছে. রাষ্ট্রসঙ্ঘের পর্যবেক্ষকরা সিরিয়ার গুলি গোলা চলা শহর হুলাতে এসে, খবর দিয়েছেন যে, ১১৫ জনেরও বেশী নিহত হয়েছেন ও তিনশ আহত. হতাহতের মধ্যে অনেক নারী ও শিশু রয়েছেন. রাষ্ট্রসঙ্ঘের পর্যবেক্ষকদের তথ্য অনুযায়ী, বসত বাড়ী এলাকায় গোলা চালানো হয়েছে সাঁজোয়া গাড়ী থেকে – অর্থাত্, খুব সম্ভবতঃ তা হয়েছে সরকারি ফৌজের তরফ থেকেই.

 প্রাচ্য বিশারদ ও রাজনীতিবিদ গিওর্গি মিরস্কি, কিন্তু আগেই কোন সিদ্ধান্ত তাড়াহুড়ো করে নিতে বারণ করছেন, তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এখানে সন্ত্রাসবাদী ও বিরোধী দের তরফ থেকে প্ররোচনার স্থান থাকতে পারে, তাই বলেছেন:

 “মৃতদের মধ্যে অনেকেই – সেই সমস্ত লোক- যারা গোলার আঘাতে মারা গিয়েছেন (হয় ট্যাঙ্কের গোলা অথবা কামানের গোলার টুকরো থেকে). বিরোধী পক্ষের এটা নেই, আর তার মানে হল – এটা সরকারি ফৌজ. কিন্তু সেখানে পাওয়া গিয়েছে শান্তিপ্রিয় মানুষ ও তাদের মধ্যে শিশুও, যাদের স্রেফ কেটে ফেলা হয়েছে. এটা আবার সেনা বাহিনীর চিহ্ন নয়. সব মিলিয়ে যা ঘটেছে, তা অবশ্যই, বিরোধী পক্ষের জন্য বেশী লাভজনক. কারণ সমস্ত দোষই আসাদের উপরে দেওয়া যাবে”.

 সিরিয়ার সরকার খুবই জোর দিয়ে নিজেদের এই সম্পর্কে কোন রকমের অংশগ্রহণ সম্বন্ধে অস্বীকার করেছে, তারা জোর দিয়ে বলেছে যে, এই এলাকার সেনারা তাদের পোস্ট ছেড়ে কোথাও যায় নি, আর এই গোলা বর্ষণ বিরোধী সন্ত্রাসবাদীরাই তৈরী করেছে.

 সিদ্ধান্ত নিয়ে তাড়াহুড়ো করতে রাশিয়াও আহ্বান করেছে. রাশিয়ার রাষ্ট্রসঙ্ঘের স্থায়ী প্রতিনিধির প্রথম ডেপুটি আলেকজান্ডার পানকিন ঘোষণা করেছেন যে, সবই ঘটেছে অস্বচ্ছ অবস্থার মধ্যে. আর রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ সিরিয়াতে কোফি আন্নানের পরিকল্পনার খারাপ বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বিগ্ন, তিনি এই সূত্রে বলেছেন:

 “আমাদের খুবই গভীর উদ্বেগের কারণ এই যে, এই পরিকল্পনা খুব একটা সন্তোষ জনক ভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না. হিংসার স্তর কমার বিষয়ে নির্দিষ্ট রকমের প্রগতি হয়েছে, কিন্তু ২৫শে মে হুলা শহরের প্রান্তে যে ধরনের হিংসার আগুন জ্বলে উঠেছে, সেই ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে দেয় যে, আমরা এখনও সামনে রাখা লক্ষ্যের থেকে অনেক দূরে. পরিস্থিতি সহজ নয়. যখন এই ঘটনার সম্বন্ধে জানতে পারা গিয়েছে, তখনই সমস্ত নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রতিক্রিয়া দেখানোর. আমরা সক্রিয়ভাবে এটার সমর্থন করেছি. প্রসঙ্গতঃ, এমনকি ছুটির দিন হওয়া স্বত্ত্বেও জোর দিয়েছি যাতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ বিশেষ অধিবেশন ডাকে”.

 রাশিয়া, চিন ও আরও কয়েকটি দেশ হুলা শহরের মারণযজ্ঞ যত দ্রুত সম্ভব সম্পূর্ণ ভাবে তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দেওয়ার দাবী জানিয়েছে. মঙ্গলবারেই রাষ্ট্রসঙ্ঘের ও আরব লীগের বিশেষ দূত কোফি আন্নান দামাস্কাস শহরে রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদের সঙ্গে দেখা করবেন.