টোকিও পিয়ংইয়ং ও বেজিংয়ের উপরে নতুন করে তথ্য আক্রমণ শুরু করেছে. নাম গোত্রহীণ উত্স থেকে জাপানী সংবাদ মাধ্যমকে জানানো হয়েছে যে, উত্তর কোরিয়া, সম্ভবতঃ, মুসুদান অন্তরীপে ব্যালিস্টিক রকেট ছোঁড়ার জন্য নতুন উড়ান মঞ্চ তৈরী করছে. একই সঙ্গে চিন সম্ভবতঃ চাইছে উত্তর কোরিয়াকে নতুন করে পারমানবিক অস্ত্র পরীক্ষা বন্ধ করতে রাজী করাতে, যাতে তেজস্ক্রিয় বিকীরণ ছড়িয়ে না পড়ে.

 দুটি খবরই প্রমাণ সাপেক্ষ, আর এর অর্থ হল, তা আপাততঃ রয়েছে কানাঘুষা হিসাবেই. যদিও তা ছাড়া হয়েছে, কিন্তু, খুব লক্ষ্য নির্দিষ্ট করেই. পিয়ংইয়ং এর উপরে চাপ গত ১৩ই এপ্রিল, তাদের কৃত্রিম উপগ্রহ উড়ান অসফল হওয়ার পরে খুবই দ্রুত কমে গিয়েছে. তাই প্রয়োজন পড়েছে নতুন কোন উপায় বের করার, যাতে উত্তর কোরিয়ার রকেট- পারমানবিক বিপদ নিয়ে একটা ভয়ের বাতাবরণ রাখা সম্ভব হয়. একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ মাধ্যমে কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে তোলা উত্তর কোরিয়ার পরীক্ষা ক্ষেত্রের ছবি ছাপা হয়েছে, যেখানে ২০০৬ ও ২০০৯ সালে মাটির নীচে পারমানবিক অস্ত্র পরীক্ষা করা হয়েছিল. ফোটোর সঙ্গে গুপ্তচর সংস্থার মন্তব্য যোগ করা হয়েছে যে, সবই নতুন করে বিস্ফোরণের জন্য তৈরী. এই সবই হিসাব করে করা হয়েছে, যাতে সাধারন পাঠক একটা চকচকে মোড়ক দেখে আকৃষ্ট হয় ও একই সঙ্গে খুবই সন্দেহজনক গুণমানের একটা লজেন্স খেয়ে ফেলে.

 বাস্তবে উত্তর কোরিয়া খুবই সম্ভবতঃ কোন পারমানবিক হুমকির বাহক নয়, আর, মনে হয়েছে যে, কাগুজে বাঘ, - এই রকম মনে করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর সুদূর প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের কোরিয়া গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর আলেকজান্ডার ঝেবিন বলেছেন:

 “কৃত্রিম উপগ্রহের অসফল উড়ান দেখিয়ে দিয়েছে যে, উত্তর কোরিয়ার থেকে বিপদ আপাততঃ একটা স্পষ্ট আনুমানিক ব্যাপার হয়ে আছে. ভয়ের বাতাবরণ তৈরী করার প্রচেষ্টা – এটা বিভিন্ন দেশের প্রচেষ্টা, যাতে খুবই ভাল একটা পরিস্থিতি তৈরী হয়, সেখানে রকেট বিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরী করা চালিয়ে যাওয়া যায়, উত্তর পূর্ব এশিয়াতে অগ্রবর্তী ঘাঁটিতে সেনা বাহিনী রেখে দেওয়া যায়. ‘ঠাণ্ডা যুদ্ধ’ এর মধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে, কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সামরিক উপস্থিতি এশিয়াতে কমাতে চাইছে না. তার ওপরে, তারা সেখানে নতুন করে রকেট বিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সৃষ্টি করছে”.

 এর বহু অংশই এখন জাপানে বসানো হয়েছে – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামুদ্রিক জাহাজে. এশিয়ার রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থার অংশ সৃষ্টির জন্যই প্রয়োজন রকেট সম্বন্ধে বিপদের হুমকি. বর্তমান ক্ষেত্রে – এটা উত্তর কোরিয়ার তরফ থেকে. ধরে নেওয়া যাক যে, উত্তর কোরিয়া নিজেদের পারমানবিক পরীক্ষার ক্ষেত্র আধুনিক করছে, জাপানের সংবাদ মাধ্যম কোন রকমের প্রতিবাদ করার জায়গা না রেখেই ঘোষণা করে দিচ্ছে যে, সেখান থেকে রকেট সরাসরি জাপানের দিকেই শুধু উড়ে যাবে. আলেকজান্ডার ঝেবিন মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন উত্তর কোরিয়ার রকেট পরিকল্পনার বিকাশের গতির উপরে, তিনি বলেছেন:

 “এই বিষয়ে যে সমস্ত বিশেষজ্ঞ রয়েছেন, তাঁরা জোর দিয়ে বলে থাকেন যে, একটি রকেট তৈরী ও তার সফল উড়ানের জন্য সাধারণত দশ বার, এমনকি তার চেয়েও বেশী বার পরীক্ষা করার দরকার হয়ে থাকে. প্রসঙ্গতঃ এই গুলির মধ্যে কয়েকটি দেখাই যাচ্ছে যে, সফল হওয়া দরকার. উত্তর কোরিয়া রকেট পরীক্ষা করে থাকে প্রত্যেক তিন বছর বাদে. অর্থাত্, যাতে কেন অসফল হল তার সম্বন্ধে গবেষণা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করতে, তারপরে তা তৈরী করে আবার উড়ানের পরীক্ষা করতে উত্তর কোরিয়ার বিশেষজ্ঞদের লাগার কথা গড়ে তিন বছর. আর এর অর্থ হল, আন্তর্জাতিক সমাজের এখনও ১৫ বছরের বেশী সময় রয়েছে, যত দিনে উত্তর কোরিয়ার রকেট তৈরী হবে. আর এর মধ্যে যথেষ্ট সময় রয়েছে কূটনৈতিক উপায়ে এই সমস্যার সমাধান করার”.

 জাপান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার কূটনীতিজ্ঞরা, আগামী সপ্তাহে সিওলে উত্তর কোরিয়ার রকেট অসফল পরীক্ষার পরে প্রথম সেই দেশ নিয়ে এক বৈঠকে বসতে চলেছেন. এই পদক্ষেপ, সন্দেহ নেই যে, সময়োপোযোগী, আর তা সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ধরনের ধাক্কা দিতেই পারে. শুধু তা হতে পারে সেই ক্ষেত্রেই, যদি এই বৈঠক, শুধু আরও জোরে পিয়ংইয়ং এর “হাত মুচড়ে” ধরার ব্যবস্থা তৈরীর জন্য না হয় ও চিনের কাছ থেকে পিয়ংইয়ং এর উপরে চাপ বাড়ানোর জন্য না করা হয়.

 বৃহস্পতিবারে জাপানের টেলিভিশন কোম্পানী এনএইচকে জানিয়েছে, এই “ত্রয়ী” বেজিংয়ের উপরে চাপ বাড়াতে চায়. বৃহস্পতিবারেই জাপানের সংবাদপত্র “আসাহি সিমবুন” বেজিং ও পিয়ংইয়ং এর মধ্যে গোপন কথাবার্তার কানাঘুষা ছড়িয়েছে. তাতে চিন নাকি নিজেদের সহযোগীকে নতুন করে পারমানবিক পরীক্ষা না করতে আহ্বান করেছে, এই বিষয়ে যারা লিখেছেন, তাদের হিসাব পরিস্কার – যদি কোন অঘটন ঘটে, তবে সমস্ত দায়িত্ব চিনের উপরেই চাপিয়ে দেওয়া যাবে.