সেন্ট পিটার্সবার্গের তথ্য প্রযুক্তি, মেকানিক্স ও অপটিক্স বিষয়ে জাতীয় গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা এই বার নিয়ে চতুর্থ বার প্রোগ্রাম করার বিষয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে. এই বছরে এই মর্যাদাময় প্রতিযোগিতা হয়েছে ওয়ারশ শহরে, যেখানে ১০০টি দলের মধ্যে ১২টি ছিল রাশিয়ার নেতৃস্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের থেকে.

 এই বুদ্ধির প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া লোকরা বলেছে যে, প্রতিযোগিতা এবারে অভূতপূর্ব রকমের কঠিন ছিল. দলের ক্যাপ্টেন ইভগেনি কাপুন রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে দিয়ে বলেছে:

 “আমরা এশিয়া থেকে আসা দল গুলিকে ভয় করেছিলাম. যেমন, চিনের দল গুলির খুবই শক্তিশালী দিক হল যে, তারা কোন অন্তর্বর্তী কালীণ প্রতিযোগিতায় যোগ দেয় না, তাই তাদের স্তর বিচার করা সম্ভব হয় শুধু ফাইনাল রাউণ্ডেই. চিনের ছাত্ররা সব সময়েই খুব ভাল ফল করে, আর একেবারেই জানতাম না ওদের কাছ থেকে কি আশা করা যেতে পারে”.

 সেন্ট পিটার্সবার্গের বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর একটি ইন্টারেস্টিং তথ্য উল্লেখ করেছেন: গত বেশ কিছু বছর ধরেই চিনের দল গুলির স্তর একেবারে কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে, আর হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দলের সমস্ত সদস্য ছিল প্রজাতিগত ভাবে চিন দেশের, তারা পেয়েছে সপ্তম স্থান. তার মধ্যে রাশিয়ার ছাত্ররা ছিল বেশী শক্তিশালী ও সমস্ত প্রতিযোগিতা ধরেই বিদেশী প্রতিযোগীদের চেয়ে এক কদম এগিয়েছিল.

 এই চ্যাম্পিয়নশীপের নিয়ম অনুযায়ী, ছাত্রদের মাত্র পাঁচ ঘন্টার মধ্যে ১২টি কঠিন সমস্যা সমাধান করতে হয়েছে – তার মধ্যে আকাশ পথে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ থেকে, ইন্টারনেট নিরাপত্তা ও পরিবেশ বান্ধব উত্পাদনের ব্যবস্থা পর্যন্ত. প্রত্যেক দলে তিন জন করে ছিল ও তাদের ছিল মাত্র একটি কম্পিউটার. তাই কাপুন বলেছে:

 “প্রতিযোগিতার প্রশ্ন পেয়ে, শুধু তার সমাধান ভেবে বার করলেই চলবে না, বরং তা ঠিক করে বাস্তবে করে দেখাতে হবে. এটা ভাল যে, প্রশ্ন সঙ্গে সঙ্গেই ঠিক হয়েছে কি না দেখা হয়েছে আর যদি কোন ভুল থাকে, তবে তা শুদ্ধ করার জন্য সম্ভাবনাও ছিল. কিন্তু প্রত্যেক ভুল মানেই সময় নষ্ট ও জরিমানার পয়েন্ট পাওয়া. বাস্তব দেখিয়েছে যে, যারা ভুল করে, তারা জিততেই পারে না”.

 এই প্রতিযোগিতায় ফল নিয়ে উদ্বেগ একেবারে শেষ মিনিট অবধি ছিল. নেতাকে নির্ধারণ করা সম্ভব ছিল না, কারণ শেষ হওয়ার এক ঘন্টা আগে ফলাফলের বোর্ড বন্ধ করে রাখা হয়েছিল. রাশিয়া, চিন ও পোল্যান্ডের দলের মধ্যে খুবই উত্তেজনায় টানটান লড়াই হয়েছে. আমরা এখনই ফলাফল জানি. “২০১২” খোদাই করা কাপ এখন সেন্ট পিটার্সবার্গের বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবের গ্যালারিতেই শোভা পাচ্ছে, যেখানে সার দিয়ে রয়েছে আরও অনেক গৌরবের পদক.

 উল্লেখ করবে যে, প্রোগ্রাম করার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপ তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে সবচেয়ে পুরনো ও মর্যাদাময় প্রতিযোগিতা বলেই মনে করা হয়. এটা অল্প বয়সী প্রতিভাদের জন্য এক ধরনের পরীক্ষার ক্ষেত্র. আর তার বিজয়ীদের কর্ম সংস্থানের ক্ষেত্রে এমনকি সবচেয়ে বড় কর্পোরেশন গুলিতেও কোন সমস্যা হয় না. রাশিয়ার ছাত্ররা স্বীকার করেছে যে, তারা বিদেশের থেকে প্রশিক্ষণের আমন্ত্রণ পত্র ইতিমধ্যেই পেতে শুরু করেছে. কিন্তু আপাততঃ তারা এই নিয়ে ভাবছে না. ছাত্ররা চায় নিজেদের পড়াশোনা শেষ করে আগামী বছরও নিজেদের চ্যাম্পিয়নের পদবি বজায় রাখতে, যখন এই চ্যাম্পিয়নশীপের ফাইনালের আয়োজন করা হবে রাশিয়াতে. আর নিজেদের বাড়ীতে যেমন বলা হয়ে তাকে, এমনকি দেওয়ালও সাহায্য করে.