প্রাক্তন যুগোস্লাভিয়া সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালের সভাপতি থিওডোর মেরোন “রেডিও রাশিয়াকে” দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাত্কারে এই ট্রাইবুনালের কাজে রাজনীতির স্থান, বন্দীদের আটক রাখার পরিবেশ ও ট্রাইবুনালের জেলে মৃত বন্দীদের নাম উল্লেখ করেছেন.

 ১৯৯৩ সালে এই ট্রাইবুনালের সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে এখন অবধি ট্রাইবুনাল ১৬১ জনের বিরুদ্ধে সরকারি ভাবে অভিযোগ প্রকাশ করেছে. তার মধ্যে ১২৬টি মামলার এর মধ্যেই নিষ্পত্তি হয়েছে. ৩৫টি মামলার শুনানী চলছে: এক জন তার মামলার শুনানীর অপেক্ষায় রয়েছে, ১৭ টি মামলা এখনও বিচার হচ্ছে, আরও ১৭টি মামলার রায়ে আপীল করা হয়েছে.

 ট্রাইবুনালের একটি কৃতিত্ব বলে এর সভাপতি মনে করেছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়কে জাতীয় আদালতের পর্যায়ে মজবুত করা, বিশেষ করে প্রাক্তন যুগোস্লাভিয়াতে. একই সঙ্গে মেরোনের কথামতো, আন্তর্জাতিক প্রাক্তন যুগোস্লাভিয়া সংক্রান্ত ট্রাইবুনাল বর্তমানে আন্তর্জাতিক ফৌজদারী আইন বিকাশের ক্ষেত্রে ভিত্তি হয়েছে. তাই তিনি বলেছেন:

 “ন্যুরেমবার্গ বিচারের পরে প্রায় অর্ধ শতক ধরেই বিশ্বে কোন বিচার সভা ছিল না, আর আইন লঙ্ঘণ বন্ধ করা সম্বন্ধে খুবই তীক্ষ্ণ প্রয়োজন বোধ করা হয়েছিল. আমরা প্রধান আন্তর্জাতিক ফৌজদারী আইন তৈরী করার ক্ষেত্রে পাইয়োনিয়র হয়েছিলাম, আর তারই সঙ্গে মকদ্দমা চলার আইনের প্রসঙ্গেও. এই ট্রাইবুনাল ছিল খুবই প্রয়োজনীয়, আন্তর্জাতিক ফৌজদারী বিচারের ভবিষ্যতের ভিত্তির জন্য, তার মধ্যে স্থায়ী আন্তর্জাতিক ফৌজদারী আদালতও ছিল. এই সংস্থা আন্তর্জাতিক প্রাক্তন যুগোস্লাভিয়া সংক্রান্ত ট্রাইবুনাল সফল না হলে তৈরী হতে পারতো না. আমরা দেখিয়ে দিয়েছি যে, আন্তর্জাতিক ভাবে তদন্ত ও আন্তর্জাতিক ভাবে বিচার সেই সমস্ত প্রতিধ্বনি সৃষ্টিকারী ও জঘন্য অপরাধের জন্য, যা মানবতা বোধকেই টেনে আনে – তা বাস্তব, এটা সম্ভব”.

 তারই মধ্যে মস্কো এই ট্রাইবুনাল বন্ধ করার স্বপক্ষে আহ্বান করেছে, কারণ তার কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে বলে. এই সংস্থার সের্বিয়ার প্রতি আগে থেকেই ধরে নেওয়া সম্পর্ক কিছু কম অভিযোগের কারণ হয় নি: বেশীর ভাগ অভিযুক্ত লোকই এই দেশের. এখানে বলা উচিত্ হবে যে, এই ট্রাইবুনালের কাজে সব পক্ষই অসন্তুষ্ট, যারা এই যুগোস্লাভিয়া বিরোধে অংশ নিয়েছিল, এই কথা উল্লেখ করে মেরোন বলেছেন যে এটাই এই সংস্থার ক্রিয়াকলাপ যে সঠিক তার উল্লেখ করে, তিনি যোগ করেছেন:

 “আমি বিশ্বাস করি ও খুবই সত্ ভাবে বলবো যে, রাজনীতি আমাদের কাজে কোন রকমের ভূমিকা নিতে পারে নি. যদি আমাদের কাজে রাজনীতি সিদ্ধান্তের উপযুক্ত কারণ হতো, তবে আমি এই পদে একদিনও থাকতাম না. আমি বিচারপতি. আমার বয়সে কেউ ক্যারিয়ার তৈরী করে না, সমাজ সেবা করে. আমাদের সনদ পত্রের সপ্তম অধ্যায় অনুযায়ী আদালত শুধু ব্যক্তিগত ফৌজদারী মামলার বিচার করে. আর ২১ নম্বর অধ্যায় অনুযায়ী অভিযুক্তদের জন্য প্রসারিত অধিকার দেওয়া হয়ে থাকে. তার মধ্যে – ন্যায় সঙ্গত শুনানী ও নিরপরাধ হওয়ার সম্ভাবনা ধরে নিয়েই. যদি এই প্রসঙ্গে সমস্ত তথ্য পড়ে দেখা হয়, তবে আপনারা দেখতে পাবেন যে, আমাদের একই রকম ভাবে দুই পক্ষ থেকেই সমালোচনা করা হয়ে থাকে. যদি ক্রোয়েশিয়ার লোকদের বিরুদ্ধে কোন রায় দেওয়া হয়, তবে ক্রোয়েশিয়ার সংবাদ মাধ্যম আর এমনকি সেই দেশের সরকারও আমাদের সমালোচনা করে, আর সের্বিয়ার বিরুদ্ধে গেলে, একই ধরনের প্রতিক্রিয়া সংবাদ মাধ্যম ও বেলগ্রাদের তরফ থেকে দেখতে পাওয়া যায়”.

 রাশিয়ার সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক প্রাক্তন যুগোস্লাভিয়া সংক্রান্ত ট্রাইবুনালের জেলে শেভেনিনগেনে ১৯ জন বন্দীর মৃত্যু হয়েছে. এই তথ্য প্রকাশের পরে “রেডিও রাশিয়া” এক সরকারি চিঠি পেয়েছে এই ট্রাইবুনালের প্রচার সংক্রান্ত রিপোর্ট দাতা নেরমা এলাচিচের কাছ থেকে. তিনি জানিয়েছেন যে, চার জনের মৃত্যু হয়েছে. সাক্ষাত্কারের সময়ে থিওডোর মেরোন রেডিও কোম্পানীকে এই তথ্য সম্বন্ধে সঠিক করে বলেছেন.

 দেখা গেল যে, এই ট্রাইবুনালের জেলে ৬ জন মারা গিয়েছেন, আরও তিন জন নেদারল্যান্ডসের বাইরে যেখানে তারা শাস্তি পেয়ে ছিলেন, সেখানেই মারা গিয়েছেন. ১০ জন এই ট্রাইবুনালের হাতে তুলে দেওয়া অবধি আর বেঁচে থাকেন নি.

0 ২০১৩ সালের ১লা জুলাই এই ট্রাইবুনাল তাদের কার্যকাল শেষ করবে. এই প্রসঙ্গে ট্রাইবুনাল বিচার ও আপীল আবার করে দেখার কাজ করবে ৩১শে ডিসেম্বর ২০১৪ সাল অবধি.