ডলারের সঙ্গে ইউরোর দামের ওঠাপড়া এই নতুন ব্যবসা সপ্তাহ শুরু হওয়ার পরে স্থিতিশীল হয়েছে – অবশেষে তা গত চার মাসের মধ্যে সব চেয়ে কম থেকে উপরে উঠতে শুরু করেছে. বাজারে যে আশা রয়েছে তা সেই বিষয়ের অপেক্ষায় হয়েছে যা আগামী ইউরোপীয় সঙ্ঘের শীর্ষ বৈঠকের সঙ্গে যুক্ত. আশা করা হচ্ছে যে, ২৩শে মে ব্রাসেলস শহরে ইউরোপীয় দেশ গুলির নেতারা ইউরোপের ঋণ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে নতুন ব্যবস্থা গুলির কথা ঘোষণা করবেন.

 বহু বিশ্লেষকদের মতেই, ইউরোপের মুদ্রা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সব চেয়ে কম দামের মাত্রায় পৌঁছবে. এই ধরনের বিশ্লেষকদের হতাশা ব্যাখ্যা করা যেতে পারে. এক দিকে গত সপ্তাহে অনেক ঘোষণাই শুনতে পাওয়া গিয়েছে – তার মধ্যে সেই ধরনের সমস্ত প্রভাবশালী মঞ্চ থেকে, যেমন বড় আট অর্থনৈতিক ভাবে উন্নত দেশের শীর্ষ সম্মেলনে,- যে শুধু ইউরোপই নয়, বরং বিশ্বের সমস্ত বড় অর্থনীতিই বর্তমানে ইউরো অঞ্চলের সুরক্ষা ও ইউরো মুদ্রার মজবুত হওয়ার পক্ষে সমর্থন জানাচ্ছে. সমস্যা হল যে, ইউরোপীয় সঙ্ঘের দেশ গুলির নেতারা কিছুতেই সামগ্রিক ভাবে কি করে এই মুদ্রা বাঁচানো যেতে পারে, তা নিয়ে ঐক্যমতে পৌঁছতে পারছেন না.

 এই শীর্ষ বৈঠকের প্রধান আকর্ষণ হল যে, এখানে ফ্রান্সের নব নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি কি ভাবে ব্যবহার করবেন. নতুন ফরাসী নেতা তাঁর ইউরোপীয় সঙ্ঘের সহকর্মীদের কাছে ইউরো বণ্ডের ধারণা প্রস্তাব করতে চান. ওল্লান্দের ধারণা কিছু ইউরোপীয় রাজনীতিবিদ সমর্তন করেছেন, অংশতঃ ইতালির প্রধানমন্ত্রী. গত বড় আট অর্থনৈতিক ভাবে উন্নত দেশের সম্মেলনে মারিও মন্টি ঘোষণা করেছেন যে, তিনি ইউরোপীয় সঙ্ঘের সঙ্কটের প্রতিরোধে ইতালি-ফ্রান্স-জার্মানীর স্ট্র্যাটেজি প্রস্তাব করতে চান. কিন্তু ঐক্যবদ্ধ ইউরো বণ্ড প্রস্তাবের অর্থ হল বাস্তবে অ্যাঞ্জেলা মেরকেলের সঙ্গে সরাসরি বিবাদ. জার্মানীর চ্যানসেলার এর মধ্যেই ঘোষণা করেছেন যে, জার্মানী এমনিতেই ইউরোপের জন্য আত্মত্যাগ করছে. আর রোম এবং প্যারিসের প্রস্তাবিত ঋণের থেকে লাভের গড় অঙ্ক হিসাব করার প্রস্তাব গৃহীত হলে, তা থেকে বার্লিনের অর্থনৈতিক ভাল অবস্থা একেবারে সমূলে ধ্বংস হয়ে যাবে. বিশেষজ্ঞরা সবচেয়ে বেশী ভয় পেয়েছেন যে, মেরকেল ও ওল্লান্দ এবারে আলোচনা থেকে সরাসরি বিরোধে উপস্থিত হবেন. আর তখন সমগ্র ইউরোপ জুড়ে আলোচনার সুর একেবারেই চিরদিনের জন্যই পাল্টে যাবে.

 ইউরোপের নেতাদের মধ্যেও কোন ঐক্য নেই, বিশেষজ্ঞ মহলেও নেই. ইউরো এলাকার ভবিষ্যত সংক্রান্ত পূর্বাভাসের পট- একেবারে বিষাদ মগ্ন থেকে আনন্দ ঘন অবধি. কিছু লোক আবার বিশ্বাস করেছেন যে, ইউরো নামের সামগ্রিক এলাকার ধারণাই তার শেষের দিন গুনছে. তাদের মধ্যে রয়েছেন এস্তোনিয়ার অর্থনীতিবিদ হারদো পাউলা, তিনি বলেছেন:

 “শতকরা নব্বই শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে যে ইউরো এলাকা বাঁচবে না. এটা, অবশ্যই যদি বর্তমানে ইউরো এলাকা যে রকমের আছে, তা হিসাব করলে. আমার মনে হয়েছে এখন রয়েছে এক রকমের ভারসাম্যের মতো কিছু, যার ভিত্তি হয়েছে ইউরোপের একেবারেই আপাত দুটি ভাগে বিভাগের ফলে সৃষ্ট: ভূমধ্য সাগরীয় অংশ ও সেই অংশ, যাদের অর্থনীতি মজবুত. এই ধরনের বিভাগের পথ ধরে গেলে, ধারণা করা যেতেই পারে যে, দুটি মুদ্রা হবে: একটা একাংশের জন্য, অন্যটা অন্য অংশের জন্য”.

 আরও একটি অবশ্য উপায় রয়েছে: ছোট গ্রীস দেশের সমস্যা সমাধানের ভার তার ধনী প্রতিবেশী দেশ গুলি নেবে – জার্মানী ও ফ্রান্স. কিন্তু বাজে উদাহরণ খুবই সংক্রামক. আর তখন এথেন্সের উদাহরণ অনুসরণ করে তার থেকে আরও বড় বেশী সমস্যা সঙ্কুল দেশ গুলি এই পথ ধরবে – সেই ইতালি ও স্পেনও. বিনিয়োগ কারীরা তখন ধ্বংসের ভয় পেয়ে যাবেন ও নিজেদের অর্থ এই সব দেশের অর্থনীতি  থেকে তুলে নেবেন. আর তখন কারোরই কিছু কম মনে হবে না. সুতরাং ইউরোপের আপাততঃ বাস্তব সম্মত পথ একটিই: খরচ কমানো, বাস্তবের সঙ্গে চাহিদাকে মাপ করেই করা, কোন কৃত্রিম ধারণা অনুযায়ী সম্ভাবনার সঙ্গে চাহিদাকে যোগ করে নয়.