রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ নিউ-ইয়র্কে রবিবার জরুরী বৈঠকে সিরিয়ার হোমস প্রদেশের হুলা গ্রামে ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের কঠোর নিন্দে করেছে. গত শুক্রবার সেখানে নিহত হয়েছে ১০৮ জন, তাদের মধ্যে ৪৯ জন শিশু এবং ৩৪ জন নারী. রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুর বৈঠকে গৃহীত ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে যে, গ্রামের বাসিন্দাদের একাংশ নিহত হয়েছে সরকারী বাহিনীর তরফ থেকে আর্টিলারীর গোলাবর্ষণে. একই সঙ্গে, বহু শান্তিপূর্ণ অধিবাসী নিহত হয়েছে খুব কাছ থেকে গুলি করায় অথবা অন্যান্য রূপের “কঠোর শারীরিক অত্যাচারের” ফলে. নিরাপত্তা পরিষদ সিরিয়ায় রক্তক্ষয় বন্ধ করার জন্য রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশেষ প্রতিনিধি কোফি আননের “প্রচেষ্টার প্রতি পূর্ণ সমর্থন” জানিয়েছে. আনন সোমবার দামাস্কাসে পৌঁছোবেন সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাশার আসদের সাথে আলাপ-আলোচনার জন্য. রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ নিজের ঘোষণাপত্রে হিংসা বন্ধ করা সম্পর্কে সিরিয়ার সরকারের বাধ্যবাধকতার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে এবং দাবি করেছে বসতি-কেন্দ্র থেকে ভারী অস্ত্রসজ্জা অপসারণ করার. নিরাপত্তা পরিষদ রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদক এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘের পর্যবেক্ষক মিশনকে দায়িত্ব দিয়েছে শান্তিপূর্ণ অধিবাসীদের ব্যাপক হত্যার তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার এবং তার ফলাফল সম্পর্কে রিপোর্ট দেওয়ার.  রাষ্ট্রসঙ্ঘে রাশিয়ার প্রথম সহকারী স্থায়ী প্রতিনিধি আলেক্সান্দর পানকিন নিউ-ইয়র্কে বলেন যে, রাশিয়া এ সব বিপর্যয়কর ঘটনাবলির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের উপর জোর দিচ্ছে. তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, হুলায় নিহতদের বেশির ভাগ আর্টিলারীর গোলার শিকার হয় নি. সিরিয়ার সরকার হুলা গ্রামের বাসিন্দাদের ব্যাপক মৃত্যু তদন্তের জন্য বিশেষ কমিশন গঠন করেছে, জানিয়েছেন দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি জিহাদ মাকসাদি. তদন্তের ফলাফল আগামী তিন দিনের মধ্যে জানানো হবে. কূটনীতিজ্ঞ জোর দিয়ে বলেন যে, সিরিয়ার সরকার হুলার এ হত্যাকা্ণ্ডের সাথে জড়িত নয়. একই সঙ্গে তিনি পাশ্চাত্যের তরফ থেকে মিথ্যার “ঝড়ের” নিন্দে করেন, এবং একে সিরিয়ার সৈন্যবাহিনীর মর্যাদা কলঙ্কিত করার ইচ্ছাকৃত চেষ্টা বলে অভিহিত করেন, যার উদ্দেশ্য হল বিদেশী আগ্রাসনের দ্বারা সিরিয়াকে বিভাজিত করা.