আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফরাসী গোয়েন্দা কনস্তানতিন মেলনিক বাতকিন যিনি ৫০ ও ৬০ এর দশকে ফ্রান্সের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক পদে কর্মরত ছিলেন, তিনি সম্প্রতি রেডিও রাশিয়াকে সাক্ষাত্কার দিয়েছেন.

    ৮৪ বছর বয়সী কনস্তানতিন মেলনিক বাতকিন এখনও কাজের মধ্যেই ডুবে আছেন. নিজের জীবনে স্মরণীয় ঘটনা ও বিভিন্ন বিশ্লেষনধর্মী প্রবন্ধ লিখে যাচ্ছেন. তিনি মূলত গোয়েন্দা বিভাগ ও রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক এই সংক্রান্ত বিষয় নিয়েই লিখতে পচ্ছন্দ করেন. খুব সহজভাবেই তা ব্যাখ্যা করা যায়. ফ্রান্সে জন্মগ্রহণ করা কনস্তানতিন মেলনিক পরবর্তিতে সরকারের উচ্চপদে কাজ করা স্বত্বেও তিনি নিজেকে একজন রুশী হিসেবেই মনে করেন.

    কনস্তানতিন মেলনিকের ভাগ্যও অনেক সহায়ক ভূমিকে রেখেছিল. তাঁর বাবা ১৯১৭ সালে অক্টোবর বিপ্লবের পর অভিবাসী হয়ে ফ্রান্সে চলে গিয়েছিলেন. কনস্তানতিন মেলনিক উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার সুযোগ পান. তার বিশ্লেষনধর্মী কাজের জন্যই ৫০ দশকের শেষের দিকে তত্কালিন ফরাসী রাষ্ট্রপতি শার্লে দে গল্লে তাকে সরকারী পদে কাজ করার আমন্ত্রন জানিয়েছিলেন. এরপর ৩২ বছর কনস্তানতিন মেলনিক ফ্রান্সের গোয়েন্দা বিভাগসহ সব ধরণের স্পেশাল ফোর্সের তত্তাবধায়কের কাজ করেছেন.

    কনস্তানতিন মেলনিক আলজেরিয়ার সংকট সমাধান করে ফ্রান্সকে গৃহযুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন. পরবর্তিতে তিনি বিশ্লেষক হিসেবে বিভিন্ন সংস্থায় কাজ করেছেন, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল- কেজিবি ও সিআইএ. একসময় তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের পর্যালোচকেরও কাজ করেছিলেন.

আধুনিক রাশিয়া সম্পর্কে বলতে গিয়ে কনস্তানতিন মেলনিক বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন ও তার সবধরণের রাজনৈতিক পদ্ধতি নিয়ে ফ্রান্সসহ পশ্চিমা বিশ্বে অনেক গুজব ও পৌরাণিক কথা শোনা যায়.

    রাশিয়ার পদ্ধতি বা পুতিনের সমালোচনা করা খুবই সহজ বলেই বিশ্বাস করেন  কনস্তানতিন মেলনিক. যখনই আপনি ফরাসী পত্রিকা বা ম্যাগাজিনে কোন প্রবন্ধ পড়বেন সেখানে সব সময়ই রাশিয়াবিরোধী লেখা খুঁজে পাবেন. ফ্রান্স রাশিয়াকে পচ্ছন্দ করে না, আমি বলছি না যে যুক্তরাষ্ট্রকে. এই দেশটিও রাশিয়াকে পচ্ছন্দ করে না. কনস্তানতিন মেলনিক বলছেন, আজকের দিনে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি পুরটাই উল্টে গেছে. তাঁরা শুধুমাত্র শক্তি ও সামরিক আধিপত্যের ওপর বিশ্বাসী. ১১ সেপ্টেম্বরের পর আমি রুশী পত্রিকায় একটি প্রবন্ধ লিখেছিলাম, যার সারমর্ম ছিল এ রকম- যুক্তরাষ্ট্রকে তার অতীত স্বরুপে ফিরে যাওয়া উচিত এবং আরব বিশ্বে নতুন অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটিয়ে সাহায্য করা দরকার, স্থানীয় অধিবাসীদের জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করা নিয়ে কাজ করতে হবে এবং দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের প্রস্তাব দেয়া উচিত. যুদ্ধ না করে এ সব কাজ শুরু করা অনেক আগেই প্রয়োজন ছিল. একই সাথে গুয়াতেমালায় কারাবন্দীদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে সিআইএ. এটি সত্যিকার অর্থেই ভয়াবহ ব্যাপার এবং খারাপ রাজনীতি চর্চার প্রকাশ.

    কনস্তানতিন মেলনিক মনে করেন, রাশিয়াবিরোধী মার্কিন কিংবা ফরাসী মনোভাব  তা কোন ভাবেই রাশিয়ার রাজনীতিতে প্রভাব ফেলা উচিত নয়. কারো কাছ থেকে রাশিয়ার উদাহরণ নিতে হবে না এবং ইউরোপে কোন পরিত্রাণের সুযোগ নেই. তিনি আরও বলেন, যেমন গ্রীসের দিকেই তাকিয়ে দেখেন অথবা স্পেন, ইতালি অথবা কাল ফ্রান্সেও তা হতে পারে.