ন্যাটো জোটে আশা করা হয়েছে যে, খুব শীঘ্রই পাকিস্তান আফগানিস্তানে মাল সরবরাহের জন্য নিজেদের পরিবহন করিডর আবার খুলে দেবে. এই বিষয়ে জোটের সাধারন সম্পাদক আন্দ্রেস ফগ রাসমুসেন ঘোষণা করেছেন. তাঁর কথামতো, এটা চিকাগো শহরে ন্যাটো জোটের শীর্ষবৈঠকের শেষ হওয়ার আগেই হতে পারত. কিন্তু শীর্ষবৈঠক শেষ হয়েছে, আর পথ আগের মতই খোলা নেই. করাচি শহরে গত সাত মাস ধরে বহু শত বড় মালবাহী ট্রাক আফগানিস্তানে ন্যাটো জোটের জন্য মাল নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে কোন রকমের চলাচল ছাড়াই. এই বিষয়ে বিশদ বিবরণ আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ দিয়েছেন.

গত বছরের নভেম্বর মাসে এই পরিবহন করিডর বন্ধ হওয়ার আগে পর্যন্ত প্রতি মাসে এই পথে পনেরো হাজার পর্যন্ত মালবাহী ট্রাক যাতায়াত করত. সেনা বাহিনীর জন্য রসদ সরবরাহের এই পথ বন্ধ করে দেওয়ার ফলে এটা ন্যাটো জোটের জন্য খুবই সংবেদনশীল এক আঘাত হয়েছে. কিন্তু বিষয় শুধু আজকের দিনের প্রয়োজনেই নয়. এই পথ ন্যাটো জোটের জন্য ভবিষ্যতেও খুব গুরুত্বপূর্ণ. গুরুত্বপূর্ণ আফগানিস্তান থেকে ন্যাটো জোটের সেনা প্রত্যাহারের জন্যও. এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারির সঙ্গে ততক্ষণ পর্যন্ত দেখা করতেই চান নি, যতক্ষণ না পাকিস্তান এই করিডর ন্যাটো জোটের সেনা বাহিনীর জন্য খুলে দেয়. কিন্তু চিকাগো শহরে তাঁরা তাও দেখা করেছেন. ওবামার কথামতো, তিনি পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এই সম্মেলনের মধ্যেই স্বল্প সময়ের জন্য দেখা করেছেন. আমরা সরবরাহের প্রশ্নের সমাধান আশা করি নি, কিন্তু উন্নতি হয়েছে, - ঘোষণা করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি.

 ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে এই ট্রানজিট বিষয়ে সমঝোতা একতরফা ভাবেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল গত বছরের নভেম্বর মাসে, যখন ন্যাটো জোটের সেনারা ভুল করে আকাশ পথে বোমা হামলা করে মমান্দ এলাকার দুটি পাকিস্তানের সীমান্ত চৌকিতে. ফলে ২৪ জন নিহত হয়েছিল ও আরও ১৪ জন পাকিস্তানের সীমান্ত রক্ষী আহত হয়েছিলেন. কিন্তু এটা ভুল হবে, যদি মনে করা হয় যে, এই করিডর শুধু এই কারণেই বন্ধ করা হয়েছে. পাকিস্তানের জনগনের আফগানিস্তানে ন্যাটো জোটের সামরিক অপারেশন নিয়ে যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরী হয়েছে, তা বহু বছর ধরেই জমা হয়েছে একেবারেই শুরু থেকেই, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার সামরিক বিশ্লেষক লেফটেন্যান্ট জেনারেল গেন্নাদি এভস্তাফেয়েভ বলেছেন:

 “পশ্চিম ও ন্যাটো জোটের পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক খুবই কঠিন ভাবে চলছে. ন্যাটোর লোকরা সেই সমস্ত দেশে, যেখানে তারা হামলা করে, আর যে দেশকে হামলার জন্য ব্যবহার করে, সেখানে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে অসভ্যের মতই ব্যবহার করতে. আগে হোক আর পরেই হোক, যে রকমের ক্ষমতাসীন নেতৃত্বই এই সব দেশে থাকুক না কেন, এই সবই জনগনের মধ্যে খুবই বড় মাপের বিরক্তির সৃষ্টি করে. এই সবই আফগানিস্তানে হয়েছে. পাকিস্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক সহকর্মী. তারা সব সময়েই এই দেশের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিয়েছে ও সব সময়েই মনে করেছে যে, সেখানে তারা যা খুশী তাই করতে পারে. এটা দেশের জনগনের মধ্যে খুবই বড় রকমের বিরক্তির উদ্রেক করেছে”.

 আমেরিকার বিশেষ বাহিনীর পক্ষ থেকে পাকিস্তানের মধ্যে বেআইনি হামলা ও অ্যাবত্তাবাদে ওসামা বেন লাদেনকে ধ্বংস করা, আমেরিকার ড্রোন বিমানের উড়ান আর পাকিস্তানের এলাকাতেই রকেট হামলা, যখন তালিবান যোদ্ধাদের সঙ্গে বিশাল সংখ্যায় শান্তিপ্রিয় মানুষ নিহত হয়েছে – তাদের মধ্যে মহিলা, বৃদ্ধ, শিশুরা, - পাকিস্তানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোটের সম্বন্ধে এই সবই অত্যন্ত নেতিবাচক মানসিকতার উদ্ভবের জন্য দায়ী.

 রাস্তা খোলা, সন্দেহ নেই যে, ইসলামাবাদের জন্য রাজনৈতিক ভাবে কঠিন সিদ্ধান্তই হবে. ওয়াশিংটন, পাকিস্তানের পার্লামেন্টের দাবীতে কান দেয় নি, পাকিস্তানের সীমান্ত চৌকিতে হামলা ও তার ফলে সীমান্ত রক্ষীদের মৃত্যুর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে তৈরী নয়. তারা ড্রোন উড়ান পাকিস্তানের আকাশ সীমাতেও বন্ধ করতে তৈরী নয়. দুই পক্ষ এমনকি ন্যাটো জোটের মাল ট্রানজিটের জন্যও দামের বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছতে পারছে না. পাকিস্তান দাবী করেছে প্রত্যেক মালবাহী ট্রাকের জন্য দাম ২৫০ থেকে ৫০০০ ডলার করার.

 পাকিস্তানের বদল হয়েছে, আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এটা হিসেবের মধ্যে আনতে হবে.