পাকিস্তানের চিকিত্সক শাকিল আফ্রিদি, যে আমেরিকার গুপ্তচর সংস্থাকে ওসামা বেন লাদেনকে ধরার ব্যাপারে সাহায্য করেছিল, সে এখন কারাবাস করছে. পাকিস্তানের সরকার তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে দেশের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে. তাকে জরিমানা করেছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার ডলারের মতো ও ৩৩ বছরের জন্য হাজতবাস করতে পাঠিয়েছে. নিজেদের পক্ষ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয় ও মনে করেছে যে, তাকে বিচার করার মতো কোন ভিত্তিই নেই.

 “আল- কায়দা” দলের পাণ্ডা ওসামা বেন লাদেনকে পাকিস্তানে খুঁজে পাওয়ার জন্য শাকিল আফ্রিদি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল. এই সেই লোক, যে সিআইএ সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করে এই অঞ্চলের লোকের নকল টিকা দেওয়ার কাজ করে যাচ্ছিল, যা করতে গিয়ে তার পক্ষে খবর পাওয়া সম্ভব হয়েছিল যে, কোন জায়গায় “এক নম্বর সন্ত্রাসবাদী” রয়েছে. কিন্তু আফ্রিদি কাজ করেছিল পাকিস্তানের সরকারের অজান্তে. আর এই বিষয়ই দেশের আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের কারণ, এই কথা উল্লেখ করে পাঞ্জাব প্রদেশের রাজ্যপালের পরামর্শদাতা মুহামেদ আরশাদ ফারুক বলেছেন:

 “শাকিল আফ্রিদি সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তা হল যে, সে পাকিস্তানের আইন অনুযায়ী ন্যায্য শাস্তিই পেয়েছে. দেশের একজন নাগরিক হিসাবে ও তার উপরে আবার সরকারি কাজে জড়িত থাকা অবস্থায়, তার উচিত ছিল নিজের দেশের প্রশাসন ও তত্সন্নিহিত সংস্থা গুলিকে জানান যে, সে জানে, কোথায় বেন লাদেন রয়েছে, আর সে এই খবর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ সংস্থাকে জানাতে চলেছে. আফ্রিদি নাগরিক দায়িত্ব লঙ্ঘণ করেছে, নিজের দেশ ও তার প্রশাসনকে এড়িয়ে সে অন্য দেশকে ও তাদের বিশেষ সংস্থাকে খবর দিয়েছে. সে নিজের দেশের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছে”.

 রাশিয়ার সামরিক পুনর্গঠন সহায়তা তহবিলের সভাপতি ও বিশেষজ্ঞ পাভেল জোলোতারিয়েভ মনে করেছেন যে, পাকিস্তানের নিজের দেশের নাগরিককে অন্য দেশের সহায়তা করার জন্য বিচার করার অধিকার আছে, তিনি বলেছেন:

 “যদি পাকিস্তান ও আমেরিকার গুপ্তচর বাহিনীর মধ্যে সেই ধরনের কোনও সমঝোতা হয়ে থাকত আর এই চিকিত্সক সেই সমঝোতা অনুযায়ী আমেরিকার লোকদের সঙ্গে সহযোগিতা করত, তবে এটা এক ধরনের পরিস্থিতি হত. আমেরিকার লোকদের সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে তা হল যে, তাদের দাবী করার কিছু নেই. পাকিস্তানের চিকিত্সকের উপরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোন রকমের আইন সম্মত অধিকার থাকতেই পারে না. সুতরাং এই ক্ষেত্রে শুধু অনুরোধ করা যেতে পারে, তার বেশী কিছু নয়”.

 “এক নম্বর সন্ত্রাসবাদীকে” ধ্বংস করার অপারেশন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ককে জটিল করে তুলেছে. ইসলামাবাদ কোন চরম হুমকি দিচ্ছে না, তবে তাদের এখন খুবই ভারী কারণ জুটেছে আমেরিকার উপরে চাপ সৃষ্টি করার মতো, এই রকম মনে করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের কর্মী ভ্লাদিমির মসকালেঙ্কো বলেছেন:

 “তারা খুবই দ্রুত নিজেদের অবস্থান সম্পূর্ণ রকমের আনুগত্য থেকে স্বাধীন করে ফেলেছে, তারা ন্যাটো জোটের সেনা বাহিনীকে পাকিস্তানের মধ্যে দিয়ে যেতে দিচ্ছে না. আর এটা আন্তর্জাতিক জোটের জন্য খুবই ভারী আঘাত. পাকিস্তানের এই ধরনের প্রতিক্রিয়া হয়েছে ওসামা বেন লাদেনকে হত্যা করাতে. আর তাও আপাততঃ সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা হচ্ছে না. পাকিস্তানের লোকরা আমেরিকার উপরে চাপ দিয়েই চলেছে ও আপাততঃ খুবই সফল ভাবে কাজ করছে”.

 এরই মধ্যে উইকিলিক্স সাইট আরও এক গুচ্ছ দলিল প্রকাশ করেছে আমেরিকার এক স্ট্র্যাটেজিক ফোরকাস্টিং ইনকর্পোরেশন নামের কোম্পানীর ভিতরের কাজ কর্ম সংক্রান্ত চিঠি পত্র নিয়ে, যাদের আমেরিকার দূতাবাসের বায়না অনুযায়ী গুপ্তচর বৃত্তি ও বিশ্লেষণের কাজ করতে হয়, তাদের. প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে যে, ওসামা বেন লাদেনের দেহ হোয়াইট হাউসের সরকারি মুখপাত্রদের ঘোষণা স্বত্ত্বেও সমুদ্রে কবর দেওয়া হয় নি, বরং তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্যাথলজি ইনস্টিটিউটে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে.