পারমানবিক শক্তি সংস্থা আশা করেছে যে, ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনার কোন সামরিক প্রকল্প যে নেই আর তা করা হচ্ছে একেবারেই শান্তির লক্ষ্য নিয়ে, সেই বিষয়ে প্রমাণ পাওয়ার. ইরান ও আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা, ১৪ই মে নতুন করে আলোচনা শুরু করছে, যা এই বছরের শুরু থেকেই নতুন করে শুরু হয়েছিল ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা সংক্রান্ত বিতর্কিত বিষয় গুলি সম্বন্ধে সহমতে পৌঁছনোর জন্য.

 এই বছরের শুরুতেই ইরান সংস্থার পর্যবেক্ষকদের সামনে তাদের সবচেয়ে গোপনীয় ও প্রধান পারমানবিক পরিকল্পনা সংক্রান্ত কেন্দ্রের দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল – পারচিন কেন্দ্রের. ভিয়েনা তখন অসন্তোষ দেখিয়েছিল, যদিও ইরান কখনই পর্যবেক্ষকদের আলাদা করে বিশেষ আতিথ্য বা আলোচনার প্রয়াস করে নি. আজ পারচিন কেন্দ্র আবার করে মনোযোগের কেন্দ্রে উপস্থিতি হয়েছে. এই কেন্দ্রের উপগ্রহ থেকে নেওয়া ছবি, যা বেশ কিছু পশ্চিমের সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে দেখানো হয়েছে মালবাহী গাড়ী ও মাটি খোঁড়ার পরিবহনের গাড়ীর ছবি. পর্যবেক্ষকদের প্রতিক্রিয়া একদেশদর্শী – ইরান পরীক্ষা করার চিহ্ন মুছে দিতে চাইছে. একই ধরনের মত পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রধান ইউকিও আমানোর. তিনি ইরান যে নিজেদের পারমানবিক কাজ কারবারের চিহ্ন মুছে ফেলতে চাইছে, এমন সম্ভাবনা বাদ দিতে চান নি, প্রসঙ্গতঃ, অবশ্য উল্লেখ করেছেন যে, কোন রকমের সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে এই কেন্দ্র পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন.

 তীক্ষ্ণ ও একদেশদর্শী ঘোষণা – বৃহত্তর রাজনৈতিক ক্ষেত্রে খুবই ভ্রষ্ট সহচর. তার উপরে ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে যখন একটা স্তর পরিবর্তন খেয়াল করা গিয়েছে. কয়েকদিন আগের রাষ্ট্রসঙ্ঘের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশ ও জার্মানীর সঙ্গে ইরানের ইস্তাম্বুল শহরে আলোচনা আশা করার জন্য একটা অজুহাত দিয়েছিল, এখন সেই আলোচনা ২৩শে মে আবার বাগদাদ শহরে হবে.

 এরই মধ্যে স্ট্র্যাটেজিক মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ সের্গেই দেমিদেঙ্কো কোন রকমের মুগ্ধ ভাব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বলেছেন যে, এই সমস্যার কোনও দ্রুত সমাধান আশা করা উচিত্ হবে না, তিনি যোগ করেছেন:

 “ইরানের এক বড় খেলা চলছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকেও ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে বড় খেলা চালু রয়েছে. তেহরানের পক্ষে সুবিধা জনক হল নিজেদের দেশের সেই ছবিকেই বাঁচিয়ে রাখা, যারা পারমানবিক অস্ত্র নির্মাণে সক্ষম, পশ্চিমকে ভয় দেখানো. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের পশ্চিমের সহযোগীদের পক্ষেও সুবিধা জনক হল ইরানকে এক রকমের আঞ্চলিক ছায়ামূর্তি করে রাখা. এই খেলা চলতেই থাকবে, তার থেকে আপাততঃ কেউই বের হতে চাইছে না”.

 এই আলোচনার ক্ষেত্রে একটি প্রধান সমস্যা হল যে – ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনার কোনও সামরিক দিক যে নেই, তা নিয়ে গ্যারান্টির অনুপস্থিতি. রাশিয়া, এক দিক থেকে, তেহরানের কাছ থেকে এই ধরনের গ্যারান্টি উপস্থিত করার জন্য অনুরোধ করছে, আর অন্যদিকে  - জোর দিচ্ছে ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্রকে লক্ষ্য করে আগে এগিয়ে যাওয়ার জন্য পদক্ষেপ নিতে: পরম্পরা রেখে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বন্ধ করতে ও তুলে নিতে. ইরানের পরিকল্পনা কি সামরিক? এই প্রশ্নের উত্তর আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার কাঠামোর মধ্যেই পেতে হবে, মনে করে সেন্ট পিটার্সবার্গের আধুনিক নিকট প্রাচ্য গবেষণা কেন্দ্রের বিশ্লেষক গুমের ইসায়েভ বলেছেন:

 “এখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ও আরও কয়েকটি দেশের নির্দিষ্ট ঝোঁক রয়েছে, যারা প্রমাণ করতে চাইছে যে, ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা শুধুমাত্র সামরিক লক্ষ্যই সামনে রেখেছে. তা স্বত্ত্বেও আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা শান্তি পূর্ণ পরমাণুর বিষয়ে কাজ করতে দিয়ে থাকে, আর সেই হুমকি যে, ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনার সামরিক চরিত্র রয়েছে, তা প্রমাণ সাপেক্ষ বিষয়. আপাততঃ সেই ধরনের প্রমাণ উপস্থিত করা হয় নি. আমরা একটা তথ্য যুদ্ধের নানা রকমের জিনিসের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি, যার কাজ হল – ইরানের মর্যাদা নষ্ট করা”.

 ভিয়েনাতে আলোচনা বোঝাই যাচ্ছে যে, তেহরানের পক্ষ থেকে তাদের আন্তরিকতার পরীক্ষা ও আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতার প্রমাণ হতেই হবে. তাদের আরও একটা সম্ভাবনা হয়েছে, প্রমাণ দেওয়ার যে, তাদের দেশের শান্তিপূর্ণ পারমানবিক পরিকল্পনা বিকাশ ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্য নেই. এই প্রসঙ্গে সহযোগীরা সেই ধারণার ভিত্তিতেই কথা বলছেন যে, যে কোন দেশের, তার মধ্যে ইরানও রয়েছে, পারমানবিক পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই থাকতে বাধ্য.