ন্যাটো জোটের নেতৃত্ব চিকাগো শহরের শীর্ষবৈঠকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে. পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন ও তৈরী হচ্ছেন যখন আফগানিস্তানের সমস্যা নিয়ে আলোচনা হবে, তখন চিকাগো যাওয়ার জন্য.

 মনে হতে পারে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান ঠিক করেছে আগের সহযোগী সম্পর্কে ফিরে আসার, কিন্তু এটা তা নয়. বরং এটাকে হিসেব করে বিয়ে করা বলা যেতে পারে. ওয়াশিংটনের দরকার আফগানিস্তানে হেরে যাওয়া যুদ্ধ সসম্মানে শেষ করার, আর এই ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সহযোগিতা খুবই প্রয়োজন. পাকিস্তানের প্রয়োজন হল আমেরিকার অর্থনৈতিক সাহায্য – রাষ্ট্রের ভাণ্ডার লক্ষ্যণীয় ভাবে শুকিয়ে গিয়েছে. এর জন্য দেশের প্রশাসন তৈরী আছে দেশের বেশীর ভাগ লোকের আমেরিকা বিরোধী ও ন্যাটো বিরোধী মানসিকতাকে উপেক্ষা করতে ও সেই নিয়ে চোখ বন্ধ করে রাখতে যে, আমেরিকা- পাকিস্তান সম্পর্ক ঠিক করার জন্য প্রধান শর্তই পালিত হয় নি, যা পাকিস্তানের পার্লামেন্ট থেকে দাবী করা হয়েছিল. কিন্তু আমেরিকা- পাকিস্তান সম্পর্কে সঙ্কটের প্রধান কারণ গুলি কোথাও হারিয়ে যায় নি, তাই মনে করে রাজনৈতিক পরিকাঠামো গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর সের্গেই মিখিয়েভ বলেছেন:

 “আমেরিকার লোকরা পাকিস্তানের উপরে সেই কারণে চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে, যাতে নিজেদের স্বার্থের ধারাতেই ওদের রেখে দেওয়া যায়. এটা পাকিস্তানেও বিরক্তির কারণ হয়েছে. এই প্রক্রিয়া খুবই মন্দ গতিতে চলছে, কিন্তু সব মিলিয়ে পাকিস্তান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক জটিল হওয়ার প্রবণতাই দেখা যাচ্ছে”.

 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেই পাকিস্তানের ব্লক পোস্টের উপরে ন্যাটো জোটের হেলিকপ্টারের আঘাত হানা ও ২৪ জন সীমান্ত রক্ষী নিহত হওয়ার ঘটনায় কোন ক্ষমা প্রার্থনা করে নি. পাকিস্তানের এলাকায় নিজেদের ড্রোন হামলাও তারা বন্ধ করে নি. দুই পক্ষই পাকিস্তানের এলাকা দিয়ে আফগানিস্তানে ন্যাটো জোটের সৈন্য বাহিনীর জন্য রসদ পাঠানোর বিষয়েও কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে নি. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি মুখপাত্র ভিক্টোরিয়া ন্যুল্যান্ডের কথামতো, এখনও কিছু কার্যকরী বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই গিয়েছে. কিন্তু এটা তা নয়. পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা পরিষদ ন্যাটো জোটের আফগানিস্তানে রসদ সরবরাহের জন্য ট্রানজিটের রাস্তা খুলে দেওয়ার প্রস্তাব সমর্থন করেছে সেই শর্তে যে, এটা অসামরিক মালপত্র হবে. কিন্তু আমেরিকার লোকরা বোধহয় এই শর্ত পূরণ করতে ইচ্ছুক নয়.

 পাকিস্তানের ধর্মীয় ও জাতীয়তাবাদী শক্তিরাও খুবই মার্কিন ও ন্যাটো বিরোধী. বেশ কিছু পশ্চিমের দূতাবাসে, যাদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, গ্রেট ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মতো ন্যাটো জোটের হয়ে সক্রিয় ভাবে যুদ্ধে লিপ্ত দেশ রয়েছে, ইসলামাবাদে হুমকি সহ চিঠি এসেছে. প্রতিটি চিঠির মধ্যে পাঁচ গ্রাম করে অজানা ধরনের কালো গুঁড়ো জিনিস ছিল. চিঠিতে লেখা রয়েছে যে, এই কালো গুঁড়ো হল বিষের নমুনা, যা দিয়ে ন্যাটো জোটের আফগানিস্তানে থাকা সেনাদের খাবার জিনিস বিষাক্ত করা হবে, যদি পাকিস্তান জোটের শক্তির জন্য সরবরাহের রাস্তা খুলে দেয়.

 আফগানিস্তানে ন্যাটো জোটের অপারেশনের দশক ধরে তৈরী হওয়া খুবই শক্তিশালী আমেরিকা বিরোধী মনোভাব এক মুহূর্তে উবে যেতে পারে না. আর এটাকে যে ভাবেই হোক ধর্তব্যের মধ্যে আনতে হবে.