যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্প ডেভিডে সদ্য অনুষ্ঠিত হওয়া জি-৮ সম্মেলনকে সংস্থার ইতিহাসে সবচেয়ে অর্থবহ ও সমস্যাবিহীন সম্মেলন বলে আখ্যাহিত করেছেন রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ. অর্থনীতি যা আট জাতির এ সম্মেলনে প্রধান বিষয় হিসেবে আলোচনায় স্থান পায়.

    ইউরোপীয় ইউনিয়নে সর্বশেষ পরিস্থিতি, বিশেষত গ্রীসের পরিস্থিতিকে বিশ্ব নেতারা অধিক গুরুত্ব দেন. ইউরোর পতন শুধুমাত্র ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্যই চিন্তার বিষয় নয় বরং অন্য দেশ যেমন রাশিয়ার জন্যও তা ভাবনার বিষয়. তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে মস্কো বা ওয়াশিংটন কেউই উদ্ধার করতে পারবে না. রেডিও রাশিয়ার প্রতিনিধিকে এমনটি বলেছেন রুশ প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ. তিনি বলছেন, ‘ইউরোপকে উদ্ধার তা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও এর অন্তর্ভুক্ত দেশগুলিরই সমস্যা. এর জন্য দায়িত্বপূর্ণ একটি বাজেট প্রদান করতে হবে. গ্রীসের অবস্থান আজ আন্তর্জাতিক কমিউনিটির আলোচনায় পরিনত হয়েছে. এর আগে অবশ্য এমনটি ছিল না. এই অবস্থানের অন্যতম প্রধান শর্ত হচ্ছে গ্রীসকে ইউরোপীয় ইউনিয়নেই থাকতে হবে. জি-৮ নেতারা এমনটি চাচ্ছেন. তবে সবার শুরুতে গ্রীসের জনগনকেই এগিয়ে আসতে হবে’.

    যদিও গ্রীসের অর্থনৈতিক সমস্যা আলোচনার শীর্ষে থাকলেও ক্যাম্প ডেভিডে অন্যান্য সমস্যার দিকে দৃষ্টিগোচর করা হয়. এর মধ্যে রয়েছে- সিরিয়া সংকট ও পারমানবিক সমস্যা. উভয় বিষয় নিয়েই ব্যাপক আলোচনা হয়. এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে যে আরব বসন্ত নামে বিক্ষোভ চলছে তা নিয়েও বৈঠক হয়.

    ক্যাম্প ডেভিডে দিমিত্রি মেদভেদেভ বিভিন্ন দেশের নেতাদের সাথে দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাতে মিলিত হন. রুশ প্রধানমন্ত্রী সদ্য নির্বাচিত ফরাসী রাষ্ট্রপতি ফ্রাঁন্সোয়া ওলান্দের সাথে পরিচিত হন. এছাড়া মেদভেদেভ জার্মান চ্যান্সেলর মার্কেলের সাথে আলোচনায় রাশিয়া-জার্মানি সম্পর্কের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্ব দেন. যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুন দিমিত্রি মেদভেদেভকে লন্ডন অলিম্পিকে আমন্ত্রন জানান. তবে বারাক ওবামার সাথে মেদভেদেভের অনুষ্ঠিত বৈঠকের স্থানটি ছিল একদম ব্যতিক্রম. মেদভেদেভ বলছেন, ‘এই বৈঠকে একদমই কোন আনুষ্ঠানিকতা ছিল না. শুধু টাই নয় এমন কি আমাদের পরিধানে ব্লেজারও ছিল না. অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে আমাদের আলাপ হয়. বিগত বছরগুলোতে আমরা কি করতে পেরেছি তা নিয়েই আলোচনা করেছি. আমি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেছি যে, বিনিয়োগের দিক থেকে রাশিয়া ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে পিছনে ফেলেছে. আমাদের বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি অবশ্যই খুশির খবর. তবে, বৃহত অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তা ইতিবাচক দিক নয়.

     দিমিত্রি মেদভেদেভ বারাক ওবামাকে ভ্লাদিমির পুতিনের চিঠি পৌঁছে দেন. চিঠিতে কি লেখা আছে জানতে চাইলে মেদভেদেভ বলেন, সেখানে রাশিয়ার পররাষ্ট্রনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে রাশিয়ার সম্পর্ক বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে.

0জি- ৮ নেতারা আগামী জুন মাসে জি-২০ সম্মেলনে আবার মিলিত হবেন. পর্যবেক্ষকরা আস্থার সাথে জানিয়েছেন যে, দুটি সম্মেলনের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও ক্যাম্প ডেভিডের আলোচ্য বিষয়ই ম্যাক্সিকোর লস-কাবোসে স্থান পাবে.