রাশিয়ার সমগ্র ভূখণ্ডের প্রায় শতকরা ৯৯ ভাগ ডাক ব্যবস্থার মাধ্যমে জুড়ে রাখা “রাশিয়ার ডাক ও তার সংস্থা” এবারে সর্বাধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবস্থা ব্যবহার করা শুরু করে পরিষেবার তালিকা বৃদ্ধি করছে.

 “রাশিয়ার ডাক ও তার সংস্থা”- এক বিশাল সংগঠন, যাদের ৪২ হাজার দপ্তর রয়েছে. কিন্তু এমনকি আজও তাদের মধ্যে সব কটিতে যোগাযোগের চ্যানেল নেই, তাই তারা বাধ্য হয় অফলাইন অবস্থাতেই কাজ করতে, বিশেষ করে পূর্ব সাইবেরিয়ার দূরবর্তী অঞ্চলে ও সুদুর প্রাচ্যে. সমস্যা রয়েছে সময় মতো পৌঁছে দেওয়া নিয়েও আয়োজনের ক্ষেত্রে. তাই এই কোম্পানী ঠিক করেছে আগামী তিন বছরের মধ্যে কাজের ক্ষেত্রে একটা ঝটকা দেওয়ার ও একই সঙ্গে এক গুচ্ছ ইন্টারেস্টিং প্রকল্প আধুনিক যোগাযোগ ও দিক নির্দেশ ব্যবস্থা ব্যবহার করে বাস্তবায়ন করার, এই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে “রাশিয়ার ডাক ও তার সংস্থার” ভাইস জেনারেল ডিরেক্টর সের্গেই কিরিউশিন বলেছেন:

 “আমাদের “গ্লোনাসস” ব্যবস্থা ব্যবহারের মাধ্যমে এক প্রকল্প আছে, তার সাহায্যে আমরা আমদের পরিবহন ব্যবস্থার চলাচল লক্ষ্য করছি. আমরা চাই আমাদের জিনিস আনা নেওয়ার নেট ওয়ার্ক এর সাহায্যে সুসংগত করে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সমস্ত আনা নেওয়ার হিসাবকে পরিবর্তন করতে”.

 “রাশিয়ার ডাক ও তার সংস্থা” একই সঙ্গে তাদের দিক থেকে প্রস্তাবিত পরিষেবার তালিকাও বৃদ্ধ করছে. পোস্ট অফিস গুলিতে যেমন বর্তমানে বিমান ও রেলের টিকিট কিনতে পারা যাচ্ছে. তাছাড়া ডাক ও তারের পরিষেবা ছাড়াও বহু রকমের ব্যাঙ্কিং পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে. এখানে কথা হচ্ছে অর্থ জমা নেওয়ার: ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার ও টাকা পাঠানোর.

 খুবই আসন্ন সময়ে সংস্থার আরও একটি নতুন পরিষেবা চালু হতে চলেছে – ইন্টারনেটে অর্ডার দিয়ে স্বয়ংক্রিয় জিনিস দেওয়ার টার্মিনাল খোলার. তথাকথিত “পোস্টম্যাট” ব্যবস্থা, যাতে থাকবে দাম দেওয়ার ও জিনিস রাখার বাক্স. খুবই সক্রিয়ভাবে উন্নতি করছে বিদেশী সহকর্মীদের সহযোগিতা. যেমন, এখন “রাশিয়ার ডাক” ব্যবস্থা খুবই সফল ভাবে “ইতালির ডাক” ব্যবস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করছে, এই প্রসঙ্গে সের্গেই কিরিউশিন বলেছেন:

 “আমরা ওদের সঙ্গে বহু দিন ধরেই সহযোগিতা করছি, তাদের কাছ থেকে প্রযুক্তি আনছি. আমাদের দুটি স্বয়ংক্রিয় চিঠি বাছাইয়ের কেন্দ্র রয়েছে, এই দুটি মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গের বৃহত্তম সংস্থা, সেখানে বিপুল পরিমানে চিঠি পত্র ও মাল বাছাই করা হয়. আর মস্কোর কেন্দ্রের প্রযুক্তি সেই ইতালির “সেলেক্স এলস্যাগ” কোম্পানীর প্রযুক্তির ভিত্তিতেই তৈরী করা হয়েছে, আর পিটার্সবার্গে – “সিমেন্স” কোম্পানীর প্রযুক্তির ভিত্তিতে”.

 “রাশিয়ার ডাক ও তার সংস্থার” আধুনিকীকরণে দেখা হচ্ছে পোস্ট ও ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার তথ্য প্রযুক্তির ভিত্তিতে সম্পূর্ণ ভাবে স্বয়ংক্রিয় করার, আর এর অর্থ হল- গ্রাহকদের কাছে চিঠি পত্র ও পার্সেল পৌঁছনোর গতি বৃদ্ধি করার.