আজ প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে নতুন মন্ত্রীসভার কাঠামো ও সদস্যদের নাম প্রস্তাব করেছেন. নতুন মন্ত্রীদের নাম আপাততঃ বলা হয় নি – ভ্লাদিমির পুতিন শুধু ঘোষণা করেছেন যে, কাল থেকে নতুন মন্ত্রীসভার পদ প্রার্থীদের সঙ্গে নিজে পরামর্শ শুরু করবেন.

 প্রধান কৌতুহলের বিষয় হল তথাকথিত প্রধানমন্ত্রীর ব্লকের (সামাজিক নীতি, অর্থনীতি) ক্ষেত্রে কোন প্রবল পরিবর্তন হচ্ছে কিনা – সেটাই আপাতত খোলা রয়ে গিয়েছে. প্রশ্নটি স্রেফ কথার কথা নয় – কারণ মন্ত্রীসভার মধ্যে প্রসারিত স্থান পরিবর্তন করার মধ্যেই বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নে মেদভেদেভের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে আত্ম নির্ভরতা ও প্রভাবশালীত্বের প্রমাণ পাওয়া যাবে.

 নতুন মন্ত্রীসভায় কে আসছেন তা এখনও জানা নেই, কিন্তু জানা গিয়েছে যে, কি ধরনের কাজ নতুন মন্ত্রীসভাকে করতে হবে: সেই গুলি রাষ্ট্রপতির প্রথম নির্দেশ গুলিতেই উল্লেখ করা হয়েছে, যা আসলে ভ্লাদিমির পুতিনের প্রাক্ নির্বাচনী আশ্বাস গুলিরই বাস্তব রূপ.

 সবচেয়ে বৈপ্লবিক দেখতে লাগছে দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক নীতি সংক্রান্ত নির্দেশ. রাষ্ট্রপতি মন্ত্রীসভার কাছ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে দুই কোটি পঞ্চাশ লক্ষ উচ্চ মাত্রায় উত্পাদনে সক্ষম এমন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি ও তার আধুনিকীকরণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন, ২০১৮ সালের মধ্যে দেশে কাজের থেকে পাওয়া উত্পাদনের হার দেড় গুণ করতে বলেছেন ও রাষ্ট্রীয় গড় বার্ষিক আয়ের ক্ষেত্রে উচ্চ প্রযুক্তি সংক্রান্ত ক্ষেত্র থেকে উত্পাদন শতকরা তিরিশ ভাগ বেশী করতে নির্দেশ দিয়েছেন.

 অর্থনৈতিক লক্ষ্যের দিক থেকে ভিত্তি মূলক বিষয় গুলি জানা থাকায়, পর্যবেক্ষকরা এর পরে বিচার করতে পারবেন, মন্ত্রীসভা তাদের সামনে উপস্থিত কাজ চালাতে পারছে কি না, রাষ্ট্রপতি সেই গুলি নিয়ে নিজেই সামলাতে পারছেন কি না. তাছাড়া, সরকারি কর্মচারীরা শুধু বাধ্যই হবেন নিজেদের কাজ এমন ভাবে প্রস্তুত করতে, যাতে ফল হিসাবে ঘোষিত সূচক গুলি অতিক্রম করা সম্ভব হয়.

 অন্য ব্যাপার হল যে, এই গুলির মধ্যে একটি দ্রুত সফল হওয়ার জন্য, বাকী গুলি নয়. যেমন, মোটেও সহজ হবে না দেশে কাজের থেকে উত্পাদনের হারকে দেড় গুণ বৃদ্ধ করা. কিছু বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, এই সূচক অতিক্রমের অর্থ হল যে, রাশিয়ার অর্থনীতি বছরে সাত থেকে সাড়ে সাত শতাংশ উন্নতি করার. আর আপাততঃ আমরা অর্থনৈতিক উন্নতি করছি শতকরা চার শতাংশ হারেই.

 এই সব করা সম্ভব হবে কি না তা আপাততঃ বলা কঠিন. এই সমস্ত ঘোষিত লক্ষ্য অতিক্রম করতে হলে কি ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে, তা রাষ্ট্রপতির নির্দেশে বিশদ করে বলা নেই. নির্দিষ্ট দায়িত্ব নির্দেশে দেওয়া হয়েছে, সেই প্রাক্ নির্বাচনী আশ্বাস গুলির সম্বন্ধেই, যা এখনই করা সম্ভব. আর স্ট্র্যাটেজিক কাজ গুলি করার জন্য দিক নির্দেশ, বুঝতে পারা যাচ্ছে, তৈরী করতে হবে দিমিত্রি মেদভেদেভের মন্ত্রীসভাকেই.