ভারতের নৌবাহিনীর প্রধান পতাকা বাহক “বিক্রমাদিত্য” নামের বিমান বাহী পারমানবিক যুদ্ধ জাহাজ তৈরী হচ্ছে সমুদ্রে চালনা পরীক্ষা করার জন্য. ভারতের অর্ডার অনুযায়ী রাশিয়াতে এই যুদ্ধ জাহাজটিকে খুবই গভীর ভাবে আধুনিকীকরণ করে তৈরী করা হয়েছে “অ্যাডমিরাল গর্শকভ” নামের জাহাজের উপরে. এই জাহাজটিকে এখন “সমস্ত ধরনের চালনা পরীক্ষা” করে দেখতে হবে. বিশদ করে এই সম্বন্ধে জানা হবে আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভের কাছ থেকে.

 এই পরীক্ষা করবে এক যৌথ দল, যেখানে ভারতীয় ও রুশ নাবিকরা রয়েছেন, তাদের সঙ্গে থাকছেন জাহাজ নির্মাণ বিশেষজ্ঞরাও. সব মিলিয়ে ২ হাজার লোকের চেয়ে বেশী. প্রথম দুই তিন সপ্তাহ “বিক্রমাদিত্য” জাহাজের চলার পরীক্ষাই শুধু করা হবে. তারপরে শুরু হবে বিমান ব্যবস্থার পরীক্ষা. এই সব করতে কয়েক মাস কেটে যাবে. অর্ডার অনুযায়ী এই জাহাজের উপরে মিগ- ২৯কা ধরনের যুদ্ধ বিমান রাখা হবে আর থাকবে জাহাজ বিধ্বংসী সামুদ্রিক হেলিকপ্টার কা – ৩১ ও কা – ২৭. রাশিয়া একই সঙ্গে ভারতীয় নাবিকদের এই জাহাজে কাজ করার প্রশিক্ষণও দেবে, যাদের মোট সংখ্যা দেড় হাজার ও তাদের সাহায্য করবে মুম্বাই শহরের সামরিক নৌবাহিনীর ঘাঁটিতে এই জাহাজের ঘাঁটি তৈরী করতে. বিমান বাহী জাহাজ ভারতের হাতে এই দেশের সামরিক নৌবাহিনী দিবস – ৪ঠা ডিসেম্বর.

 আমি এই ঘটনায় খুশী, বলেছেন ভূ-রাজনৈতিক সমস্যা গবেষণা কেন্দ্রের সভাপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল লিওনিদ ইভাশভ, তাঁর কথামতো:

 “ভারতীয় সামরিক নৌবাহিনী তৈরী করার পরিকল্পনা যেন এই জাহাজের সঙ্গেই জড়িত. নৌবাহিনী এই জাহাজকে নিজেদের পতাকা বাহক হিসাবেই দেখছে. যদি সমস্ত যুদ্ধ ও ডুবো জাহাজের দলকে একটা পিরামিডের মত দেখা হয়, তবে তার শীর্ষে থাকছে বিমান বাহী যুদ্ধ জাহাজ “বিক্রমাদিত্য””.

 ভারতীয় নৌবাহিনীতে ভবিষ্যতের সেই কাজ করার দিন গুলিতে “বিক্রমাদিত্য” হবে বহু সহস্র ভারতীয় নাবিকের নিজেদের ঘরে পরিণত হবে. এই অর্থে এই জাহাজ একটি ২২ তলা ৬০ মিটার উঁচু বাড়ীর মতো, যাতে ২৭০০ ভিতরের কেবিন রয়েছে. জাহাজের তিনটি ডেক রয়েছে জল তলের নীচে ও তার উপরে ১৩টি, যার সঙ্গে উপরের দিকের নির্মিত অংশও জড়িত. এই জাহাজ আধুনিকীকরণের সময়ে ভারতীয় বিশেষত্বের কথাও খেয়াল করা হয়েছে: রান্নাঘর গুলিতে বিশেষ ধরনের ইডলি ও চাপাটি তৈরীর যন্ত্রও রয়েছে – যা ভারতীয় নৌবাহিনীর খাদ্য তালিকার স্বাভাবিক খাবারের মেন্যুর মধ্যেই পড়ে.

 ভারতীয় সামরিক নৌবাহিনীর দলের মধ্যে পতাকাবাহী – বিমান বাহী যুদ্ধ জাহাজ “বিক্রমাদিত্য” ছাড়াও, - বিগত সময়ে যুক্ত হয়েছে পারমানবিক ডুবোজাহাজ “চক্র”, ফ্রিগেট “তেগ” ও আরও কিছু অন্যান্য জাহাজ, যা রাশিয়া থেকে বানিয়ে দেওয়া হয়েছে. তাদের আবির্ভাবের ফলে পর্যবেক্ষকরা বলতে শুরু করেছেন যে, ভারত বর্তমানে বিশ্বের একটি বৃহত্তম সামরিক নৌসেনা শক্তিতে পরিণত হয়েছে. “ভারতের সামুদ্রিক দলিল”, যা ২০০৭ সালে প্রকাশিত হয়েছে, তাতে জাতীয় রাজনীতির লক্ষ্য পূরণে বিশ্বের যে কোন মহা সমুদ্র অঞ্চলে কর্মক্ষম নৌ বাহিনী তৈরীর কথাই বলা হয়েছিল.