রাষ্ট্রসঙ্ঘের নির্দেশে আন্তর্জাতিক পরিবার দিবস পালিত হয়ে থাকে ১৫ই মে. সুখী পরিবার শুরু হয় ছেলেমেয়েদের থেকে, এই ব্যাপারে রাশিয়া দেশের মাঝখানের নভগোরদ এলাকার ক্রুতই ময়দান নামের গ্রামের এলেনা ও পাভেল কোতভরা দৃঢ় বিশ্বাস করে থাকেন.

তাদের নতুন সংসারে ছেলেমেয়ের সংখ্যা নয়টি, তাদের মধ্যে পাঁচ জন পালিত. আর সকলেই, তাদের মধ্যে পাঁচ বছরের ছেলেও আছে, যারা সকলেই কোতভ বংশের ইতিহাস জানে. এটা একটা শিক্ষক বংশ, যাদের সাত প্রজন্ম ধরেই বাড়ীতে শিক্ষক আছেন ও সব মিলিয়ে ১৩৪ বছর ধরে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা রয়েছে. এই হাসিখুশী পরিবারের ৩২ বছরের মা এলেনা কোতভা – নিজেও শিক্ষিকা, তিনি জার্মান ভাষা পড়ান. বড় মেয়ে ঠিক করেছে পরিবারের ঐতিহ্য বজায় রাখবে ও নিজেও শিক্ষক শিক্ষণ কলেজেই পড়াশোনা করছে, এই কথা বলে রেডিও রাশিয়ার কাছে এক সাক্ষাত্কারে এলেনা কোতভা বলেছেন:

“আমি এখনই প্রত্যেক বাচ্চার ভবিষ্যত দেখতে পাই আর জানি, কে কি হবে. আমি ওদের ভবিষ্যত সম্বন্ধে স্বপ্ন দেখতে শেখাই. আমরা সব সময়েই সেই বিষয়ে কথাবার্তা বলে থাকি: তুমি নিজেকে ভবিষ্যতে কি রকমের দেখতে পাচ্ছ? বাড়ীর সবাই মিলে জলসার মহড়া দিয়ে থাকি, সকলেই গন গাই ও নাচি, বিভিন্ন মঞ্চে অনুষ্ঠান করে থাকি. আমাদের সংসার, নিজেদের বাড়ী, পরিবারের উষ্ণতা এই সব নিয়ে বিভিন্ন রকমের তৈরী অনুষ্ঠান রয়েছে”.

কোতভ পরিবার প্রায় সমস্ত পারিবারিক প্রতিযোগিতাতেই অংশ নিয়ে থাকে, যা রাশিয়ার বিভিন্ন জায়গায় হয়. গত বছরের হেমন্তে কালে তারা সারা রাশিয়া বংশ পরিচয় প্রতিযোগিতা, যা “বিশ্বাস, আশা, ভালবাসা” নামে আয়োজিত হয়েছিল, তাতে বিচারকদের একেবারে অভিভূত করে ফেলেছিল আর সহজেই রাশিয়া, স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহের ও দূর বিদেশের বহু সংখ্যক “প্রতিদ্বন্দ্বীদের” হারিয়ে দিয়েছিল.

এই পরিবারের কর্তা পাভেল কোতভ – নিজে একজন লোহা ঢালাই এর কারিগর – তিনি নিজে নানা ধরনের সাজানোর উপযুক্ত ঢালাই করা জিনিস নিজের কর্ম শালায় বানিয়ে থাকেন, তাতে যেমন দরজা, বেড়া, তেমনই আসবাব পত্র ও ঘরের ভিতরের চুল্লির জন্যেও নানা ধরনের দরকারি জিনিস রয়েছে. ১৯৯৯ সালে পাভেল ও এলেনা বিয়ে করেছেন. আর যখন তাদের একের পরে এক করে দুই ছেলের জন্ম হয়েছিল, তখন তারা ঠিক করেছিলেন আরও দুটি পালিত কন্যা নেওয়ার.

এলেনা প্রথমে খুবই ভয় পেয়েছিলেন যে, পরে ছেলেমেয়েরা বড় হয়ে, হয় তাঁকে ভালবাসা দিয়ে নিজের ছাড়া অন্য পালিত সন্তানদের মানুষ করার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাবে, নয়তো অভিযোগ করবে, যে, পালিত না নিলে এই ভালবাসা হয়তো তাদেরই বেশী করে জুটত. কিন্তু ছেলেমেয়েরা বাবা মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞ এই কারণে যে, তারা বাড়ীতেই অনেক বেশী সংখ্যক বাচ্চার সঙ্গে মিলে মিশে বড় হয়ে উঠেছে, কারণ এটা পরিবারে থেকেই জীবনের অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি করে. এমনকি মনস্তাত্বিকরাও জোর দিয়ে বলেন যে, বড় পরিবার থেকে শিশু যে কোন ধরনের পড়াশোনার জায়গাতেই পৌঁছায় অন্য ধরনের, আর অনেক বেশী জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে. ছোট বাচ্চা এখন কিন্ডারগার্টেন যায়, তার শিক্ষিকা সব সময়েই কৌতুক করেন: “ওকে এখনই অর্ধেক মাইনে দিয়ে এখানে শিক্ষক হিসাবে নেওয়া সম্ভব, কারণ ও এখনই বড়দের সাহায্য করে”. আর এই কথাই বলা হয়ে থাকে পরিবারের সমস্ত ছেলে মেয়ে সম্বন্ধেই.

এলেনা কোতভা নিজের গ্রামে পারিবারিক ক্লাব খুলছেন. তিনি ঠিক করেছেন বাড়ীর সুখ শান্তি নিয়ে নতুন সংসার করতে যাওয়া দম্পতিদের কাছে তাঁর অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেবেন, আর তাদের খুবই সক্রিয়ভাবে সাহায্য করতে, যারা চায় পালিত পুত্র বা কন্যা নিতে.