আসন্ন বছর গুলিতে যুদ্ধ বিমানের রপ্তানী কি বাড়বে, কি ধরনের বিমান ও কত গুলি করে রুশ সামরিক বাহিনী পাবে? এই সব ও অন্যান্য প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে “রেডিও রাশিয়ার” উদ্যোগে আয়োজিত এক গোল টেবিল বৈঠকে.

 রুশ সামরিক বিমানের ১০০ বছর উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নিয়েছেন বিশ্লেষণ কেন্দ্র গুলির বিশেষজ্ঞরা, যারা বিশ্বের অস্ত্র- প্রযুক্তি বাজারের পরিকাঠামো নিয়ে গবেষণা করছেন. জানাই আছে যে, যুদ্ধ বিমানের বেচা কেনার বাজারে রাশিয়ার অবস্থান বিশ্বে বিশেষ করে শক্তিশালী. সেই ধরনের বিমান, যেমন সু– ৩০ অথবা মিগ- ২৯, বিশ্বের বিভিন্ন এলাকায় খুবই পরিচিত, প্রাথমিক ভাবে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াতে. তা স্বত্ত্বেও আগামী দশকের প্রধান প্রবণতা হবে রাশিয়ার বিমান নির্মাণ শিল্পের বাইরের থেকে দেশের ভিতরের বাজারের দিকে লক্ষ্য ফেরানো, এই কথা উল্লেখ করে স্ট্র্যাটেজি ও প্রযুক্তি বিশ্লেষণ কেন্দ্রের ভাইস ডিরেক্টর কনস্তানতিন মাকিয়েঙ্কো বলেছেন:

  “সোভিয়েত পরবর্তী সময়ে, ৯২ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত, রাশিয়ার বিমান শিল্প বাইরের দেশে যুদ্ধ বিমান রপ্তানীর উপরে ভিত্তি করেই ছিল. কিন্তু এই মডেল বর্তমানে তার যুক্তি সঙ্গত অবসানের কাছেই পৌঁছেছে. তা আমাদের চোখের সামনেই এক দৃষ্টান্তে পরিণত হচ্ছে, যেখানে বিমান নির্মাণ শিল্প বিকশিত হচ্ছে দেশের আভ্যন্তরীণ বায়নার উপরে নির্ভর করেই. ২০২০ সাল পর্যন্ত আভ্যন্তরীণ বায়নার সুযোগকে এই কারণে কাজে লাগানো দরকার যে, যাতে একটা স্তরে পৌঁছনো সম্ভব হয়, যেখান থেকে দেশের ভেতরের ও বাইরের সামরিক ও একই সঙ্গে অসামরিক বিমান নির্মাণ ক্ষেত্রে বিমান নির্মাণ শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখা যেতে পারে”.

 বিশেষজ্ঞের মতে, রপ্তানী কমে যাওয়ার কারণ বর্তমানে প্রাথমিক ভাবে চিনের বাজারের ও কিছুটা ভারতের বাজারে সংপৃক্ত অবস্থা হওয়ার জন্য. প্রসঙ্গতঃ, তারাও এখনও আছে, যারা আগের মতই রাশিয়ার সামরিক সম্ভারের প্রতি আগ্রহী, তাই কনস্তানতিন মাকিয়েঙ্কো যোগ করে বলেছেন:

 “চাহিদা বজায় রাখা হচ্ছিল সেই সমস্ত বায়না দিয়ে, যেমন আলজিরিয়া, ভেনেজুয়েলা, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও উগান্ডা. এই চলতি আর্থিক বছরে রাশিয়া ভারতের জন্য ৪২টি বিমানের বায়না পাবে, আশা করা হচ্ছে যে, ভিয়েতনাম কেনা কমাবে না, বর্তমানে তারা পেয়েছে ও বায়না করেছে সব মিলিয়ে ২৪টি সু – ৩০ বিমানের”.

 রাশিয়ার বিমান নির্মাণ শিল্পের রপ্তানী কমে যাওয়াকে ভর্তুকি দেওয়া হবে দেশের ভিতরের জন্যই খুব বড় বায়না দিয়ে. কৌশলগত বিমানের সবচেয়ে বড় মাপের বায়না করা হবে, সব মিলিয়ে প্রায় ৬০০টি বিমানের. যদি ২০২০ সালের পরে দেখতে যাওয়া হয়, তবে বিমান নির্মাণ শিল্পের সংরক্ষণ ও তার বিকাশের জন্য প্রয়োজন হবে অসামরিক বিমান নির্মাণ শিল্পে একটা বৈপ্লবিক উন্নতি. এটা এমসি- ২১ বিমানের ভিত্তিতে অথবা সুপারজেট – ১০০ বিমানের ভিত্তিতে. জানাই আছে যে, কিছুদিন আগে ইন্দোনেশিয়াতে এই যন্ত্রের বিপর্যয় ঘটেছে, কিন্তু মনে হয় না যে, প্রকল্পের ভাগ্যে এটা কোন নিয়ন্ত্রক হবে, তাই কনস্তানতিন মাকিয়েঙ্কো বলেছেন:

 “তাত্ত্বিক ভাবে এই বিপর্যয় প্রকল্পের বিকাশের উপরে কোন রকমের প্রভাব নাও ফেলতে পারে. এই রকম আগেও হয়েছে. নিজের ব্যবহার শুরু করার আগে এয়ারবাস এ- ৩০০ ভেঙে পড়েছিল ১৯৯৪ সালে, তা স্বত্ত্বেও এর সব কটিই সফল প্রকল্প হয়েছে. এই অর্থে যে, যদি সব কিছু সঠিক ভাবে করা হয়, তবে এই বিপর্যয় “সুখই” কোম্পানীকে তাদের সমস্ত আভ্যন্তরীণ ক্ষমতাকে সচল করতে বাধ্য করবে”.

 সামরিক বিমান নির্মাণ ক্ষেত্রেও প্রয়োজন অন্তত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প, যাতে রপ্তানী বজায় রাখা যেতে পারে. টি – ৫০ বিক্রী করা কম সম্ভব, তার বিশাল দামের জন্যই. এমন প্রকল্পের প্রয়োজন, যা যুদ্ধ বিমানের ব্যবস্থার ক্ষেত্রে তুলনামূলক ভাবে কম দামের. অন্য দিকে দূরে উড়ে যেতে সক্ষম বিমান নির্মাণের ক্ষেত্রে এখনও অনেক জায়গা আছে আধুনিকীকরণ করার, এই কথা মনে করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামাজিক উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি ইগর করোতচেঙ্কো বলেছেন:

 “বর্তমানের টি -১৬০ ধরনের বোমারু বিমানের আধুনিকীকরণের কথা ধরলে, এই বিমান গুলিকে বহু লক্ষ্য সাধনে সক্ষম করলে, তাতে অনেক গুলি বাড়তি ক্ষমতা যোগ হবে. সেই গুলি সামরিক বাহিনীর নতুন রূপে প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়াবে, যা বর্তমানে তৈরী করা হচ্ছে”.

 তাছাড়া আগামী সময়ের মধ্যেই এই বিমান শুধু দূরে উড়ে গিয়ে বোমা ফেলার জন্যই ব্যবহার করা হবে না, বরং মাঝারি পাল্লার দূরত্বে যুদ্ধের জন্যও ব্যবহার যোগ্য করা হবে.