কর্ম সংস্থানের জন্য সবচেয়ে বড় এক ইন্টারনেট পোর্টালের থেকে জনমত সংগ্রহের প্রচেষ্টার পরে দেখা গিয়েছে যে, রাশিয়ার লোকরা সবচেয়ে সম্মানীয় ও সামাজিক ভাবে সংজ্ঞাবহ বলে মনে করেছেন শিক্ষক ও চিকিত্সকদের পেশা. চিকিত্সকদের পক্ষে এই জনমতে যারা অংশ নিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেক তৃতীয় ব্যক্তিই ভোট দিয়েছেন, আর শিক্ষকদের পক্ষে শতকরা ১৩ ভাগ ব্যক্তি ভোট দিয়েছেন. অন্য সব পেশাই এই তালিকাতে অনেক দূরে রয়েছে.

পরিসংখ্যানের তথ্য অনুযায়ী, বেশীর ভাগ রাশিয়ার লোকই সাদা অ্যাপ্রন পরিহিত লোকদের প্রতি একটা সমীহের ভাব বোধ করেন. তাঁদের মনে হয়েছে যে, চিকিত্সক মানে যাঁরা অন্যের প্রতি দয়াবান ও নিজেদের স্বার্থ ত্যাগ করেই কাজ করেন. বেশীর ভাগ লোক, যাদের কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তাঁরা মনে করেছেন যে, চিকিত্সকরা শুধু মানুষের জীবনই বাঁচান না, বরং খুবই পরিশ্রম করে কাজ করেন খুবই স্বল্প পারিশ্রমিকের বিনিময়ে. তবে এই কথাও সত্য যে, কিছু লোক মত দেওয়ার ব্যাপারে কিছু আধুনিক চিকিত্সকদের প্রতি অবিশ্বাস দেখিয়েছেন. কখনও তাঁদের মধ্যে সত্যই, কিছু বিবেকহীন লোক দেখতে পাওয়া যায়, যাদের কাজকর্ম পেশাদারীত্বের থেকে বহু দূরে.

এই প্রশ্নোত্তরের সময়ে দ্বিতীয় জায়গা পেয়েছেন শিক্ষক- শিক্ষিকারা. রাশিয়ার মানুষ মনে করেন যে, শিক্ষা দেওয়া, এটা খুবই কঠিন পরিশ্রম, যা শুধু পেশাদার জ্ঞানই দাবী করে না, বরং দাবী করে, ধৈর্য, দয়া, বিজ্ঞতা ও শিশুদের প্রতি ভালবাসা. “এই বিশ্বকে মানুষ কিভাবে নেবে, তার অনেকখানিই নির্ভর করে সেই শিক্ষকের দেওয়া শিক্ষার উপরে, যে তার প্রথম শিক্ষক ছিল”. এই কথা, যা একজন উত্তরদাতা উচ্চারণ করেছেন, তা মনে হয় সবচেয়ে প্রসারিত ভাবে সংজ্ঞা দিতে পারে শিক্ষকের পেশার সমস্ত গুরুত্ব ও দায়িত্বের উপরে.

সামরিক বাহিনীর লোক, হিসাব পরীক্ষক, মহাকাশচারী, উকিল, এই ধরনের ও অন্য অনেক পেশাই এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পেরেছে, কিন্তু এর প্রত্যেকটিই শতকরা তিন শতাংশের বেশী ভোট পায় নি. আর তা মোটেও এই কারণে নয় যে, তার প্রতি কেউ সম্মান করে না. স্রেফ চিকিত্সক ও শিক্ষকরা রাশিয়ার জনতার মতে সবচেয়ে মানবিক ও প্রত্যেকের জন্যই প্রয়োজনীয় পেশা বলে মনে করেছেন.

কিন্তু সম্মানীয় পেশা – এটা শুধু প্রশ্নের একটি দিক. রাশিয়াতে আজকের দিনে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বলে কোন পেশাকে মনে করা হয়েছে? এই অল্প কয়েকদিন আগেও সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন হয়েছিল ব্যাঙ্কের কর্মীদের পেশায় লোকের অভাব. কিন্তু আজ, যেহেতু ব্যাঙ্ক গুলি একে অপরের সঙ্গে এক হয়ে মিলে যাচ্ছে, তখন এই সব ক্ষেত্রে প্রয়োজন শুধু খুবই উচ্চ প্রশিক্ষিত পেশাদার লোকরা. সদ্য পাশ করা বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞদের এই ক্ষেত্রে কোন রকমের মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো ক্যারিয়ার করতে পারা আর সম্ভব হবে না.

কর্ম সংস্থান করে দেওয়ার এজেন্সী গুলির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে সেই সমস্ত পেশায় কম লোক ও প্রয়োজন দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, যা উত্পাদনের সঙ্গে জড়িত – ইঞ্জিনিয়ার ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ. এই দিকেই কর্ম সংস্থান বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বর্তমানে যুব সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন. তাঁরা বিশ্বাস করেন যে, আগামী ৫ – ১০ বছরে এই ক্ষেত্রে প্রচুর কাজের সম্ভাবনা রয়েছে. আর যদি ইঞ্জিনিয়ারের পেশার সঙ্গে বিদেশী ভাষা জানা যোগ করা হয়, তবে যেমন সম্মান জনক কাজের জায়গা পাওয়ার আশা করা যেতে পারে, তেমনই খুবই ভাল রকমের মাইনে পাওয়া যেতে পারে. কারণ কাজের উপযুক্ত পেশাদার লোকের জন্য, যিনি আবার বিদেশী ভাষায় পারঙ্গম, তার সঙ্গে শুধু এই বিষয়ে কাজ ভাল জানা লোকের মাইনের তুলনা হতে পারে না. কর্ম সংস্থান করে দেওয়ার এজেন্সীর প্রতিনিধিদের কথামতো, ইঞ্জিনিয়ারিং – প্রযুক্তি সংক্রান্ত শিক্ষা ও বিদেশী ভাষা জানা – এটা ভবিষ্যতে ভাল ক্যারিয়ার করার জন্য একটা মূলধন হতেই পারে.