আজ রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন নতুন মন্ত্রীসভার কাঠামো ও পদ সংক্রান্ত নির্দেশে স্বাক্ষর করেছেন. যেমন আশা করা হয়েছিল, মন্ত্রীসভা গুরুতর পরিবর্তন হয়েছে – মন্ত্রী পদের বিন্যাস প্রায় চারের তিন অংশ নতুন হয়েছে. তাছাড়া, মন্ত্রীসভায় দুটি নতুন পদ তৈরী হয়েছে – সুদূর প্রাচ্যের উন্নতি ও উন্মুক্ত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ মন্ত্রী.

 এই নির্দেশ স্বাক্ষরের আগে দেশের নেতা উপ- প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও তাদের ডেপুটিদের সঙ্গে সাক্ষাত্কার হয়েছে. এই আলোচনা করার জন্যই ভ্লাদিমির পুতিন বৃহত্ আট অর্থনৈতিক দেশের আমেরিকার ক্যাম্প ডেভিড শীর্ষবৈঠকে যেতে চান নি. তিনি বলেছেন:

 “আমি বাস্তবে প্রায় সমস্ত প্রার্থীর সঙ্গেই দেখা করেছি. নির্দেশ গুলি সই হয়ে গিয়েছে, আমি আপনাদের ও আপনাদের সকল সহকর্মীকে সাফল্য কামনা করছি. আমার মনে হয়েছে যে, যদি এখন আমরা নতুন মন্ত্রীসভার বৈঠক আহ্বান করি ও তাতে পদ গ্রহণ নিয়ে ঘোষণা করি, তবে তা ঠিক হবে”.

 মন্ত্রীসভার সভাপতির ডেপুটিদের সংখ্যা নতুন মন্ত্রীসভায় তত জনই হবেন, যা এর আগের সভায় ছিল, কিন্তু প্রথম উপ- প্রধানমন্ত্রী এবারে শুধু একজনই – ইগর শুভালভ. উপ- প্রধানমন্ত্রীর পদ এই বারে পেয়েছেন ভ্লাদিমির সুরকভ, দিমিত্রি রগোজিন, দিমিত্রি কজাক, আর তারই সঙ্গে আলেকজান্ডার খ্লপোনিন, একই সঙ্গে তিনি আবার উত্তর ককেশাস রাষ্ট্রীয় এলাকায় রাষ্ট্রপতির বিশেষ দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রতিনিধিও বটে. মন্ত্রীসভায় নতুন উপ- প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন আর্কাদি দ্ভরকোভিচ, এর আগে পর্যন্ত যিনি রাষ্ট্রপতির সহকারীর পদে ছিলেন, আর মস্কো শহরের মেয়রের প্রাক্তন ডেপুটি ওলগা গলোদেত্স, যিনি এই বারে সামাজিক প্রশ্নাবলী সংক্রান্ত দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন.

 উপ- প্রধানমন্ত্রীরা ছাড়া, মন্ত্রীদের অংশ পদাধিকারীদের অর্থে একেবারে সম্পূর্ণ রকমের বদল হয়েছে. প্রাক্তন মন্ত্রীদের মধ্যে নিজেদের পদে টিকে রয়েছেন পাঁচ জন: পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ, আইন মন্ত্রী আলেকজান্ডার কনোভালভ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আনাতোলি সেরদ্যুকোভ, অর্থ মন্ত্রী আন্তন সিলুয়ানভ, ক্রীড়া মন্ত্রী ভিতালি মুতকো.

 এখানে বাদ দেওয়া যেতে পারে না যে, এই ধরনের গুরুতর পরিবর্তন সেই কারণেই করা হয়েছে যে, নতুন মন্ত্রীসভাকে নতুন সমস্ত সমস্যার সমাধান করতে হবে. মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে যে, রাষ্ট্রপতি পদে নিয়োজিত হওয়া অব্যবহিত পরেই ভ্লাদিমির পুতিন বেশ কিছু নির্দেশে স্বাক্ষর করেছেন, যার কয়েকটি বিশেষজ্ঞরা বৈপ্লবিক আখ্যা দিয়েছেন. রাষ্ট্রপতি বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, মন্ত্রীসভাকে খুব কঠিন সমস্ত সমস্যার সমাধান করতে হবে অত্যন্ত জটিল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে.