চিকাগো শহরে ন্যাটো জোটের শীর্ষবৈঠকের দ্বিতীয় দিনের কাজকর্ম শুরু হয়েছে. তার আলোচ্য আজ সম্পূর্ণভাবেই আফগানিস্তানকে উদ্দেশ্য করে. প্রথম দিনে এই জোটের প্রধান "বুদ্ধিমান প্রতিরক্ষা" প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে ও রাশিয়ার প্রতিবাদ স্বত্ত্বেও রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা বিকাশ করার ইচ্ছা প্রসঙ্গে ঘোষণা করেছিলেন.

 আমেরিকার রাষ্ট্রপতির জন্য নিজের শহর চিকাগোর বাসিন্দারা – বোধহয় খুব শীঘ্রই ন্যাটোর বর্তমান শীর্ষবৈঠকের অভিজ্ঞতা ভুলে যাবেন না. পুলিশ চিকাগো শহরে একটি পুরো এলাকাই বন্ধ করে দিয়েছে, যেখানে এই সম্মেলনের কেন্দ্র রয়েছে. রাস্তা ট্রাক- লরি দিয়ে বন্ধ করা হয়েছে, নানা ধরনের অস্থায়ী চেক পোস্ট বসানো হয়েছে, মেট্রোর একটি শাখা ও বেশ কয়েকটি রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে. এই ধরনের সাবধানতা নেওয়া বাড়াবাড়ি হয় নি – বহু সহস্র লোকের প্রতিবাদ মিছিল এই শীর্ষ সম্মেলনের সারা সময় জুড়েই শেষ হচ্ছে না. কিন্তু এই প্রতিবাদ ন্যাটো জোটের শীর্ষ সম্মেলনের আলোচনায় কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারে নি. কোলাহল পরিপূর্ণ রাস্তা গুলি থেকে কয়েকশো মিটার দূরে কংগ্রেস সেন্টারে বেশ কয়েকটি পুলিশ ও গুপ্তচরদের বিশেষ বাহিনীর বেষ্টনী পার হয়ে, জোটের নেতারা আফগানিস্তানের স্ট্র্যাটেজি নিয়ে আলোচনা করেছেন, তারা ইউরোপে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও ন্যাটো জোটের পুনর্গঠন নিয়েও আলোচনা করেছেন.

 এই সম্মেলনের রাশিয়ার জন্য প্রধান ফল হয়েছে – ন্যাটো ইউরোপে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা সৃষ্টি করা বন্ধ করবে না, যদিও এই বিষয়ে মস্কোর পক্ষ থেকে অনেক প্রতিবাদই করা হয়েছে. তবে এই কথা সত্য যে, ব্রাসেলস তাও রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসতে ইচ্ছুক, এই কথাই সাংবাদিক সম্মেলনে ন্যাটো জোটের প্রধান আন্দ্রেস ফগ রাসমুসেন ঘোষণা করেছেন, তিনি বলেছেন:

 “আমরা রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করতে চাই. আমরা ঠিক করেছি নিজেদের ন্যাটো জোটের রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা উন্নত করতে, কারণ আমরা রকেট হুমকি বিষয়টিকে বাস্তব বলেই মনে করি. আর বাস্তব বিপদের বিরুদ্ধে আমাদের চাই বাস্তব রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা, যাতে আমাদের দেশের জনসাধারণকে আমরা ফলপ্রসূ ভাবেই রক্ষা করেত পারি. আর, অবশ্যই রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই ব্যবস্থা তৈরী বন্ধ করতে দেওয়া যেতে পারে না. এটা ন্যাটো জোটের আভ্যন্তরীণ বিষয়”.

 আরও একবার পশ্চিমের রাজনীতিবিদরা ঘোষণা করেছেন যে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা লক্ষ্য করা হয় নি. কিন্তু শুধু কথায় তো মনে হয় না যে, মস্কোর চলবে, রাশিয়া আইন সঙ্গত গ্যারান্টি চেয়েছে.

 আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় – ন্যাটো জোটের পুনর্গঠন. যেমন আশা করা হয়েছিল, এই জোটের নেতারা "বুদ্ধিমান প্রতিরক্ষা" ব্যবস্থা নিয়ে ঘোষণা করেছেন. তার প্রধান নীতি – কম খরচ, কিন্তু বেশী ফল. সহজ কথায় বলতে হলে, ন্যাটো জোটে শ্রম বিভাজনে এখন বিশেষ পারদর্শীতা অনুযায়ী ভাগ করা হচ্ছে. কেউ বিমান বহরের জন্য দায়িত্ব নেবে, কেউ নেবে ট্যাঙ্কের দায়. সেনা বাহিনীর কেন্দ্রীয় ভাবে প্রশিক্ষণ ও ঐক্যবদ্ধ মহড়ার ব্যবস্থা হবে. বারাক ওবামা গোপন করেন নি যে, এই ধরনের পদক্ষেপ জোট নিতে রাজী হয়েছে অর্থনৈতিক সমস্যার কারণেই.

 শীর্ষবৈঠকের দ্বিতীয় দিনে ন্যাটো জোটের সহকর্মী ও সহযোগীদের নিয়ে আফগানিস্তানের অপারেশন সম্বন্ধে কথা হবে. তাতে প্রায় ৬০টি দেশের নেতারা ও পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধানরা মিলিত হচ্ছেন. কোন রকমের বৈপ্লবিক পরিবর্তন বিশেষজ্ঞরা অপেক্ষা করে নেই – সকলে তাদের মত শুধু বলে উঠতে পারলেই হয়.