মস্কোর একেবারে কেন্দ্রস্থলে পিয়াতনিত্স্কায়া স্ট্রীটে অবস্থিত বেতার ভবন বহু ভারতীয়কে আকৃষ্ট করে. রাশিয়া থেকে বেতার সম্প্রচারের ৭০ বছর পূর্তি উত্সবে সমবেত হয়েছিল সাংস্কতিক কর্মী, বিজ্ঞানী, ব্যবসায়ী, কূটনীতিবিদ ও সাংবাদিকেরা. হাসিখুশী চোখমুখ, উষ্ণ করমর্দন – সবমিলিয়ে সত্যিকারের উত্সবের আবহ.

   উত্সবের প্রধান অতিধি ছিলেন মস্কোয় ভারতীয় রাষ্ট্রদূত অজয় মালহোত্রা. তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত্কার, তাঁর বক্তব্য আমরা নিয়মিত সম্প্রচার করে থাকি. উল্লেখ করা দরকার, ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের সাবলীল মেলামেশা করার স্বভাব ও রুশী ভাষায় অসাধারন দখলের কথা. অজয় মালহোত্রা উল্লেখ করেছেন – আমি ‘রেডিও রাশিয়া’র বহু কর্মীর সাথে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত. রুশীদের সাথে এখানে অনেক ভারতীয়ও কাজ করে. আমরা মাঝেমধ্যেই দেখা সাক্ষাত করি.

          ভারতীয় রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেছেন, যে ভারতে বহু লোকই সানন্দে ‘রেডিও রাশিয়া’র বেতার অনুষ্ঠাণ শোনে. মস্কো থেকে বেতার সম্প্রচার শুরু হয় ১৯৪২ সালে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সবচেয়ে কঠিন সময়ে. সেখানে যুদ্ধের তাজা খবর পাওয়া যেত, যা মানুষকে আশান্বিত হতে সাহায্য করতো. শ্রী মালহোত্রা আরও উল্লেখ করেছেন, যে ভারতের জন্য ‘রেডিও রাশিয়া’র বেতার অনুষ্ঠাণগুলি অত্যন্ত মিত্রসুলভ ও গঠণমুলক. এটা অবশ্যই দুই দেশের মৈত্রী আরও মজবুত করতে সহায়তা করে.

      ভারতে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্দর কাদাকিন কূটনৈতিক মহলে ও ভারতবর্ষে বহুল পরিচিত ব্যক্তি. জ্ঞানী মানুষ, অসাধারণ ভারততত্ত্ববিদ. বহু বছর ধরেই তিনি ইন্দো-রুশী সহযোগিতার পেছনে তার সব জ্ঞান ও প্রয়াস উত্সর্গ করে চলেছেন. রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্দর কাদাকিন সবসময়েই ভারতীয় অভিমুখী ‘রেডিও রাশিয়া’র কর্মকান্ডকে মদত দেন. নয়াদিল্লী থেকে গতকাল করা তাঁর  ভিডিও সম্ভাষণ আমাদের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান ছিল.

       রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্দর কাদাকিন স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, যে মস্কো থেকে হিন্দুস্তানে বেতার সম্প্রচার শুরু হয়েছিল, ভারত স্বাধীনতা অর্জন করার আগে. আমাদের দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল কেবলমাত্র তার ৫ বছর পরে. রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করছেন, যে ‘রেডিও রাশিয়া’ বরাবর ভারতে ধ্বনিত হয়েছে স্বচ্ছভাবে ও সবসময় জনপ্রিয় ছিল. বহু দশকব্যাপী দুই দেশের মৈত্রীকে আরও জোরদার করতে সহায়তা করেছে ‘রেডিও রাশিয়া’.

      রেডিও রাশিয়ার প্রধান আন্দ্রেই বিসত্রিতস্কি তার ভাষনে বলেছেন – আমরা ভারতে বার্তা পাঠানোর ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দিই, বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় ইন্টারনেট ওয়েব-সাইট চালু আছে. আমরা আনন্দিত, যে, এখন ভারতীয়রা তাদের দেশের ভিতরেই এফ.এমেও আমাদের অনুষ্ঠাণ শুনতে পারেন. আমাদের সহকর্মী বেতারকেন্দ্র ‘১০৪ এফ.এমে’র মারফতে হিন্দী ভাষায় দিল্লী, মুম্বাই, কলকাতা ও বাঙ্গালুরুতে আমাদের বেতার অনুষ্ঠাণ সম্প্রচারিত হয়.

        উপোরক্ত বেতার কেন্দ্রের অন্যতম টপ-ম্যানেজার এম. সি. মিশ্র ৭০ বছরের জয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রেরিত তার শুভেচ্ছা বার্তায় লিখেছেন, যে তারা চান ‘রেডিও রাশিয়া’র সাথে সহযোগিতা চালিয়ে যেতে.

         কোন ভারতীয় উত্সব নাচগান ছাড়া অনুষ্ঠিত হতে পারে! এখানেও নাচ হযেছে, মস্কোস্থিত ভারতীয় সংস্কৃতি কেন্দ্রের এক ছাত্রী ভরতনাট্যম প্রদর্শন করেছে.

       আর আপনাদের মতে, নিজেদের বেতারকেন্দ্রের জয়ন্তীতে ভাষ্যকার, সংবাদদাতা, অনুবাদকদের জন্য কি সবচেয়ে দামী উপহার? অবশ্যই শ্রোতাদের কাছ থেকে পাওয়া অভিনন্দন! এত অভিনন্দন বার্তা এসেছে! ছত্তিসগড় রাজ্যের সোনপুর থেকে ‘গ্রীন পিস ডি.এক্স.’ ক্লাবের সভাপতি লিখেছেন, যে বেতারশ্রোতা হিসাবে আমরা এই কারণে গর্বিত, যে রাশিয়াই ছিল প্রথম দেশ, যে আমাদের বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় বেতার সম্প্রচার শুরু করেছিল.

   ‘রেডিও রাশিয়া’র বিপুল সাফল্য কামনা করি. আমার দৃঢ় বিশ্বাস, যে ভবিষ্যতেও আপনারা আমাদের খুশী করবেন আগ্রহোদ্দীপক ও শিক্ষামুলক বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে. উপোরক্ত কথাগুলি রুশী ভাষায় লিখেছেন পুণে থেকে সাংবাদিক পরাগ পুরোহিত. তিনি বহুবার ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে নয়াদিল্লীতে রুশী বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি কেন্দ্রে আমাদের শ্রোতাদের ক্লাবের বার্ষিক যে সম্মেলন আয়োজিত হয়, সেই সম্পর্কে লিখেছেন.

    শ্রোতাদের কাছ থেকে পাওয়া অভিনন্দন বার্তার মধ্যে এমনকি কবিতাও আছে. এ রকম অভিনন্দন পাঠিয়েছেন আমাদের রাজস্থানের ফতেপুর থেকে প্রমোদ মহেশ্বরী.

    উত্সব আপ্যায়ন ছাড়া? সেটা অসম্ভব. আমাদের অতিথিদের জন্য আমরা খাবারের যে টেবিল সাজিয়েছিলাম, তারা সবাই স্বীকার করেছেন, যে খাবার ছিল প্রচুর. প্রথাগত রুশী ও ভারতীয় সুস্বাদু খাবার. আমাদের মুখ্য সম্পাদক সের্গেই ফিওকতিস্তভেরও ভারতীয় খাবার খুব পছন্দ হয়েছে. তার বিশেষ করে ভালো লেগেছে সিঙাড়া, হাতে গড়া রুটি ও তরকারি. তবে এবার খাবারের প্রসঙ্গ বদল করে ফিওকতিস্তভ ভারতে সম্প্রচারের ভবিষ্যত নিয়ে কি ভাবছেন, সেই প্রসঙ্গে আসা যাক.

    সের্গেই ফিওকতিস্তভ বলছেন – আমাদের দৃষ্টি ভবিষ্যতের দিকে. আমরা আরও সম্প্রসারন চাই, নতুন নতুন সহকর্মীদের খুঁজে পেতে চাই. এই রকম সহকর্মীদের আমরা ভারতবর্ষে খুঁজে পেয়েছি ও তাদের সাথে যৌথ কাজ আমরা বাড়াবো. আর আমাদের প্রিয় শ্রোতাদের জন্য তাদের ইচ্ছা মাফিক নতুন নতুন অনুষ্ঠান সংকলন করা হবে – রুশী ক্ল্যাসিকাল লেখকদের রচনা ভিত্তিক অনুষ্ঠান, তাদের প্রিয় কুইজ কনটেস্ট ও প্রতিযোগিতা. এবং অবশ্যই ভারত ও রাশিয়ায় ঘটা সব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সম্মন্ধে জানাবো. এর মধ্যে আছে জুন ও সেপ্টেম্বর মাসে রাশিয়ার কয়েকটি শহরে অনুষ্ঠিতব্য ভারতীয় চলচ্চিত্র, সঙ্গীত ও নৃত্যের উত্সব ও ভারতে রুশী সাংস্কৃতিক উত্সবের উদ্বোধনী. আর বছরের শেষে নয়াদিল্লীতে সপ্তম সারা ভারতীয় সম্মেলন আমাদের শ্রোতাদের জন্য করার আশা রাখি এবং সেখানে আপনাদের সবার যোগদানের প্রত্যাশা করি.

   প্রিয় বন্ধুরা, আমরা মস্কোয় ‘রেডিও রাশিয়া’র জন্মজয়ন্তী পালন করার বৃত্তান্ত জানালাম আপনাদের. ঐ অনুষ্ঠানের ভিডিও আপনারা আমাদের ওয়েব-সাইটে দেখতে পারেন. অভিনন্দন জানানোর জন্য অজস্র ধন্যবাদ.