ব্যবসা করার জন্য উপযুক্ত দেশের তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে রাশিয়া. এই রকমের একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন বিশ্বের এক বৃহত্তম অডিট কোম্পানী কেপিএমজি র বিশেষজ্ঞরা. তাদের গবেষণায় বিশ্বের ১৪টি নেতৃস্থানীয় অর্থনীতি যুক্ত দেশের লোকরা অংশ নিয়েছেন. উন্নত দেশ গুলির মধ্যে সবচেয়ে ভাল ফল দেখিয়েছে গ্রেট ব্রিটেন, আর সবচেয়ে বাজে ফল জাপানের. এই প্রথমবার গবেষণায় ব্রিকস গোষ্ঠীর দেশের প্রথম চারটি দেশকে – রাশিয়া, ব্রাজিল, ভারত ও চিনকে জোড়া হয়েছিল.

 অর্থনীতি গুলির তুলনার জন্য শুরুর জায়গা হিসাবে বাছা হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে. তারপরে দেখা গিয়েছে, অন্যান্য দেশ গুলিতে ব্যবসা করা কতটা দামী অথবা সস্তা. আর এখানেই নতুন সংযোজিত দেশ গুলি খুব ভাল ফল করেছে. দেখা গিয়েছে যে, সবচেয়ে লাভজনক শর্ত প্রস্তাব করেছে চিন (প্রায় শতকরা ২৬শতাংশ সস্তা) আর ভারত (প্রায় ২৫ শতাংশ সস্তা), তৃতীয় স্থানে রয়েছে ব্রাজিল (২১ শতাংশ), রাশিয়া তিন নেতৃত্ব স্থানীয় দের থেকে খুব অল্প দূরেই রয়েছে – রাশিয়াতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ব্যবসা করা শতকরা ২০ ভাগ সস্তা বা বেশী লাভজনক.

 ব্রিকস দেশ গুলিকে এই তালিকায় যোগ করা কোন আধুনিক ঝোঁকের অবদান নয়, বরং অর্থনৈতিক বাস্তব. কেপিএমজি সংস্থার রাশিয়া ও স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহে কর সংক্রান্ত ও আইন সংক্রান্ত পরামর্শ সহকারী রবার্ট উওল্লিঙ্গফোর্ড এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বলেছেন:

 “ব্রিকস দেশ গুলিকে জোড়া হয়েছে, কারণ তারা বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে ও বেশীর ভাগ বিনিয়োগই সেখানে করা হচ্ছে. অনেক বড় বিশ্বমানের কোম্পানী নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীণ হচ্ছে, বিশেষ করে যখন তারা ব্রিকস দেশ গুলি সহ সারা বিশ্ব জুড়েই কাজ করছে, তখন. এই ধরনের একটি সমস্যা হল বিভিন্ন দেশে কাজ করতে গিয়ে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা ও বিরোধ বিহীণ ভাবে পরিস্কার লাভ বাড়ানো. এই সূত্রে, যাতে তুল্যমূল্য বিচার করে কোম্পানী গুলির পক্ষে বিনিয়োগ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়, তাই এদের প্রয়োজন ব্যবসা করার তুলনামূলক পরিস্থিতি বিচার করে দেখা, যা বিভিন্ন দেশে রয়েছে. আর সেই কারণেই ব্রিকস দেশ গুলিকে এই তালিকায় যোগ করার ফলে সবচেয়ে সম্পূর্ণ চিত্র পাওয়া সম্ভব হয়েছে”.

 গবেষণার স্রষ্টারা মূল্যায়ণ করে দেখেছেন ব্যবসা করার খরচ, তারই সঙ্গে বিভিন্ন দেশে জনসংখ্যার পরিস্থিতি, শিক্ষা, পেশাদার কর্মীর সংখ্যা ইত্যাদি. বিশেষ করে মনোযোগ দেওয়া হয়েছে সেই বিষয়ে, যেমন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি, পরিকাঠামো, অর্থনৈতিক কাঠামো, আইনের বিশেষত্ব, জীবনযাত্রার মান ও মূল্য.

 আজকের দিনে রাশিয়া যে ব্যবসার জন্য আগ্রহ জনক জায়গায় পরিণত হচ্ছে, তা অনেক বিশেষজ্ঞই উল্লেখ করেছেন. এটা সেই উদাহরণেই দেখা যাচ্ছে যে, কি করে রাশিয়ার সঙ্গে আমেরিকার ব্যাবসাদারদের সম্পর্ক পাল্টে গিয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্যবসার ক্ষেত্রে এখানে বেশী সম্ভাবনা দেখতে পাওয়া গিয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়া রাষ্ট্রপতির সহকারী আর্কাদি দ্ভরকোভিচ বলেছেন:

 “প্রায় সমস্ত বড় আমেরিকার কোম্পানী এখন রাশিয়ার বাজারে খুবই বড় আকারে নিজেদের উপস্থিতি বাড়িয়েছে: কেউ বাণিজ্যে, কেউ বিনিয়োগে, কেউ বা “স্কোলকোভাতে” কাজ করছে. নানা ধরনের কাজের দিকও রয়েছে. যদি গত তিন- চার বছর আগের পরিস্থিতি দেখা হয়, তবে চিত্র ছিল এই রকমের: তারা একেবারেই আসতে চাইত না. আর যদিও বা আসত, তবে হাসির মতো করে মুখ বেঁকিয়ে বলত: “আমরা আরও ভাবব, রাশিয়াতে আসব, নাকি না”. এখন এই ধরনের সম্পর্ক আর নেই. তারা সকলেই রাশিয়াতে কাজ করতে চায়. কোন রকমের বাদ না দিয়ে একেবারে সকলেই”.

 রাশিয়ার প্রধান বিশেষত্ব গুলির মধ্যে কেপিএমজি কোম্পানীর বিশেষজ্ঞরা বলেছেন বেতনের স্তর ও জ্বালানী শক্তির দাম নিয়ে. রবার্ট উওল্লিঙ্গফোর্ড বলেছেন:

 “রাশিয়া ব্রিকস সংস্থার বিকাশশীল বাজার গুলির মধ্যে জ্বালানী সংক্রান্ত খরচের বিষয়ে শীর্ষ স্থানে রয়েছে, বিশেষ করে গ্যাস ও বিদ্যুত সম্বন্ধে. তারই সঙ্গে এখানে বেতনের স্তর বেশী উঁচু নয়. কোন রকমের সন্দেহ ছাড়াই বলা যেতে পারে ডিজিট্যাল প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তির বিকাশ সম্বন্ধে. আরও এক সারি ক্ষেত্র রয়েছে, যেখানে রাশিয়া লাভজনক শর্ত দিয়েছে ও এমনকি এগিয়ে রয়েছে”.

 রাশিয়া বিগত সময়ে অনেক অগ্রবর্তী হয়েছে তথ্য প্রযুক্তি যুক্ত সমাজ গঠন বিষয়ে, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার বিশ্লেষক আন্না আব্রামোভা বলেছেন:

 “সব মিলিয়ে রাশিয়াতে লক্ষ্যণীয় হয়েছে তথ্য প্রযুক্তি পরিষেবা বিষয়ে ব্যয় বৃদ্ধি ও যেমন সরকারের পক্ষ থেকে, তেমনই ব্যক্তিগত মালিকানার কোম্পানী গুলির পক্ষ থেকে প্রোগ্রামিং বিষয়ে খরচ বাড়ানো হয়েছে. এই প্রবণতা যেমন সরকারি প্রকল্প গুলির পক্ষ থেকে, তেমনই বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যোগ দেওয়ার কারণে প্রতিযোগিতায় সাফল্য করার উদ্দেশ্য নিয়ে যে প্রয়োজন সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্যই হয়েছে. বর্তমানের পরিস্থিতিতে তথ্য প্রযুক্তির নির্দিষ্ট ভূমিকা বিশেষত প্রোগ্রামিং বিষয়ে নির্ণয় আরও করেছে দেশে তথ্য প্রযুক্তি সমৃদ্ধ সমাজ গঠনের পরম্পরা মেনে বাস্তবায়নের ফলেই, যা দেশের আভ্যন্তরীণ তথ্য প্রযুক্তি বাজারের সহায়তা ও বিদেশে তথ্য প্রযুক্তি সংক্রান্ত সমাধান ও সম্ভারের রপ্তানী বাড়ানো বিষয়ে সহায়তা দিয়ে”.

 যে সমস্ত বিশেষজ্ঞদের কাছে প্রশ্ন রাখা হয়েছিল, তাঁরা সকলেই উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়া ধীরে সংশোধনের পথেই এগিয়ে যাচ্ছে ও অন্যান্য সূচক গুলিতেও এই পরিবর্তন লক্ষ্য করার যোগ্য হওয়া উচিত্. এখানে কথা হচ্ছে প্রাথমিক ভাবে গুণমান সম্পন্ন পরিকাঠামো গঠন ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির.