আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ও ইরানের মধ্যে সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর খুবই নিকট সময়ের মধ্যে হয়ে যাওয়ার কথা, যদিও কিছু বিষয়ে মত পার্থক্য থেকেই যাচ্ছে. এই বিষয়ে ভিয়েনাতে তেহরান থেকে ফিরে এসে ঘোষণা করেছেন সংস্থার জেনারেল ডিরেক্টর ইউকিও আমানো.

 ২১শে মে ইরানের রাজধানীতে সংস্থার জেনারেল ডিরেক্টর "ছয় পক্ষের" মধ্যস্থতাকারী পরিষদের সঙ্গে ইরানের প্রতিনিধি দলের প্রধানের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন, তাঁর সঙ্গে ছিলেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সম্পাদক সঈদ জালিল ও ইরানের জাতীয় পারমানবিক পরিকল্পনা পরিষদের প্রধান ফরিদুন আব্বাসী দেওয়ানি. শ্রী আমানো আগে ঘোষণা করেছিলেন যে, তিনি আশা করছেন বিতর্কিত প্রশ্ন গুলিতে দ্রুত সমস্যা সমাধানের. এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন ভ্লাদিমির সাঝিন.

 এখানে কথা হচ্ছে সেই সমস্ত প্রশ্ন নিয়ে, যা আজ বেশ কয়েক বছর ধরেই আলোচনার তালিকা থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছে না. এটা, অংশতঃ, আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার পর্যবেক্ষকদের সমস্ত পারমানবিক কেন্দ্র, দলিল ও কম্পিউটারের তথ্যে অবাধ প্রবেশাধিকার, যা তাদের কাছে আগ্রহের হতে পারে. একই সঙ্গে তাদের সঙ্গে বাছাই করা কেন্দ্র গুলির কর্মীদেরও কথা বলার সুযোগ করে দিতে বলা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হতে পারে.

 এই প্রসঙ্গে একটি প্রশ্ন, যা বিগত সময়ে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় মুখ্য জায়গা নিয়েছে – এটা সংস্থার পক্ষ থেকে ইরানের পারচিন সামরিক ঘাঁটি, যা তেহরানের দক্ষিণে, সেই জায়গায় যেতে চাওয়া. পশ্চিমের গুপ্তচর সংস্থার তথ্য অনুযায়ী সেখানে পারমানবিক বোমার জন্য নিউট্রন সুইচ পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছিল.

 বাস্তবে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রধান ইরানের রাজধানীতে এসেছিলেন, যাতে এই নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছতে পারা যায় যে, কোথায় ও কবে সেই বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করা যেতে পারে, যাতে বিশেষজ্ঞরা ইরানে কাজ আবার করে শুরু করতে পারেন. প্রসঙ্গতঃ সেই কাজ, যা নির্দিষ্ট ফলে শেষ হতে পারে, যা ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা সংক্রান্ত সমস্যার সমস্ত বিতর্কিত প্রশ্ন গুলির বিষয়ে স্বচ্ছ উত্তর দেয়. আপাততঃ, ইরানের রাজধানীতে আলোচনায় বাস্তব ফলাফল অবধি পৌঁছনো সম্ভব হয় নি. অংশতঃ, ইরানের পক্ষ থেকে, আপাততঃ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থাকে সমস্ত পারমানবিক কেন্দ্রেই পর্যবেক্ষণ ও সেখানের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে দিতে ইরানের পক্ষ রাজী হয় নি. খুব সম্ভবতঃ, এটাই আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রধান বলেছেন, যখন তিনি মত পার্থক্যের কথা উল্লেখ করেছেন.

 যদিও, কোন সন্দেহ নেই যে, ইউকিও আমানো তেহরানে দুই ঘন্টার সাক্ষাত্কারের পরে কোন ভিত্তি নিশ্চয়ই পেয়েছেন, যাতে তিনি বলতে পারেন যে, আলোচনা শুভেচ্ছার পরিবেশেই হয়েছে ও তা ভালই হয়েছে.

 এই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত হয়ে রাশিয়ার জ্বালানী ও নিরাপত্তা কেন্দ্রের ডিরেক্টর আন্তন খ্লোপকভ বলেছেন:

 “আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রধানের সঙ্গে ইরানের বিশেষজ্ঞদের, যারা ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনার বিষয় পরিচালনা করছেন, তাদের দেখা হওয়ার ব্যাপার ও ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্রের মন্ত্রীসভার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টিকে ইতিবাচক বলা যেতে পারে. এর আগের যোগাযোগ গুলি প্রধানের ডেপুটি ও আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধানের মধ্যে হয়েছিল, তাই এই বারে আলোচনার স্তরে পদোন্নতির বিষয়ও আনন্দের কথা. এখানে গুরুত্বপূর্ণ হল যে, সেই কথাবার্তা, যা আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ও ইরানের মধ্যে হয়েছে, তা যেন চালু থাকে”.

 আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রধান উল্লেখ করেছেন যে, প্রগতি, যা দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার সময়ে হয়েছে, তার কথা, আর উল্লেখ করেছেন যে, এই আলোচনার ক্ষেত্রে প্রগতি আগামী ২৩শে মে ইরানের সঙ্গে “ছয় দেশের” মধ্যস্থতাকারী পরিষদের আলোচনার সময়েও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে. “অবশ্যই এটা দুটি আলাদা অনুষ্ঠান, কিন্তু তারা একে অপরকে সাহায্য করতেই পারে”, - বলেছেন ইউকিও আমানো.