২১শে মে আবার বৈঠকে বসা হবে বলে সমঝোতায় এসে মঙ্গলবারে ভিয়েনাতে ইরানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার বৈঠক শেষ হয়েছে, আলোচনা করা হয়েছে পারস্পরিক ভাবে শুভেচ্ছা বিনিময়ের আবহাওয়াতে ও মতামত বিনিময় হয়েছে ভালই. সংস্থা চাইছে ইরানের কাছ থেকে প্রমাণ, যা দিয়ে বোঝা যাবে তাদের পারমানবিক পরিকল্পনায় সামরিক কোন লক্ষ্য নেই, আর শান্তিপূর্ণ চরিত্র নিয়ে সমস্ত রকমের সন্দেহ দূর করতে. ইরান ও আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি সংস্থার আলোচনাই বাগদাদে ইরান ও ছয় মধ্যস্থতাকারী দেশের (রাষ্ট্রসঙ্ঘের পাঁচ স্থায়ী সদস্য ও জার্মানী) বৈঠকের মানসিকতা নির্ধারণ করবে, যা হবে আগামী ২৩শে মে.

আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ঘোষণা করেছে যে, ভিয়েনা রাউণ্ডের আলোচনার ক্ষেত্রে পারচিন পারমানবিক কেন্দ্রে পর্যবেক্ষক দের প্রবেশের অধিকার হবে প্রধান বিষয়. এই সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী সেখানে বিশাল একটি স্তম্ভ আকৃতির ঘর রয়েছে, যেখানে মনে করা হয়েছে যে, নিউট্রন বিস্ফোরক পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে – যা পারমানবিক বোমার অংশ. কোন পক্ষই নির্দিষ্ট করে বলে নি যে, ইরান সামরিক ঘাঁটি পরীক্ষা করে দেখার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে কি না, যা এই সংস্থার পক্ষ থেকে এর আগের জানুয়ারী ও ফেব্রুয়ারী মাসের রাউণ্ডে দাবী করা হয়েছিল. কিন্তু পারচিন নিয়ে সমস্যা কোন না কোন ভাবে সমাধান করাই হচ্ছে, এই রকম ধারণা করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা কেন্দ্রের বিশ্লেষক আঝদার কুরতভ বলেছেন:

“আমি মনে করি না যে, ইরানের লোকরা খুব বেশী দিন গোঁ ধরে থাকবে. তারা বলেছে, খুব সম্ভবতঃ এই যে, পর্যবেক্ষণের শর্ত হওয়া উচিত্ একেবারেই স্বচ্ছ আর সেই সব লোক, যারা পর্যবেক্ষক হয়ে আসবে, তারা যেন সত্যই আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি সংস্থার পর্যবেক্ষক হয় অথবা কোনও সামাজিক সংস্থার লোক হয়, যারা কোন দেশের বিশেষ পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত লোক নয়”.

এরই সঙ্গে ইউরোপীয় সঙ্ঘের পক্ষ থেকে পরস্পর অভিমুখী লক্ষ্য হতে পারত, যেমন, নিষেধাজ্ঞা ঢিলে করা. কারণ ইরানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি সংস্থার সম্পর্ক অনেকটাই নির্ভর করে সব মিলিয়ে তাদের পশ্চিমের সঙ্গে খুব একটা সহজ সম্পর্ক নয় বলেই. যদিও আমরা ভুলে যাবো না যে, আরও একটি বাধা রয়েছে: বর্তমানের আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রধানের ইরান সম্বন্ধে আগে থেকেই ধরে নেওয়া ধারণা রয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে সামাজিক- রাজনৈতিক গবেষণা সংস্থার ডিরেক্টর ভ্লাদিমির ইভসেয়েভ বলেছেন:

“যদি আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি সংস্থার নেতৃত্ব আরও বেশী বাস্তব মুখী হত, যেমন ছিল আল- বারাদেইয়ের সময়ে, তাহলে ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা সমাধান সহজ হত. বর্তমানের ইউকিও আমানোর নেতৃত্বে যে সংস্থা রয়েছে, তা খুবই রাজনীতি গত ভাবে একদেশদর্শী. এখানে কোন প্রগতি করা খুবই কঠিন”.

পক্ষ গুলির চাই দীর্ঘ সময়, যাতে কোন রকমের সহমতে পৌঁছনো সম্ভব হয়, এর সঙ্গে একমত হয়ে প্রাচ্য বিশারদ বরিস দোলগভ বলেছেন:

“আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ও ইরানের মধ্য আলোচনা – এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা. কিন্তু আমার মনে হয় যে, কোন নির্দিষ্ট ফলাফল, তার ওপরে একেবারে ভাগ্য নির্ধারক সমাধানের অপেক্ষা করা ঠিক হবে না. তা স্বত্ত্বেও এই সাক্ষাত্কার একটা ইতিবাচক পদক্ষেপ. কিন্তু আমি মনে করি না যে, তা কোন দ্রুত ফলাফলের দিকে নিয়ে আসবে”.