মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের থেকে খনিজ তেল আমদানী করার বিষয়ে ভারতের নেওয়া ব্যবস্থায় সন্তুষ্ট নয়. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রপতির বিশেষ প্রতিনিধি কার্লোস পাস্কুয়াল. যদি ভারত ইরান থেকে খনিজ তেল আমদানী করার বিষয়ে কড়াকড়ি না করে, তবে তারাও পশ্চিমের নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে, যা এই বছরের গরমেই শুরু হতে চলেছে. সেই গুলির সঙ্গে চিনও ধাক্কা খেতে পারে, যারা ভারতের মতই একটি প্রধান ইরানের খনিজ তেল আমদানী কারক দেশ. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

 ভারত ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞার শরিক নয়, যা ইউরোপীয় সঙ্ঘ ঘোষণা করেছে, কিন্তু তারা বাধ্য হয়েছে ওয়াশিংটনের প্রতি ছাড় দিতে, যাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক খারাপ না হয়. এই চলতি আর্থিক বছরে ভারত ইরান থেকে অপরিশোধিত খনিজ তেল আমদানীর পরিমান কমাবে শতকরা এগারো শতাংশের মতো- ১ কোটি পঞ্চান্ন লক্ষ টন পর্যন্ত. এই বিষয়ে জানানো হয়েছে ভারতের খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আর. পি. এন সিংহের দেওয়া ভারতীয় পার্লামেন্ট এক সদস্যের প্রশ্নের লিখিত উত্তরে.

 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের কম করা পছন্দ হয় নি. গত সপ্তাহে দিল্লীতে পররাষ্ট্র সচিব হিলারি ক্লিন্টনের সফরের সময়ে তিনি ভারতীয় মন্ত্রীসভার কাছ থেকে ইরানের খনিজ তেল আমদানী কমানো সম্বন্ধে খুবই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে দাবী করেছিলেন, আর পরিবর্তে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, অন্যান্য উত্স থেকে এই খামতি পূরণের বিষয়ে সাহায্য করবেন. কিন্তু এটা মোটেও সহজ নয়. ভারত তৈরী নয় ইরানের সরবরাহ থেকে সম্পূর্ণ ভাবে বঞ্চিত হতে, এই কথা মনে করে রাশিয়ার খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উত্পাদক সঙ্ঘের সভাপতি গেন্নাদি শ্মাল বলেছেন:

 “আমি সব সময়েই মনে করেছি, যে এই সমস্ত নিষেধাজ্ঞা, যা আমেরিকা ও ইউরোপের দেশ গুলি ঘোষণা করছে, তা খুবই কম ফল দায়ী. প্রত্যেক দেশেরই এই ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ রয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চিন, অন্যান্য দেশ আর ভারতের উপরে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে তারা ইরানের খনিজ তেল কম ব্যবহার করে, যা এই সব দেশের স্বার্থের পরিপন্থী. ভারতের বহু দিন ধরেই ইরানের খনিজ তেল কোম্পানী গুলির সঙ্গে ভাল সম্পর্ক তৈরী হয়েছে. ভারতের পরিশোধনের কারখানা গুলি, যারা ইরানের তেল নিয়ে কাজ করে, তারা এক বিশেষ ধরনের তেলই ব্যবহার করে ও তাতে যৌগ গুলির পরিমানও নির্দিষ্ট. যে কোন ধরনের পরিবর্তনই বাড়তি খরচের কারণ হবে ও তা গুণ গত ক্ষেত্রেও প্রতিফলিত হবে. সরবরাহ করা খনিজ তেলের বিষয়ে তার চরিত্র গত পার্থক্য থাকলে তা ব্যবহার সব সময়ে সম্ভবপর নয়”.

 ইরান ঐতিহ্য গত ভাবেই, ভারতের বহু দিনের কর্ম সহযোগী দেশ,  যদিও ভারত বর্তমানে কালো সোনা আমদানী করছে বিশ্বের প্রায় তিরিশটিরও বেশী দেশ থেকে, তবুও ইরানের খনিজ তেলই ভারতের শতকরা আশি ভাগ অপরিশোধিত তেল আমদানীর অংশ. ইরানের খনিজ তেলের খুবই উচ্চ গুণগত মান, কম সালফার যৌগের উপস্থিতি, তার বদলের ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি করবে.

 হিলারি ক্লিন্টন, ভারতের কাছ থেকে ইরানের খনিজ তেল কম করার দাবী করে, বুঝতে দিয়েছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বাণিজ্য সহযোগী দেশের তালিকা থেকে ভারতকে বাদ দেয় নি, যাদের প্রতি নিষেধাজ্ঞা ব্যবহার করা হবে. তিনি ঘোষণা করেছেন যে, “ভারত শুধু ইরানের খনিজ তেল আমদানীই কম করতে বাধ্য নয়, বরং যদি দরকার হয়, তবে আরও বেশী কিছু করতে বাধ্য”.

 কতদূর অবধি এই দাবী করা হতে পারে, তা বলা কঠিন. দিল্লীতে আমেরিকার দূতাবাসের প্রতিনিধি পিটার ভ্রুম্যান ফ্রান্সের সংবাদ সংস্থা এপিএফ এর প্রতিনিধির এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেন নি. “এই প্রশ্নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ওয়াশিংটনে”, - বলেছেন তিনি. কিন্তু এটা কি দিল্লীর পছন্দ হবে?