ন্যাটো মধ্য এশিয়াতে নিজেদের পিছনের দিক মজবুত করছে. ন্যাটো জোটের সদস্য দেশগুলির সম্মেলনে অংশ নেবে কাজাখস্থান, কিরগিজিয়া, উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্থান. ব্রাসেলস শহরে আশা করা হয়েছে এই সব দেশগুলির সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির, এখন তা শুধু মাল ট্রানজিট বিষয়েই সীমাবদ্ধ. বিশেষজ্ঞরা বলেছেন এই বিষয়ে আদর্শ হবে যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের জোটের লোকরা চাইছে এই অঞ্চলে সামরিক ঘাঁটি তৈরী করতে ও রাশিয়া আর চিনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে.

 ন্যাটো জোটের আগামী শীর্ষ বৈঠকে (তা হতে চলেছে ২০ ও ২১শে মে চিকাগো শহরে) মধ্য এশিয়ার দেশগুলির দিকে জোটের রাজনীতিতে এই মধ্য এশিয়ার দেশ গুলির সম্বন্ধে নতুন লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করা হবে. এক বিশেষ অধিবেশনে, যা আফগানিস্তান নিয়ে করা হতে চলেছে, তাতে এই প্রথমবার ডাকা হয়েছে কাজাখস্থান, কিরগিজিয়া, উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্তানের রাষ্ট্রপতিদের. এই সব দেশ দিয়েই আফগানিস্তানে থাকা ন্যাটো জোটের সেনা বাহিনীর জন্য মাল ট্রানজিট করে পাঠানো হয়ে থাকে. আর উত্তর অতলান্তিক জোটে গোপন করা হয় নি যে, তারা চায় খুবই সক্রিয়ভাবে আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্তবর্তী দেশ গুলিতে নিজেদের সামরিক বাহিনীর ঘাঁটি তৈরী করতে. এই কথা বুঝতে পেরেছেন উপরোল্লিখিত দেশ গুলির নেতারাও, তাদের কাজ হল – নিজেদের জন্য যত সম্ভব লাভজনক শর্ত তৈরী করা, এই কথা মনে করে রাজনীতিবিদ ও “ফেরগানা.রু” সাইটের প্রধান সম্পাদক দানিল কিসলভ বলেছেন:

 “তথাকথিত উত্তরের পথে খুবই বেশী করে কাজ করা হচ্ছে উজবেকিস্তানের সঙ্গে, তাদের সঙ্গে কিরগিজিয়া, তাজিকিস্থান ও তুর্কমেনিয়াও রয়েছে. এই প্রশ্নের চারপাশ ঘিরেই, সেই সমস্ত অর্থ ও সুবিধা, যা ন্যাটো জোট দিতে পারে, এই সব মধ্য এশিয়ার দেশ গুলিকে, তাদের এলাকার স্থল পথের সক্রিয় ব্যবহার করে নিজেদের সাঁজোয়া গাড়ী ও সেনা বাহিনী আফগানিস্তান থেকে আনা নেওয়ার ব্যাপারে, তা নিয়েই হতে চলেছে সবচেয়ে প্রসারিত আলোচনা”.

 ন্যাটো জোট পোষাকী ভাবে তাদের শীর্ষ সম্মেলনে এই সব দেশের রাষ্ট্রপতিদের আহ্বান করেছিল – এঁরা হলেন নুরসুলতান নাজারবায়েভ, আলমাজবেক আতামবায়েভ, এমোমালি রাখমোন ও ইসলাম কারিমভ. কিন্তু তাঁরা সেই খানে যাবেন না. শীর্ষ সম্মেলনে প্রজাতন্ত্র গুলি থেকে পাঠানো হচ্ছে দেশগুলির পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধানদের. আর এতে রয়েছে একটা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নিরুচ্চারিত বাক্য. এক দিকে – আমেরিকার লোকদের পক্ষে সম্ভব হবে সেই সমস্ত প্রশাসকের সঙ্গে হাত মেলানোর অভিযোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার – যাদের পশ্চিমে অনেক সময়েই মনে করা হয়েছে ও নাম দেওয়া হয়েছে “স্বৈরতন্ত্রী” বলে. আবার অন্য দিকে – রাষ্ট্রপতিরা নিজেরাই সেই পরিস্থিতি এড়িয়ে চলতে পারেন, যখন তাঁরা নিজেরা প্রতিদ্বন্দ্বী সামরিক জোটে নিজেরাই সামিল রয়েছেন – এই চারটি প্রজাতন্ত্রই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সংস্থা ও সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশ. আর এই ধরনের ন্যাটোতে টানার চেষ্টার প্রতি কাজাখস্থান, কিরগিজিয়া, উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্তানের সহানুভূতি মস্কো ও বেজিংয়ের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে. বাস্তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর অতলান্তিক জোট চেষ্টা করছে রাশিয়া ও চিনের ঐতিহ্য গত ভাবে নিজেদের প্রভাবের এলাকায় গেড়ে বসার, এই কথা মনে করে স্ট্র্যাটেজিক মূল্যায়ন ও পূর্বাভাস কেন্দ্রের প্রধান সের্গেই গ্রিনিয়ায়েভ বলেছেন:

 “ন্যাটো বহু দিন ধরেই মধ্য এশিয়ার দেশগুলির প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে. এটা আজ থেকে দশ বছর আগেও দেখানো হয়েছিল, যখন ন্যাটোর ঘাঁটি প্রথম মধ্য এশিয়ার দেশ গুলিতে উদ্ভব হয়েছিল. এখন, আমি মনে করি যে, এই প্রক্রিয়াকে চেষ্টা করা হচ্ছে একটা সংস্থার মঞ্চে উপস্থিতি করার, যাতে, মধ্য এশিয়ার দেশ গুলিকে জোটের সম্ভাব্য সদস্য হিসাবে দেখা যেতে পারে. শেষ যে অনুষ্ঠান যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সংস্থার হয়েছে, তা ন্যাটো জোটের কিছু বিরক্তির কারণ হয়েছে, কারণ, তারা এই সংস্থার প্রভাবের জায়গাকেই ন্যাটো জোটের সম্ভাব্য প্রসারের জন্য দায়ী এলাকা বলে মনে করেছে”.