এই বছরে ভের্তালিওতি রাশিয়ি কোম্পানী প্রায় ৫০০ কোটি ডলার মূল্যের ৩০০টিরও বেশি হেলিকপ্টার বানাবে. কোম্পানীর ডিরেক্টর দমিত্রি পেত্রোভ এই সম্পর্কে জানিয়েছেন মস্কোয় অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া হেলি রাশিয়া-২০১২ নামক প্রদর্শনীতে. তার কথায়, বর্তমানে রাশিয়া বিশ্বের বাজারে ২০% প্রপেলার ও ৯% অসামরিক হেলিকপ্টার সরবরাহ করে.

      হেলি রাশিয়া-২০১২ প্রদর্শনীতে সবমিলিয়ে ১৮টি দেশের ২০০ রও বেশি কোম্পানী যোগ দিয়েছিল. প্রদর্শনীর প্রথম দিনে বোধহয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল, কে.আ. মার্কার নতুন রুশী মাঝারি মাপের হেলিকপ্টারের প্রর্দশনী. মডেলটি সত্যিই ছিল প্রদর্শনীর মধ্যমণি. রঙচঙে বড় হেলিকপ্টারটাকে খুব দামী গাড়ীর মতো দেখতে লাগছিল. হেলিকপ্টারের বিশাল ককপিট, ১৫ জন যাত্রীর জন্য. হেলিকপ্টারটির প্রপেলর ও উইংস অ্যালয় দিয়ে বানানো. উড়ানযানটি ওজন কমেছে, জ্বালানীও কম ব্যয় হবে, উড়ানের গতি বেড়েছে. রিবিনস্কের কারখানায় নতুন গ্যাস-টারবাইন মোটর তৈরি করা হয়েছে. তবে সবার আগে খেয়াল রাখা হয়েছিল নিরাপত্তার দিকে, বলছেন নির্মাণকারী সংস্থার মুখপাত্র আলেক্সেই চিঝিকভ. 

   এটা প্রথম রুশী উড়ানযান, যেখানে পাইলট, স্টুয়ার্ডেস ও যাত্রীদের নিরাপত্তার সমস্তরকম বন্দোবস্ত করা হয়েছে. তাছাড়াও ঐ মডেলে বিশেষ ধরনের চাকা ব্যবহার করা হচ্ছে. এ রকম ঘটনাও ঘটে, যখন হেলিকপ্টারের প্রপেলার অচল হয়ে যায়. এক প্রপেলারের প্রথাগত হেলিকপ্টারের জন্য এটা ধ্বংসের সমান. এই নতুন মডেলটির গতি যদি ঘন্টায় ৮০ কিলোমিটারের বেশি হয়, তবে সে এরোপ্লেনের মতো অবতরণ করতে পারবে.

   আশা করা যাচ্ছে, যে কে.আ.-৬২ মার্কার হেলিকপ্টার, যা বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে, তেল ও গ্যাস শিল্পে, নির্মানশিল্পে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে, ২০১৪ সালে সরবরাহ করা শুরু হবে.

    নতুন কে.আ.-৬২ ছাড়াও দর্শকরা কামোভ হেলিকপ্টার ও মিই-৮ সিরিজের বিশ্ববিখ্যাত হেলিকপ্টারও প্রদর্শনীতে দেখতে পেয়েছে. এই সুলভ হেলিকপ্টারটি পৃথিবীর ৫০টিরও বেশি দেশে ওড়ে়. এবং এই মডেলটির জন্য চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে. আজকের দিনে ভারত হচ্ছে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রেতা. লাতিন আমেরিকাতেও রুশী হেলিকপ্টার বিক্রির ভালো পরিপ্রেক্ষিত তৈরি হয়েছে. বলছেন ‘আভিয়াপোর্ট’ নামক এজেন্সীর প্রধান ওলেগ পান্তেলিয়েভ. –

     ভারী হেলিকপ্টার, যেমন মিই-৮ ও মিই-১৭ র ভালো চাহিদা. উপরন্তু আধুনিকীকরন করা মিই-১৭১ ও মিই-৩৮ এর জন্য চাহিদাও ক্রমশঃ বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে.

         ভারী ও মাঝারিমাপের হেলিকপ্টার ছাড়াও উপরোক্ত প্রদর্শনীতে ছিল হাল্কা ওজনের বিমান, ও এমন এয়ারপ্ল্যান, যা খুব সহজেই চালানো যায়, পেট্রোলে ওড়ে আর দাম মাত্র জিপ গাড়ির মতো. রাশিয়ায় এরকম মডেলের হেলিকপ্টার কয়েকটি বেসরকারী কোম্পানী তৈরি করে নির্দিষ্ট বিদেশী ফরমায়েশ অনুযায়ী. বিশেষজ্ঞদের মতে, খেলনার মতো আয়তন হওযা সত্ত্বেও এই মডেলের হেলিকপ্টার নতুন প্রজন্মের উড়ানযানের মধ্যে যোগ্য স্থান অধিকার করতে পারে.