ব্রিটেন ও ইউরোপের পার্লামেন্টের সদস্যরা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার পারমানবিক শক্তি উত্পাদনের বিরোধীদের এক চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন, যা ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের নামে লেখা. চিঠিতে কুদানকুলাম পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের পরিবেশ দূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে ও দাবী করা হয়েছে এই পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের যারা বিরোধী, তাদের নামে পুলিশী ব্যবস্থা না নিতে ও মামলা না করতে. এই চিঠি দেওয়া হবে শুক্রবারে ভারতের লন্ডন দূতাবাসের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ করে. এই সম্বন্ধে লিখেছে “হিন্দু” সংবাদপত্র. বিষয়টি নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

 মে মাসের শুরুতে ভারতে রুশ সহযোগিতায় নির্মীয়মান পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র কুদানকুলামে সফল ভাবে সমস্ত রকমের ব্যবস্থার নিরাপত্তা পরীক্ষা শেষ হয়েছে. এমনকি বিপর্যয়ের পরিস্থিতির মডেল করা হয়েছিল, যখন রিয়্যাক্টর হঠাত্ বন্ধ হয়ে গেছে, তখনের অবস্থা ভেবে. এই স্টেশনের সমস্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাই কোন রকমের সন্দেহের অবকাশ না রেখেই কাজ করেছে নির্ভুল ভাবে. আমাদের শুধু বাকী আছে জ্বালানী ভরতে, যাতে রিয়্যাক্টর কাজ করতে শুরু করে, ঘোষণা করেছিলেন দেশের ক্যাবিনেটের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিমন্ত্রী নারায়নস্বামী. বাস্তবে এই পারমানবিক বিদ্যুতে কেন্দ্রের দ্বিতীয় রিয়্যাক্টর ইউনিটের কাজও শেষ হয়ে গিয়েছে.

 এই সবই অনেক আগেই ঘটতে পারত, যদি হঠাত্ করেই স্থানীয় জনগনের প্রতিবাদে কাজ বন্ধ না করতে হত, শুরু করতে হয়েছিল কেন্দ্রের অত্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা, সমস্ত রকমের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সূচক নিয়েই. তার ফলে ভারত ও রাশিয়ার নেতৃস্থানীয় পারমানবিক বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরা এক কথায় ব্যক্ত করেছেন যে, এই পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র সম্পূর্ণ নিরাপদ. প্রতিবাদের ঝড়ও কমে এসেছিল. তামিলনাডু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা জয়ারাম, যিনি এক সময়ে এই বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন, তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়ে দাবী করেছেন যে, এখানে তৈরী হওয়া সমস্ত শক্তি কেন্দ্রের পরিকল্পনা অনুযায়ী অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে ভাগ না করে দিয়ে শুধু তাঁর রাজ্যকেই দিতে হবে.

 সামাজিক- রাজনৈতিক গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর ভ্লাদিমির ইভসেয়েভ মনে করেন যে, কুদানকুলাম পারমানবিক কেন্দ্রকে ঘিরে যে “শোরগোল” তোলা হয়েছে, তা একেবারেই কল্পনা প্রসূত, তার অন্য লক্ষ্য রয়েছে, তিনি সেই সূত্রে বলেছেন:

 “আমি মনে করি যে, এই সমস্যা ভেবে বার করা, খুব সম্ভবতঃ নিজেদের স্বার্থ নিয়ে লবি করার জন্যই. প্রসঙ্গতঃ এই ধরনের লবি করার লোকেদের প্রচুর রসদ রয়েছে, যা তারা ব্যবহার করতে পারে, এমনকি তা ভারতের দেশের ভিতরেও. যদি ইউরোপ বা গ্রেট ব্রিটেন সম্বন্ধে বলতে হয়, তবে তা হল – তারা আগে নিজেদের দিকে দেখুক. যদি তারা নিজেদের দেশেই পারমানবিক রিয়্যাক্টর বন্ধ না করে থাকে, তবে কেন ভারতকে তা করতে বলছে”?

 ভারতের  জন্য এই বন্ধ হয়ে থাকার অনেক মাশুল গুনতে হয়েছে, প্রায় এক হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু, এখানে প্রধান হল খুবই দামী সময় নষ্ট হয়েছে. ফলে নতুন শিল্প ক্ষেত্র নির্মাণ সম্ভব হয় নি. বহু লক্ষ লোকই বিদ্যুত শক্তির অভাব বোধ করতে বাধ্য হয়েছে. ভারতের মন্ত্রীসভার প্রধান মনমোহন সিংহের কথায়, পারমানবিক শক্তি দেশের বিদ্যুত শক্তির চাহিদা পূরণের জন্য একমাত্র সম্ভাব্য উত্স. তাই প্রশাসন মনে করে যে, পারমানবিক বিদ্যুত উত্পাদনের জন্য প্রকল্প, তার মধ্যে রুশ – ভারত পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র কুদানকুলামও রয়েছে, হল প্রাথমিক.

 একই সময়ে ভারতের কেন্দ্রীয় অনুসন্ধান ব্যুরো উদ্ধার করেছে যে, কুদানকুলাম পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নিয়ে বিরোধের জন্য বিদেশ থেকে প্রায় ৭৫ লক্ষ ডলার পাঠানো হয়েছিল. সায়েন্স জার্নালকে সাক্ষাত্কার দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ উল্লেখ করেছেন যে, আমেরিকা ও অন্যান্য দেশের বেসরকারি সংস্থা পারমানবিক কেন্দ্রের বাইরে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ তৈরী করার সময়ে খেয়ালে রাখতে চায় না ভারতের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুত শক্তির চাহিদার বিষয়ে. এই কথা গুলিকে বোধহয় ব্রিটেনের পার্লামেন্ট সদস্যদের প্রতিও উল্লেখ করা যেতে পারে.