ইউরোপে আর নিখুঁত ভাবে কাজ করা মানিক জোড় জার্মানী- ফ্রান্স নেই. ব্রাসেলস শহরে অনানুষ্ঠানিক শীর্ষবৈঠক নতুন ফরাসী রাষ্ট্রপতি ও জার্মানীর নেতার মধ্যে অবস্থানের পার্থক্য প্রকট করেছে. আর সেই লক্ষ্য, যার জন্য ইউরোপীয় সঙ্ঘের সদস্য দেশ গুলির নেতারা এখানে জড়ো হয়েছিলেন: নতুন বোধগম্য ও ফলপ্রসূ ব্যবস্থা নিয়ে গ্রীসকে বাঁচাতে, তা আবারও অর্জন করা সম্ভব হয় নি.

 একেবারেই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যে, ইউরোপীয় সঙ্ঘ জানে না, কি করে গ্রীসকে বাঁচানো হবে. একই সঙ্গে আরও দেখা যাচ্ছে যে, তাদের ছেড়ে দিতেও চায় না. তাই আরও একটি ইউরোপের নেতাদের বৈঠক শেষ হয়েছে এক অস্বচ্ছ ধারণা সমর্থন দিয়ে যে, গ্রীস উদ্ধার পাবেই.

 এই শীর্ষবৈঠক মনে রয়ে যাবে ফ্রান্স ও জার্মানীর মধ্যে সেই আলোচনা দিয়ে যে, কি করে সমস্যা সঙ্কুল দেশ গুলিকে বাঁচানো হবে. অ্যাঞ্জেলা মেরকেল রাষ্ট্রের খরচ কমানোর যে পথ যে কোন মূল্যেই করা দরকার বলে নীতি প্রস্তাব করেছেন, তা সমর্থন করছে শুধু এখন ফিনল্যান্ড, অস্ট্রিয়া আর নেদারল্যান্ডস. আর ফ্রান্স, যেখানে দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতা নতুন সৃষ্টি হয়েছে, তারা এবারে অন্য দিকে টানছে. ফ্রান্সুয়া ওল্লান্দ দাবী করেছেন ঐক্যবদ্ধ ইউরোবণ্ড চালু করতে. ঐক্যবদ্ধ ভাবে সুদের হার নির্ণয় করা হলে, তা ফাটকাবাজ খেলোয়াড়দের সমস্যা গ্রস্ত রাষ্ট্র গুলির ঋণ নিয়ে খেলার ইচ্ছাই নষ্ট করে দেবে, যে কারণে তাদের ঋণের পরিমান আকাশ ছোঁয়া হয়েছে. এটা রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবস্থার সুস্থ হওয়া জন্য প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে, যারা ইউরোপীয় এলাকায় খুবই বেশী রকমের ঋণের ভার নিয়ে বসে রয়েছে, তাদের জন্য, এই কথাই উল্লেখ করে ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি বলেছেন:

 “আমি অ্যাঞ্জেলা মেরকেলের দৃষ্টিকোণের মর্যাদা দিই, যখন তিনি বলেছেন যে, ইউরোবণ্ড অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কোনও অস্ত্র হতে পারে না. কিন্তু এটা- এমন অস্ত্র, যা বিকাশের জন্য নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পৌঁছনোর জন্য সাহায্য করবে”.

 জার্মানদের জন্য এই প্রকল্প – ষাঁড়ের জন্য লাল কাপড়ের মতই. তাদের জন্য ঋণের ক্ষেত্রে সামগ্রিক দায়িত্ব লাভজনক নয়. আজ তারা সবচেয়ে বেশী ক্রেডিট রেটিং পেয়েছে. বিনিয়োগকারীরা গ্রীক ও স্প্যানীশ বণ্ড বেচে দিচ্ছেন, তার বদলে কিনছেন জার্মান বণ্ড. তার ওপরে, ঐক্যবদ্ধ ইউরোবণ্ড বাজারে চালু হলে, সমস্যা সঙ্কুল দেশ গুলি তাদের নিজেদের অর্থনীতিকে সুস্থ করার জন্য উদ্যোগ নষ্ট করে ফেলতে পারে, এই রকম মনে করে হামবুর্গের বিশ্ব অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের প্রফেসর হেন্নিঙ্গ ফিওপেল বলেছেন:

 “আমি মনে করি যে, এই ধরনের ভয় খুবই সমর্থন যোগ্য. ইউরোবণ্ড দেশ গুলির সংশোধনের বিষয়ে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়াকে নষ্ট করে দিতে পারে. এমনও হতে পারে যে, ঋণ কমার চেয়ে বেড়ে যেতেই থাকবে. সব মিলিয়ে এটা আরও বেশী করে ইউরোপের ঋণের ভার বাড়িয়ে দেবে ও কাঠামো গত খামতি গুলির মধ্যে যোগ সাধন করবে. আর জার্মানী বহু দিনের জন্যই ধার শোধ করার অবস্থানে আটকে থেকে যাবে, যা অবশ্যই দরকার এড়িয়ে যাওয়ার”.

0 এর পরের বারে ইউরোপের নেতারা ব্রাসেলস শহরে জুন মাসের শেষে মিলিত হবেন. আর, খুবই সম্ভবতঃ, সেখানে নতুন শীর্ষবৈঠক হবে সম্পূর্ণ নতুন মানসিকতা নিয়ে. গ্রীসে ততদিনে নতুন করে নির্বাচন হয়ে যাবে. যদি সেই ভাবে দেশ রাজনৈতিক সঙ্কট থেকে পরিত্রাণ না পায়, তবে তাদের অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের জন্যও কোন আশা আর থাকবে না. আর তখন নতুন ফরাসী রাষ্ট্রপতির আর আত্মনির্ভর হওয়ার ঘোষণা করার মতো পরিস্থিতি থাকবে না, আর জার্মানীর চ্যান্সেলারকেও – জার্মানীর ব্যবসার লাভ নিয়ে যত্ন নেওয়া অবধি চিন্তা করার সময় থাকবে না. তাদের তখন অনেক বেশী গুরুতর সমস্যার মুখেই পড়তে হবে – সারা ইউরোপীয় এলাকার ভাগ্য নিয়ে.