চিকাগো শহরে ন্যাটো জোটের ২৫তম সম্মেলন শেষ হয়েছে. তার দ্বিতীয় দিন আফগানিস্তানের বিষয় সম্বন্ধে সম্পূর্ণ ভাবে নিবেদিত ছিল, আর তার সঙ্গে জোটের অন্যান্য দেশের সঙ্গেও, যারা এই অপারেশনের জন্য সাহায্য করছে.

 উত্তর অতলান্তিক জোটে চিকাগো সম্মেলন সন্তোষ জনক হয়েছে এই কথা গোপন করা হয় নি. জোটের সদস্যরা ইউরোপে প্রথম দফায় রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরী হয়েছে বলে ঘোষণা করেছেন. তা একক রকেট উড়ানের পথেই আটক করতে সক্ষম. বাস্তবে এখানে কথা হচ্ছে সদস্য দেশ গুলিতে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থার সামগ্রিক ব্যবস্থা স্থাপন ও আমেরিকার জাহাজ গুলির একত্রিত ব্যবস্থার. আর যদিও এই শীর্ষ বৈঠকের অংশগ্রহণকারীরা রাশিয়ার বিরুদ্ধে যে এই ব্যবস্থা করা হয়নি, তা সম্বন্ধে সর্বসম্মত কোন ঘোষণা গ্রহণ করেন নি, তাও বারাক ওবামা সম্মেলন শেষের সাংবাদিক সম্মেলনে এই প্রসঙ্গে ঘোষণা করে বলেছেন:

 “আমরা রকেট প্রতিরোধ প্রশ্নে সামনের দিকেই এগিয়ে চলেছি. এই প্রকল্পের আওতায় ন্যাটো ঘোষণা করেছে এই ব্যবস্থার অন্তর্বর্তী কালীণ তৈরী হওয়া প্রসঙ্গে. আমেরিকা ইউরোপীয় রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থার ধাপে ধাপে প্রসার ও তার আরও নিখুঁত হওয়া সম্বন্ধে দায়িত্ব নিয়েছে. আর আমি আমাদের সহকর্মীদের এই বিষয়ে ধন্যবাদ জানাতে চাই, যারা আমাদের সঙ্গেই রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরী করা নিয়ে কাজ করছে. উল্লেখ করব যে, আমাদের তুরস্কে স্থাপন করা রাডার ন্যাটো জোটের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে. স্পেন, রুমানিয়া ও পোল্যান্ড তাদের সহমত জানিয়েছে নিজেদের দেশে আমেরিকার রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা স্থাপন করার জন্য. হল্যান্ড তাদের রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আধুনিক করছে. আর আমরা আশা করব অন্যান্য দেশও এই ব্যবস্থায় যোগ দেবে. আর যেহেতু এই ব্যবস্থা রাশিয়ার বিরুদ্ধে লক্ষ্য করে করা হয় নি ও তাদের স্ট্র্যাটেজিক প্রতিহত করার ক্ষমতা ধ্বংস করে না, তাই আমি আগের মতই মনে করি যে, রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রও হতে পারে”.

 প্রসঙ্গতঃ, এমনকি রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থার চেয়েও বেশী মনোযোগ দেওয়া হয়েছিল আফগানিস্তান প্রসঙ্গে. চিকাগো শহরে এই দেশের রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাই উড়ে এসেছিলেন, তিনি বারাক ওবামার সঙ্গে যেমন, তেমনই হিলারি ক্লিন্টনের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন. একই সঙ্গে এসেছিলেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারিও. পাকিস্তানের সীমান্ত চৌকির উপরে ন্যাটো জোটের হামলার পরে ও যে কারণে ২৪ জন পাকিস্তানের সীমান্তরক্ষীর মৃত্যু হয়েছিল, পাকিস্তান নিজেদের দেশের ভিতর দিয়ে স্থল পথে ন্যাটো জোটের সমস্ত মাল আফগানিস্তানে ট্রানজিট করে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছিল. আর এখন, মনে হয়েছে এই প্রসঙ্গে আলোচনা একটা স্থির বিন্দু থেকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে, যদিও সরকারি ভাবে এখনও ট্রানজিট সংক্রান্ত কাজ আবার শুরু হওয়া নিয়ে কোনও ঘোষণা এখানে করা হয় নি.