বাগদাদ শহরে নতুন করে “ছয় পক্ষের” (রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশ ও জার্মানী) প্রতিনিধিদের ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে ইরানের পারমানবিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে. “ছয় পক্ষ” চেষ্টা করছে তেহরানকে শতকরা ২০ ভাগ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা থেকে নিরত করতে.

 এই বৈঠকের আগে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অগ্রগতি যোগ হয়েছে. সোমবারে তেহরানে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রধান ইউকিও আমানো সফর শেষে ফিরে এসে বলেছেন যে, তাঁর সফরের ফলাফল ইতিবাচক ভাবেই বাগদাদ আলোচনার রাউন্ডে প্রভাব ফেলবে. একদিন বাদ দিয়ে আমানো তাঁর আশার কারণ ব্যক্ত করেছেন: খুব শীঘ্রই সংস্থা ইরানের সঙ্গে তাদের পারমানবিক কেন্দ্র গুলি পর্যবেক্ষণ করার জন্য, পারমানবিক বিজ্ঞানীদের কাছে পৌঁছনোর জন্য ও দলিল পড়তে পারার জন্য সমঝোতা স্বাক্ষর করবে. যদি সংস্থার কাছে ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনার স্বপক্ষে বেশী করে তথ্য পাওয়া হয়, তবে তা সামরিক ভাবে সমাধানের ঝুঁকি কমবে.

 ইজরায়েলের উত্স থেকে জানানো হয়েছে যে, আমানোর আশার কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গোপন দ্বিপাক্ষিক লেনদেন বিষয়ে অগ্রগতির জন্যই হয়েছে. এই লেনদেনের সম্ভাব্য যুক্তি গুলি (এর সংখ্যা ৮) আমানো ইরানের ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খোমেইনির সঙ্গে আলোচনা করে সহমতে এসেছেন. এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুলি হল: ইরান তাদের “ফোর্দো” কারখানায় ইউরেনিয়াম শতকরা কুড়ি ভাগ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা বন্ধ করবে, যদিও কারখানা বন্ধ করে দেবে না. শতকরা ২০ ভাগ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়াম, যা ওজনে ১১০ কিলোগ্রাম, তা ইরান দেশের বাইরে পাঠাবে ও তা দিয়ে পারমানবিক চুল্লির জ্বালানী তৈরী করে আবার দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে. ইরান পারমানবিক নিরস্ত্রীকরণ সংক্রান্ত চুক্তির একটি বাড়তি শর্ত নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করবে, তা পারমানবিক কেন্দ্র গুলির আচমকা পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ে. কিন্তু গোপন কেন্দ্র গুলি, যা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা শুধু ছাড়াছাড়া তথ্যই পেয়েছে, সেগুলিতে পর্যবেক্ষক পাঠানো চলবে না.

 এর উত্তরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় সঙ্ঘ ধাপে ধাপে ইরানের বিরুদ্ধে নেওয়া নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে. ইউরোপীয় সঙ্ঘ তারই মধ্যে ১লা জুলাই থেকে খনিজ তেলের আমদানী বিষয়ক বাধা নিষেধ আরোপ করা থেকে বিরত থাকবে.

 যদি ইজরায়েলের কাছে থাকা খবর সত্য হয়, তবে ইরানের পক্ষ থেকে ইউরেনিয়াম আরও সমৃদ্ধ করাই ছিল এর আগের বৈঠক গুলির সময়ে “ছয় মধ্যস্থতাকারী পক্ষের” প্রধান দাবী. তা নিজে থেকেই সমাধান হয়ে যাচ্ছে. তারই সঙ্গে “ফোর্দো” কারখানা বন্ধ করা নিয়ে যে দাবী ছিল – “ছয় পক্ষ” নাকি ১৪ই এপ্রিলের ইস্তাম্বুল শহরের বৈঠকে এই প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছিল, তাও আর করার দরকার নেই. তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, ইউকিও আমানো তাঁর সফর দিয়ে “৫+১” দলের কাজ সহজ করে দিয়েছেন. আর গোপন মার্কিন- ইরান সমঝোতা হয়ে থাকতেও পারে, এই রকম একটা সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির সোতনিকভ বলেছেন:

 “এই সমস্ত আলোচনার বিষয় বস্তুই খুব লোভনীয় দেখাচ্ছে. এটা ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা ঘিরে সত্যই একটা অগ্রগতি হয়েছে এমন চিত্র তৈরী করতে পারত. আমি এই রকমের সম্ভাবনা বাদ দিচ্ছি না যে, আমানো কূটনীতিবিদ হিসাবে এই ধরনের গোপনীয় সমঝোতা করে থাকতেই পারেন. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খুবই লাভজনক হবে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার মধ্যে দিয়ে কাজ করা ও লোককে দেখানো যে, ইরানের লোকরা আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থায় আসছে ও রাষ্ট্রসঙ্ঘের সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে”.

 একই সময়ে কোন রকমের গোপনীয় কূটনীতি ছাড়াই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে  যে, “ছয় পক্ষের” সঙ্গে ইরানের বর্তমানের বৈঠকের আগেই পরিস্থিতি ভাল হচ্ছে, এই প্রসঙ্গে রাজনীতিবিদ স্তানিস্লাভ তারাসভ যোগ করে বলেছেন:

 “আমি কয়েকদিন আগে ইরান থেকে ফিরেছি, যেখানে আমরা সেই দেশের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করেছি. তাঁরা বলেছেন যে, তৈরী আছেন নির্দিষ্ট শর্তে সমঝোতা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য, যদি এই সমঝোতা শুধু একদিকদর্শী না হয়. আর “ছয় পক্ষ” ও ইরানের মধ্যে অন্তর্বর্তী কালীণ সিদ্ধান্ত হতে পারে – নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা”.

 খুব শীঘ্রই বাগদাদের রাউন্ড, যা ধূলি ঝড়ের জন্য দেরী করে শুরু হয়েছিল, তা নতুন করে আলোকপাত করবে যে, কতখানি বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস সত্য, সেই বিষয়ে.