বাইরে থেকে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বে সামরিক হস্তক্ষেপ করলে, তা আঞ্চলিক যুদ্ধে পরিণত হতে পারে, তার মধ্যে পারমানবিক অস্ত্র প্রয়োগের ভয়ও রয়েছে. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ সেন্ট পিটার্সবার্গে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক আইন সম্মেলনে.

দিমিত্রি মেদভেদেভ উল্লেখ করেছেন যে, রাষ্ট্রীয় আত্মনির্ভরতার উপরে বিগত কয়েক বছরে হস্তক্ষেপের উদাহরণ কিছু কম হয় নি, যথেষ্ট হবে শুধু ইরাক ও লিবিয়া মনে করলেই. প্রসঙ্গতঃ সেই সমস্ত “ভাল উদ্দেশ্য”, যা সামরিক অপারেশনের আগে করা হয়েছিল, তা কখনোই পূরণ করা হয় নি. বরং উল্টো, বাইরে থেকে আগ্রাসনের লক্ষ্য হয়েছে বহু দেশ – আর এগুলি স্বাধীন রাষ্ট্র, যারা সমস্ত রকমের আন্তর্জাতিক আইন সম্মত অধিকার প্রাপ্ত ছিল – তারাই মাত্স্যন্যায়ের শিকার হয়েছে, আর ক্ষমতা অনেক সময়েই চরমপন্থীদের হাতে গিয়ে পৌঁছেছে. প্রধানমন্ত্রী বলেছেন অথচ এরই মধ্যে রাষ্ট্রসঙ্ঘের চার্টার আহ্বান করে আইনের সর্বাগ্রে অধিকার ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করার জন্য.

রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের ধারণাকে অস্বচ্ছ করা উচিত্ নয়, যদি এটা করা হলে কোন তত্কালীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধিত হয়, তা হলেও. এটা বিশ্ব শৃঙ্খলার জন্যই বিপজ্জনক. আর সার্বভৌমত্বের দলিলে, বিগত কয়েক বছরে হস্তক্ষেপের উদাহরণ কিছু কম নেই. রাষ্ট্রসঙ্ঘকে এড়িয়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রের উপরে সামরিক অপারেশন করাই কি কিছু কম অন্যায়, শুধু এই কথা বলে যে, ওই বা সেই প্রশাসন তাদের আইন সম্মত হওয়া, আর বজায় রাখতে পারছে না. প্রসঙ্গতঃ এই ধরনের ঘোষণা করা হয়েছে বিদেশী রাষ্ট্রের তরফ থেকে, সেই দেশের জনগনের তরফ থেকে নয়, আন্তর্জাতিক সংগঠন গুলিকে এড়িয়ে নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা নেওয়া হচ্ছে. আর বিদেশী রাষ্ট্রে উপরে সামরিক অনুপ্রবেশ সাধারণত এক রকম ভাবেই শেষ হচ্ছে – ক্ষমতায় চরমপন্থীদের আসা দিয়ে.

দিমিত্রি মেদভেদেভ বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, সমস্ত জাতিই সমান দায়িত্ব রাখে সামগ্রিক নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য. সুতরাং, আন্তর্জাতিক ভাবে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ে সমস্ত পক্ষের মতামতকেই বিচার করা উচিত্, তিনি তাঁর বক্তব্যের শেষে যোগ করেছেন যে, তার মধ্যে ঐতিহাসিক, জাতীয়- সংস্কৃতির ঐতিহ্য ও দেশ গুলির ধর্মীয় বিশেষত্বও রয়েছে.

খুবই শীঘ্র আমেরিকার ক্যাম্প ডেভিডে অর্থনৈতিক ভাবে বড় আটটি দেশের শীর্ষ বৈঠকে বিশ্বের বাস্তব সমস্যা গুলি নিয়ে আলোচনা করা হবে. সিরিয়া সম্বন্ধে প্রশ্নও এই বৈঠকের আলোচ্যের তালিকায় রয়েছে. জানা আছে যে, মস্কো ও পশ্চিমের রাজধানী গুলির এই প্রসঙ্গে মত পার্থক্য রয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহকর্মী দেশ গুলি সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদের পদত্যাগ দাবী করেছে ও সরকারি ফৌজের তরফ থেকে শক্তি প্রয়োগ বন্ধ করার দাবী করেছে. রাশিয়া বিশ্বাস করে যে, অগ্নি, এই বিরোধের সমস্ত পক্ষেরই সম্বরণ করা উচিত্, যে বিরোধ এই দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়. কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেছেন যে, ক্যাম্প ডেভিডে এই সমস্যায় মনে হয় না, যে, কোন সর্ব সম্মত সমাধান খুঁজে পাওয়া যাবে. কিন্তু যে কোন রাজনৈতিক আলোচনাই নীরব বিরোধ অথবা পারস্পরিক দোষারোপের চেয়ে ভাল.