তাতারস্তানে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের আর্থিক সহযোগিতায় ১০০ কপি কোরান প্রকাশ করা হয়েছে, যা অডিওতে শোনা যায়. এই সংস্করণ প্রকাশ করা হয়েছে তাতারস্তানের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার জয়ন্তী উপলক্ষ্যে.

     এমনিতে অস্বাভাবিক কিছু নেই. সাধারণ কোরান আরবী ভাষায় লেখা. তবে সংস্করনের সাথে ইলেকট্রনিক স্টাইলেসও দেওয়া হচ্ছে. আর যদি গ্রন্থটিকে কোনো আয়াতের কাছে নিয়ে আসা হয়, তাহলে লিখিত বয়ান সভাষ্য কথা বলতে শুরু করে. পবিত্র কোরান রুশী, তাতার ও আরবী – তিন ভাষার যে কোনো ভাষায় শোনা যায়, প্রয়োজনীয় ভাষাটি স্টাইলেসের বিশেষ সুইচ টিপে বাছা যেতে পারে.

      কোরানের অডিও-ম্যাগনেটিক সংস্করন নিয়ে কয়েক বছর ধরে কাজ করা হয়েছে. ধারনাটা এসেছে চীনা মুসলিমদের কাছ থেকে, যারা গত কয়েক বছর ধরে সভাষ্য কোরান ব্যবহার করছে. তবে রাশিয়ায় এটা অভূতপূর্ব. বিশ্ব তাতার কংগ্রেসের প্রতিনিধি ফরিদ উরাজায়েভ রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে বলছেন – আমাদের কোরান দেশে প্রথম সভাষ্য গ্রন্থ. প্রয়ুক্তিগত কাজ খানিকটা করা হয়েছে চীনে, বাকিটা কাজান শহরে.

        আমরা সতর্কতার সাথে কাজানে কোরানের ব্যাখ্যা করেছি, খুঁজে পেয়েছি ভাষাতত্ত্ববিদকে, যে নিয়মিত নমাজ পড়ে এবং রেকর্ড করার জন্য উপযুক্ত হলও পেয়েছি. পবিত্র কোরানের প্রথম সংস্করনের বয়ানের অনুবাদ করেছি আমরা আধুনিক প্রযুক্তি অনুযায়ী. সুতরাং অতঃপর শুধুমাত্র হেডফোনের মাধ্যমেই নয়, কম্পিউটারের মারফতেও কোরান শোনা যেতে পারে. যদিও আরব দুনিয়ায় ও চীনে বসবাসকারী মুসলমানেরা অডিও-কোরান ব্যবহার করে, তাতার ভাষায় এই প্রথম গ্রন্থটিকে অডিওয় অনুবাদ করা হয়েছে.

         মোটামুটিভাবে, এই অভূতপূর্ব সংস্করন - শুধু একমাত্র নজীরবিহীন ঘটনা নয়, যা তাতারস্তানে ঘটছে. ২০১১ সালের শেষদিকে ইতালি থেকে কাজান শহরে পৃথিবীর বৃহত্তম কোরান আনা হয়েছে. এই অমুল্য সম্পদ সৃষ্টির কাজে ইতালির শিল্পীরা দেড় বছর ব্যয় করেছেন. প্রজাতন্ত্রের মুসলিম আধ্যাত্মিক পরিচালনা কমিটির প্রধান রিশাদ হামিদুল্লিন বলছেন, যে এই নজীরবিহীন গ্রন্থ, যার বিশ্বে কোনো তুলনা হয় না, এটা সত্যিকারের সাহিত্যসম্পদ.

     গ্রন্থটির আয়তন – দৈর্ঘ্য- ২ মিটার, প্রস্থ- দেড় মিটার. গ্রন্থটির ওজন ৮০০ কিলোগ্রাম, শুধু প্রচ্ছের ওজনই ১২০ কিলোগ্রাম. স্কটিশ কাগজে ছাপানো হযেছে গ্রন্থটি, প্রচ্ছদ অলংকরন করা হয়েছে সোনা, রূপো, মালাকাইট দিয়ে. এটা সত্যিই নজীরবিহীন গ্রন্থ, তাই এই ঘটনা শুধু তাতারস্তানের জন্যই নয়, সারা দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ.

        মে মাসের মাঝামাঝি গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে স্থান পাওয়া এই বইটি প্রথমবার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়া হয়. বইটা খোলবার জন্যই ১০ জন পুরুষের শক্তি প্রয়োগ করতে হয়েছে. ভাগ করে গ্রন্থের বয়ান পড়েছে ৯ জন হাফিজ – বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ছাত্ররা, যাদের গ্রন্থের পুরো বয়ান মুখস্ত. আর ইসলাম গ্রহণ করার দিন, যেটা তাতারস্তানে গত কয়েক বছর ধরে ২১শে মে পালন করা হয়ে থাকে, ঐ অভূতপূর্ব গ্রন্থ কাজান শহর থেকে ১৫০ কিলোমিটার দুরে ভোলগা নদীরই তীরবর্তী বোলগার শহরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যেখানে ধরা হয়, যে ৯২২ সালে তাতাররা মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করেছিল.

    ২০১২ সালে তাতারস্তানে কোরান বর্ষ পালিত হচ্ছে, যা রাশিয়ায় কোরানের প্রথম সংস্করন প্রকাশের ২২৫ তম বার্ষিকীর প্রতি উত্সর্গীকৃত. প্রথম সংস্করন প্রকাশিত হয়েছিল জারিনা একাতেরিনার তত্ত্বাবধানে. আরবী বর্ণ বানানো হয়েছিল তখন তাতার ধর্মতাত্ত্বিকদের সহায়তায়.