সিরিয়ার প্রশাসন রাজনৈতিক সংশোধন চালিয়ে যেতে ইচ্ছুক. গত কয়েক মাস আগে শুরু করার পরে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করতে চায়, যারা মে মাসের পার্লামেন্ট নির্বাচনের পরে দেশের আইন প্রণয়নের সভায় এসেছে এবং সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যেতে চায়. এই বিষয়ে “রাশিয়া- ২৪” টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ঘোষণা করেছেন সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদ. সাক্ষাত্কারের সময়ে তিনি একই সঙ্গে পশ্চিমের দেশগুলিকে আহ্বান করেছেন সমস্ত রকমের শক্তি প্রয়োগের সমালোচনা করতে, যা বিরোধীরা করছে ও রাষ্ট্রসঙ্ঘ ও আরব লীগের বিশেষ প্রতিনিধি কোফি আন্নানের মাধ্যমে তিনি এই কথাই বিশ্ব সমাজকে জানাকে চেয়েছেন.

সিরিয়াতে পরিস্থিতি আগের মতই অস্থিতিশীল রয়েছে. নিয়মিত ভাবেই বিভিন্ন শহরে চলছে সরকার বিরোধী মিছিল- মিটিং, সিরিয়ার সেনা বাহিনী ও বিরোধী পক্ষের শক্তির মধ্যে চলছে সশস্ত্র সংঘর্ষ, সন্ত্রাসবাদী কাণ্ড, যা হওয়ার ফলে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই নিহত হচ্ছেন শান্তিপ্রিয় জনগন. আর তা স্বত্ত্বেও প্রথম লক্ষণ চোখে পড়ছে এখনই যাকে বলা যেতে পারে, শান্তিপূর্ণ জীবন. মে মাসের শুরুতে হওয়া পার্লামেন্ট নির্বাচনে দেখা গিয়েছে যে, বেশীর ভাগ দেশের মানুষই তাঁদের ভোট দিয়েছেন সরকারের পক্ষের ব্লক “জাতীয় ঐক্য” গোষ্ঠীর জন্য, আর এর অর্থ হল – জনগন বর্তমানের প্রশাসনকেই সমর্থন করে. কিন্তু দেশের নতুন পার্লামেন্টে সরকার চায় সকলের সঙ্গেই আলোচনা করতে, যারা তাতে প্রবেশ অধিকার পেয়েছে, যদিও কিছু বিরোধী পক্ষের প্রতিনিধি ঘোষণা করেছেন যে, তাঁরা জনগনের এই সভা থেকে পদত্যাগ করবেন, এই কথা উল্লেখ করে টেলিভিশন চ্যানেলের সাক্ষাত্কারে বাশার আসাদ বলেছেন:

“এটা খুবই সাধারন প্রক্রিয়া. প্রত্যেকের আমাদের নির্বাচন কেমন হয়েছে, তা নিয়ে নিজস্ব দৃষ্টিকোণ রয়েছে. খুব সম্ভবতঃ, তাদের নির্বাচন সংক্রান্ত আইন পছন্দ হয় নি. কিন্তু এটাও আমরা তাদের সঙ্গে পরবর্তী কালে আলোচনা করতে রাজী আছি. এখন আমাদের নতুন পার্লামেন্ট হবে. আর আমরা পরিকল্পনা করেছি তাতে সরাসরি বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে কথা বলার. আমরা রাজনৈতিক সংশোধনের কাজও চালিয়ে যাবো. আর রাজনৈতিক আলোচনার সময়ে, যাকে জাতীয় আলোচনা বলা যাবে, আমরা ঠিক করেছি প্রত্যেক আইন নিয়েই আলোচনা করার, যা সঙ্কটের সময়ে গ্রহণ করা হয়েছে ও এমনকি দেশের সংবিধান নিয়েও”.

একই সঙ্গে প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ হতে পারে শুধু ঘোষিত সংশোধনই নয়, বরং সন্ত্রাসের সঙ্গে লড়াই করাও, তাই সাক্ষাত্কারে বাশার আসাদ বিশেষ করে উল্লেখ করে বলেছেন:

“বর্তমানে সিরিয়াতে খুবই তীক্ষ্ণ ভাবে সন্ত্রাসের সঙ্গে লড়াই সমস্যা হয়েছে. কারও মনে হতে পারে, আমরা আগে যদি রাজনৈতিক সংশোধন করতাম, তাহলে হয়ত এখন পরিস্থিতি ভাল হতে পারত. কিন্তু সন্ত্রাসবাদীদের সংশোধনে কিছু যায় আসে না, তারা যুদ্ধ করছে শুধু ভয় সৃষ্টি করার জন্যই”.

তথাকথিত স্বাধীন সিরিয়ার সেনাবাহিনীর তরফ থেকেও সশস্ত্র হানা চালু রয়েছে. কিন্তু এই সংজ্ঞা এই ধরনের সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে একেবারেই খাপ খেতে পারে না বলেই মনে করে বাশার আসাদ বলেছেন:

“প্রাথমিক ভাবে এটা কোন সামরিক বাহিনী নয়. আর তারা স্বাধীনও নয়. তাদের অস্ত্র ও অর্থ যোগান দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন দেশ থেকে. এটা দাগী আসামীদের একটা ঘোঁট, যারা বহু বছর ধরে আইন ভঙ্গ করে এসেছে ও বিভিন্ন ধারায় অভিযুক্ত সাব্যস্ত হয়েছে আদালতের চোখে. সেখানে “আল- কায়দা” গোষ্ঠীর মত ধর্মমত নিয়ে চরমপন্থীরাও রয়েছে. আমি শুধু এই গোষ্ঠীর  কথাই বলছি না, বরং এই সব লোকের চিন্তাধারার কথাও বলছি. আর তারই সঙ্গে রয়েছে বিদেশী ভাড়া করা সেনা. তাদের অনেকেই ধরা পড়েছে. আর আমরা তাদের বিশ্ব সমাজের সামনে উপস্থিত করতে চাই”.

এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে সিরিয়াতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রথম পর্যবেক্ষক দল এসে পৌঁছেছে. তারা সেই বিষয়েই লক্ষ্য করছেন যে, কি ভাবে কোফি আন্নানের সিরিয়া সঙ্কট সমাধানের বিষয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী “অগ্নি সম্বরণের” সমঝোতা পালন করা হচ্ছে. যদিও সিরিয়াতে ঘোষিত রয়েছে শান্তি, তবুও যেমন বিরোধী পক্ষ, তেমনই সেনা বাহিনী নিয়মিত ভাবেই নতুন সংঘর্ষ ও ক্ষতিগ্রস্তদের সম্বন্ধে জানান দিচ্ছে.