যুক্তরাষ্ট্রে জি-৮ শীর্ষ সম্মেলন আজ শনিবার শুরু হয়েছে. এবারের সম্মেলনে রাশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করছেন রুশ প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ. তিনি ইতিমধ্যে ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন এবং সেখান থেকে হেলিকপ্টার যোগে তিনি মার্কিন রাষ্ট্রপতির শহরতলীর বাসভবন ক্যাম্প ডেভিডে  পৌঁছান.

    জি- ৮ সম্মেলনের প্রতিটি বৈঠকই নিজের আলাদা চরিত্র বহন করে থাকে. ঠিক এবারও তার ব্যতিক্রম নয়. দিমিত্রি মেদভেদেভ মস্কো থাকাকালিনই সাংবাদিকরা তাকে সম্মেলন বিষয়ে আভাষ দিয়েছেন. তবে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছার পর রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের বিশে্ষ দূত ভাদিম লুকোভ জানতে পেরেছেন যে, এবারের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে শুরুর দিকে ‘রামবুইয়ে’ সম্মেলনের আলোকে. এখানেই ১৯৭৫ সালে তত্কালীন ফরাসী রাষ্ট্রপতি ভালেরী জিস্কার দেএসতেনার উদ্দ্যোগে সর্বপ্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল. তখন এ সংস্থা ছিল ৭ জাতির. উল্লেখ্য, রাশিয়া ১৯৯৭ সালে পূর্ণ সদস্য হিসেবে জি-৮ এ অন্তর্ভুক্ত হয়.

    আজ শনিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জি-৮ শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয়েছে. এর আগে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় সংস্থার শীর্ষ নেতারা সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হলে সেখানে একসারি আন্তর্জাতিক প্রশ্ন ও সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়. যার মধ্যে ছিল উত্তর কোরিয়া, ইরান ও সিরিয়া প্রসঙ্গ.

    শনিবার শুরু হওয়া সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে. প্রতিটি চুড়ান্ত সিদ্ধান্তই একাধিক আলোচনা সাপেক্ষে নির্ধারণ করা হবে. এমনি বলছিলেন ভাদিম লুকোভ. তিনি জানান, ‘শীর্ষ নেতাদের ঘোষণা ছাড়াও বেশ কিছু সমসাময়িক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে. এ ধরণের পরিকল্পনার সংখ্যা অবশ্য অনেক. সুনির্দিষ্ট নামকরনের মধ্যে রয়েছে দাভিলস্কি অংশিদারিত্ব, অর্থাত জি- ৮ ভুক্ত দেশের সাথে আরব দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক. যেখানে এখন রাজনৈতিক ও সামাজিক- অর্থনৈতিক পরিবর্তনের বাতাস বইছে. এছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানী ও জলবায়ু পরিবর্তন সেক্টর নিয়েও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে.

    রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জাপান, জার্মানী, ইতালি ও কানাডা’র প্রতিনিধিরা এবার প্রাকৃতিক পরিবেশে সাক্ষাত করছেন. সব আলোচনাই ক্যাম্প ডেভিডে  অনুষ্ঠিত হবে. আর সম্মেলনে অংশ নিতে আসা অতিথিরা একেবারে সাধারণ কটেজ বাড়ীতে বাস করবেন যা স্থানীয় একটি পার্কে অবস্থিত.

    অবশ্যই বিশ্বায়নবিরোধীদের বিক্ষোভ এবারের সম্মেলনেও ছিল. শুক্রবার ভোর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্ষোভকারীরা জডো হতে থাকেন. এদের একটা অংশ ‘ওকুপাই ওয়াল স্ট্রিট’ আন্দোলনে জড়িত ছিলেন.