রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা এই বছরে  ঠিক করেছেন প্রথম কার্যক্ষম পারমানবিক মেগাওয়াট শ্রেনীর শক্তি উত্পাদনে সক্ষম রিয়্যাক্টরের মডেল দূরের মহাকাশ অভিযানের জন্য তৈরী করবেন. মঙ্গল গ্রহে আন্তর্জাতিক মিশনের জন্য রাশিয়ার পক্ষ থেকে ঠিক করা হয়েছে শক্তি উত্পাদনে সক্ষম পরিবহন মডিউল প্রধান প্রযুক্তিগত বিনিয়োগ হবে.

 ধাঁধা সৃষ্টি করা লাল এই গ্রহ এখনও নিজের গোপন রহস্য খুলে ধরে নি. গত শতকের ষাটের দশকেই প্রথম মানুষের এই লাল গ্রহে অভিযানের বাস্তব পরিকল্পনা করা হয়েছিল. কিন্তু বাস্তবে দেখতে গেলে মানব সমাজ এখনও পৃথিবীর কাছের কক্ষ পথেই দাঁড়িয়ে রয়েছে. কারণ হল যে, দীর্ঘ দিনের আন্তর্গ্রহ সফরের জন্য ঐতিহ্য হওয়া রাসায়নিক শক্তিতে চলা এঞ্জিন কম উপযুক্ত, এই কথা বলে বিজ্ঞানী  শিয়ালকোভস্কি নামাঙ্কিত রাশিয়ার মহাকাশ গবেষণা একাডেমীর একাডেমিক আলেকজান্ডার ঝেলেজনিয়াকভ বলেছেন:

 “ফলে মহাকাশ যান গুলি, যা পৃথিবী থেকে বহু দূরের গ্রহ লক্ষ্য করে পাঠানো হচ্ছে, তা সেখান অবধি পৌঁছতে সময় নিচ্ছে অনেক. এই ধরনের উড়ান প্রথমতঃ খুব একটা বেশী সংখ্যক নয়. দ্বিতীয়তঃ, এই ধরনের মহাকাশ যান গুলি এমনিতেই ছোট আকৃতির ও কম ওজনের”.

 পারমানবিক রকেট এঞ্জিন – কঠিন ও তরল জ্বালানী ব্যবহার করে কাজ করা এঞ্জিন গুলির এক অনন্য বিকল্প. এই ধরনের এঞ্জিন তৈরী করা শুরু হয়েছিল প্রায় অর্ধ শতকেরও আগে সোভিয়েত সঙ্ঘে ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে. যদিও এর অনেক সংস্কার করা হয়েছে, তাও এই গুলি আপাততঃ মাটিতেই রয়ে গিয়েছে, তার একটি প্রধান কারণ হল – রিয়্যাক্টরের বেশী গরম হয়ে গিয়ে ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি ও বেশী মাত্রায় তেজস্ক্রিয় বিকীরণের বেরিয়ে পড়ার সম্ভাবনা. নতুন রুশ পারমানবিক শক্তিতে পরিবহনের মডিউল তৈরীর প্রকল্প নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যা খুবই অতুলনীয় ভাবে সমাধান করেছে. রকেটে ধারণা অনুযায়ী ব্যবহার করা হবে আয়ন ইলেকট্রোরিয়্যাক্টিভ এঞ্জিন, যেখানে শক্তি উত্পন্ন হয়ে থাকে বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রে আয়ন স্রোতের দ্রুত ত্বরণ থেকে. আর পারমানবিক রিয়্যাক্টর শুধু বৈদ্যুতিক এঞ্জিনের জন্য বিদ্যুত শক্তি উত্পাদন করে থাকে.

 পরিকল্পনা করা হয়েছে যে, পারমানবিক শক্তি উত্পাদক যন্ত্র বহু দূরের গ্রহ গুলির জন্য পাইলট বিহীণ গবেষণা উপগ্রহ গুলিকে গতি দেওয়ার কাজে লাগানো হবে, এক ধরনের মহাকাশের গাধাবোটের কাজ করবে. সময় এলে তখন কথা হবে পাইলট সমেত মহাকাশ উড়ানের. তার মধ্যে মঙ্গল অভিযানও থাকবে. কিন্তু ইউরি জাইতসেভ মনে করেন যে, এটা খুব তাড়াতাড়ি হবে না: ২০৫০ সালের পরে হতে পারে. আর সবচেয়ে মুখ্য সমস্যা হল – মহাকাশচারীদের আয়ন উত্পাদনে সক্ষম মহাকাশের বিকীরণ থেকে রক্ষার ব্যবস্থা, তিনি বলেছেন:

 “যেহেতু আমরা এখনও পৃথিবীর কাছের কক্ষ পথেই উড়ে বেড়াচ্ছি, আমরা মহাকাশের ভারী বিকীরণে সক্ষম কণার থেকে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের কারণেই সুরক্ষিত আছি. “ফোবোস – গ্রুন্ত” মহাকাশ যানের একটি বৈদ্যুতিন অংশ এই ভারী কণাই নষ্ট করে দিয়েছিল. আর যদি এই ধরনের কণা মানুষের শরীরের মধ্যে দিয়ে যায় – তবে সে মারা যাবেই”.

 আপাততঃ মঙ্গল গ্রহে পাইলট চালিত উড়ান – খুবই আগ্রহ জনক এক ভবিষ্যতের সম্ভাবনা মাত্র. রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে, মঙ্গল গ্রহের উপগ্রহ ফোবোসের কাছে আবার কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠানোর চেষ্টা করা দরকার. ধারণা করা হয়েছে যে, ২০১৮ সালে তার কাছে মহাকাশযান “বুমেরাং” পাঠানো হতে পারে – রাশিয়ার স্বয়ংক্রিয় আন্তর্গ্রহ স্টেশন “ফোবোস- গ্রুন্তের” হাল্কা এক সংস্করণ.