২০১৪ সালের মাঝামাঝি নিজেদের প্রথম আন্তর্মহাদেশীয় রকেট “অগ্নি- ৬” নামে ভারত তৈরী করে ফেলবে, যার পাল্লা হবে দশ হাজার কিলোমিটারের বেশী. এই সম্বন্ধে জানিয়েছে “ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস” সংবাদ সংস্থা. এর আগে এই বিষয়েই ঘোষণা করেছিলেন ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অধীন ডিআরডিও সংস্থার বিজয় কুমার সারস্বত. তাঁর কথামতো, ভারত ৮ হাজার কিলোমিটারের বেশী দূরে উড়ে যেতে সক্ষম রকেট এখনই তৈরী করতে পারে. বিষয় সম্বন্ধে বিশদ জানা গিয়েছে আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভের কাছে.

 কোন সন্দেহ নেই যে, ভারতের পক্ষে লক্ষ্য সাধন সম্ভব হচ্ছে. এর জন্য তাদের কাছে রয়েছে বাস্তব প্রযুক্তি সঙ্গত ও উত্পাদন ক্ষম সম্ভাবনা, প্রশিক্ষিত কর্মীরা. আজ ভারত বিভিন্ন ধরনের রকেট তৈরী করে থাকে. যেমন, সম্মিলিত ভাবে ভারত- রুশ প্রকল্পে বাঙ্গালোর শহরে তৈরী করা হচ্ছে বিশ্ব সেরা ডানা ওয়ালা রকেট “ব্রামোস”. বিদেশের একই ধরনের রকেটের তুলনায় এর গতিবেগ তিন গুণের বেশী, উড়ে যেতে পারে আড়াই গুণ বেশী দূরে আর তার প্রতিক্রিয়া করার সময় লাগে তিন থেকে চার ভাগ কম. এই বছরের এপ্রিল মাসে আন্তর্মহাদেশীয় “অগ্নি – ৫” ব্যালিস্টিক মিসাইলের সফল পরীক্ষার পরে ভারত, রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের সমকক্ষ হয়েছে – সেই সমস্ত দেশের, যাদের কাছে দূর পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল রয়েছে. অন্যান্য দেশের কাছে এখনও এই ধরনের রকেট নেই.

 “অগ্নি – ৫” উড়ানের পরে ব্রিটেনের রেডিও সম্প্রচার কোম্পানী বিবিসি বিশেষ করে ঝোঁক দিয়ে দেখিয়েছে এর সামরিক বিষয়টি. তারা ঘোষণা করেছে যে, দিল্লী বেজিংকে দেখিয়েছে যে, ভারতীয়রা, চিনের লোকদের মতই খুবই শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অধিকারী. তারই মধ্যে, রুশ বিশেষজ্ঞ ও মস্কোর কার্নেগী সেন্টারের কর্মী পিওতর তোপীচকানভ অন্য একটি বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করে বলেছেন:

 “যে কোন রকমের সামরিক প্রযুক্তি অসামরিক ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে. বিগত সময়ে অনেক বারই এই রকম হয়েছে যে, যখন কোন প্রযুক্তি সামরিক ক্ষেত্রে ব্যবহার স্থগিত করা হয়েছে বা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, আর দরকার নেই বলে, তখন এই প্রযুক্তি অসামরিক ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করা চালু হয়েছে. খুব আচমকাই “প্রযুক্তির প্রদর্শক” বলে সংজ্ঞা চালু হয় নি. অর্থাত্, একটা নমুনা তৈরী করা হয়. তা সামরিক ক্ষেত্রে নেওয়া হয় না, কিন্তু ব্যবহার হয় শান্তিপূর্ণ লক্ষ্যে বিজ্ঞানীদের সম্ভাবনা সম্বন্ধে গবেষণার জন্য, বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা গবেষণায় নিরত তাদের জন্য. সুতরাং, যদি আমরা “অগ্নি – ৬” এর কথা বলি, তবে আমরা শুধু পারমানবিক বোমা সমেত রকেট তৈরীর কথাই বলছি না, বরং রকেট প্রযুক্তি নির্মাণের কথাও বলছি, যা মহাকাশে নানা রকমের মাল পাঠাতে সাহায্য করে”.

 ভারতের খুবই উচ্চাকাঙ্ক্ষী মহাকাশ গবেষণার পরিকল্পনা রয়েছে – চাঁদে অনুসন্ধান, মঙ্গলে যাত্রা, জটিল ধরনের কক্ষপথে পৌঁছনো, ভারী কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠানো ইত্যাদি. এখানে এই সম্ভাবনাকে বাদ দেওয়া যায় না যে, “অগ্নি- ৬” এই লক্ষ্যেই ব্যবহার করা হতে পারে. “আমরা তখনই এটা তৈরী করব, যখন “অগ্নি – ৫” এর চেয়ে বেশী দূর পাল্লার রকেট তৈরীর দরকার পড়বে”, - বলেছেন ডিআরডিও সংস্থার প্রধান বিজয় কুমার সারস্বত.

 চিনে খুবই শান্ত ভাবে ভারতের রকেট পরিকল্পনা সম্বন্ধে প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে. সরকারি ভাবে বেজিং, ভারতের “অগ্নি- ৫” রকেট উড়ানকে বাড়িয়ে বলার বিষয়ে সতর্ক হতে আহ্বান করেছে. চিনের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধি লিউ ভেইমিন উল্লেখ করেছেন যে, “চিন ও ভারত বৃহত্ উন্নতিশীল অর্থনীতি. আমরা প্রতিদ্বন্দ্বী নই, বরং সহকর্মী”. দুই দেশেরই উচিত্ “বর্তমানের শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি যত্ন করে লালন করা ও স্ট্র্যাটেজিক সহকর্মী হওয়াকে মজবুত করা, যাতে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করা যায়”.