বিগত চল্লিশ বছরে বিশ্বের জৈব রসদের পরিমান একের তৃতীয়াংশ কমে গিয়েছে. এই বিষয়ে “জীবন্ত গ্রহ” নামের রিপোর্টে বলা হয়েছে, যা দুই বছরে একবার করে বিশ্ব বন্য প্রকৃতি সংরক্ষণ তহবিল (WWF) তৈরী করে থাকে. পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে, পরিস্থিতির পরিবর্তন করতে হলে “জীবন্ত প্রকৃতিকে অর্থনৈতিক রাজনীতির কেন্দ্রে স্থাপন করতে হবে, তা যেন ব্যবসার মডেল হয় ও জীবনযাত্রার ধরণ হয়”.

 আমরা আমাদের পৃথিবীতে যে পরিবেশগত চিহ্ন রেখে যাচ্ছি, তা বর্তমানে লক্ষ্যণীয় হয়েছে জনসংখ্যার বৃদ্ধিতে ও প্রবল ভাবে খরচ করা দিয়ে. পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালে বিশ্বের জনসংখ্যা বেড়ে হবে ৯- ১০ বিলিয়ন লোক. প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার নিয়ে যা বলা যেতে পারে, তা হল এই রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৯৬৬ সাল থেকে সেটা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে. আজ আমরা নিজেদের কাজ কর্ম চালানোর জন্য গ্রহের অনুপাতে দেড় গুণ বেশী রসদ ব্যবহার করছি, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার বন্য প্রকৃতি সংরক্ষণ তহবিলের ডিরেক্টর ও একাডেমিশিয়ান ইগর চেস্তিন বলেছেন:

 “আমরা বিশ্বের এই কাজের ক্ষতিপূরণ করার ক্ষমতার চেয়ে বেশী ব্যবহার করছি. ১৯৯৮ সালে, যখন প্রথম রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছিল, তারপর থেকে জীবন্ত প্রকৃতির সূচক কমেছে শতকরা কুড়ি ভাগ. অন্য কথায় বলতে হলে, আমাদের জীবনের কাজ কারবারের ফলে সেই সমস্ত দূষণ, যা আমরা তৈরী করছি, তাতে পরিবেশের উপরে যে ক্ষত তৈরী হয়েছে, তা আমাদের জৈব পরিবেশের পক্ষে পূরণ করার ক্ষমতার চেয়ে বেশী. সুতরাং তখন পরিবেশের ক্ষমতার চেয়ে শতকরা তিরিশ ভাগ বেশী ছিল ক্ষতি, আর তা এখন হয়েছে শতকরা পঞ্চাশ ভাগ. সারা বিশ্ব জুড়েই পরিস্থিতি মোটেও খুব ভাল ভাবে বিকাশ হচ্ছে না”.

 বিশ্বের পরিবেশ ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় গ্রাহক ও দূষণ সৃষ্টিকারী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র. “যদি সারা বিশ্ব সেই হারে প্রকৃতির রসদ ব্যবহার করত, যা আমেরিকার লোকরা করছে, তবে পরিবেশের ভারসাম্য রাখার জন্য দরকার হত পাঁচটি পৃথিবীর মতো গ্রহ”, - এই কথাই লেখা হয়েছে রিপোর্টে. আর জনপ্রতি প্রকৃতির রসদের অপচয় নিয়ে বিশ্বের দেশ গুলির যে তালিকা দেওয়া হয়েছে, তাতে প্রথম স্থানে রয়েছে কাতার, তারপরে কুয়েইত, সংযুক্ত আরব আমীর শাহী, ডেনমার্ক, আর তারপরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র. রাশিয়া এই তালিকায় ৩৩-তম দেশ. তাছাড়া, আমরা ইউরোপের এক ধরনের পরিবেশ ক্ষেত্রে দাতাও বটে, এই কথাই বিশেষ করে উল্লেখ করে একাডেমিশিয়ান চেস্তিন বলেছেন:

 “ইউরোপের দেশ গুলির প্রকৃতির রসদ ব্যবহারের ফলে ও তার থেকে উত্পাদিত দূষিত বর্জ্যের ক্ষতিপূরণের ক্ষমতা হল ইউরোপের দেশ গুলির জনপ্রতি হেক্টর জমির ২, ২৪ শতাংশ, আর আমাদের জনপ্রতি ৬, ৬২ শতাংশ. এর মানে হল যে, আমরা দাতা. অর্থাত্ আমাদের দেশের কার্বন- ডাই অক্সাইড ধরনের গ্যাস থেকে দূষণ শোষণ করা ও পুনরায় উত্পাদন যোগ্য জৈব রসদ উত্পাদনের ক্ষমতা আমাদের দেশের প্রত্যেক মানুষ গড়ে বিশ্বে যে ক্ষত তৈরী করছে, তার থেকে দেড় গুণ বেশী রয়েছে”.

 বিশ্ব বন্য প্রকৃতি সংরক্ষণ তহবিলের তৈরী করা “একই গ্রহের নীতি” প্রস্তাব করেছে প্রকৃতির মূল ধনকে বিশ্বের ক্ষমতার বাইরে না বেরিয়ে গিয়ে ব্যবহার করতে. যাতে এটা করা সম্ভব হয়, তাই বিশ্বের উচিত্ হবে উত্পাদন ও ব্যবহারের কাঠামো পাল্টানোর – রসদ ও জ্বালানী প্রয়োগের আধিক্য যেখানে প্রয়োজন, সেই ধরনের কাঁচা মাল ব্যবহার থেকে বিরত হওয়া, গ্রীন হাউস এফেক্ট কমানো, বিশ্বের পরিবেশ ব্যবস্থার অখণ্ডতা রক্ষা করা. বাস্তবে, তহবিলের রিপোর্ট প্রস্তাব করেছে জীবন্ত প্রকৃতিকে এবারে অর্থনৈতিক রাজনীতির কেন্দ্র করতে, যা ব্যবসার মডেল হতে পারে, এই কথা উল্লেখ করে মস্কোর রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও প্রকৃতি ব্যবহার বিভাগের প্রফেসর সের্গেই ববীলিওভ বলেছেন:

 “প্রগতির নূতন মান নির্ণয়ের চেষ্টার সঙ্গে, করা হচ্ছে নতুন অর্থনীতি কি তার সংজ্ঞা দেওয়ার. এখন নতুন ও সুন্দর শব্দ চয়ন রয়েছে – “সবুজ অর্থনীতি”, সমস্ত রাষ্ট্রসঙ্ঘের রিপোর্ট ও প্রকল্প উত্সর্গ করা হয়েছে সবুজ অর্থনীতির জন্য. এখন সবচেয়ে প্রধান হল – “সবুজ বেড়ে ওঠা”. মানব সমাজ চেষ্টা করছে বের করতে সেই উপায়, যে তার কি করা দরকার, কিভাবে বিকাশের প্রয়োজন, যাতে জৈব পরিবেশের সম্ভাবনার মধ্যেই থাকা সম্ভব হয়, অর্থনীতিতে পরিবর্তন করে”.

 সেই বিষয়ে ধারণা, যে প্রগতি কি, তা আজ পাল্টেছে. তার সত্যিকারের মাপ হয়েছে পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত উপাদান. বিশ্ব বন্য প্রকৃতি সংরক্ষণ তহবিল বিশ্বের দেশ গুলির প্রশাসনকে আহ্বান করেছে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিবেশগত বিকাশে স্থিতিশীলতা আনার. “আমরা আমাদের তৈরী করা ক্ষত কমাতে পারি, অল্প রসদ থেকে বেশী উত্পাদন করে ও কম ব্যবহার করে, তা ফলপ্রসূ ও বুদ্ধি বিবেচনার সঙ্গে করে”, - এই বিষয়েই বিশ্ব বন্য প্রকৃতি তহবিলে বিশ্বাস করা হয়. এটা আমাদের গ্রহকে জীবন্ত রাখতে দেবে.