মার্কিন কংগ্রেস ওবামা প্রশাসনের কাছ থেকে পররাষ্ট্র দপ্তরের বিদেশী সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর তালিকায় “হাক্কানি নেট ওয়ার্ক” যোগ করার দাবী করেছে. উপযুক্ত পত্র, দুই রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেই পার্লামেন্ট সদস্যদের কাছ থেকে স্বাক্ষরিত হয়ে শুক্রবারে পররাষ্ট্র সচিব হিলারি ক্লিন্টনের কাছে পাঠানো হয়েছে. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

 আমেরিকার কংগ্রেসের সদস্যদের পক্ষ থেকে এটা মোটেও প্রথমবার মার্কিন প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানানো নয়. তা স্বত্ত্বেও, রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার প্রশাসন সরকারি ভাবে স্বীকৃত সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর তালিকায় “হাক্কানি নেট ওয়ার্ক” কে যোগ করতে তাড়াহুড়ো করছে না. মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ভিক্টোরিয়া ন্যুল্যান্ড বলেছেন যে, আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই প্রশ্ন নিয়ে “গবেষণা করা” চালিয়ে যাচ্ছে. এই প্রক্রিয়া আজ এক বছরেরও বেশী সময় ধরে চলছে. কিন্তু তার শেষ দেখা যাচ্ছে না. ওয়াশিংটন যে কাজ করতে সব থেকে বেশী সম্ভব মনে করেছে, তা হল এই তালিকায় নেট ওয়ার্ক স্রষ্টা দুই হাক্কানি – সিরাজুদ্দিন ও জালালুদ্দিনের নাম যোগ করেছে, তাদের সঙ্গে সাংগিনের নামও জুড়েছে.

 আর সেই দল সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তা হল ওয়াশিংটন এটাকে আপাততঃ সন্ত্রাসবাদী ঘোষণা করতে অপেক্ষা রেখেছে. আর একই সঙ্গে বিগত কয়েক বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের সেনা বাহিনীর কাছ থেকে হাক্কানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার দাবী করেছে, যারা উত্তর ওয়াজিরিস্তানে ঘাঁটি গেড়ে বসে রয়েছে. ইসলামাবাদ, কিন্তু, মোটেও এই দাবী পূরণের জন্য তাড়াহুড়ো করছে না.

 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের এই নিষ্ক্রিয়তার ব্যাখ্যা আছে. “হাক্কানি নেট ওয়ার্ক” – সবচেয়ে বড় ও খুবই ভাল করে তৈরী করা আফগানিস্তানের তালিবদের গোষ্ঠী. ন্যাটো জোটের আফগানিস্তান থেকে সেনা বাহিনী অপসারণের পরে এই দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াতে এই গোষ্ঠীই একটা প্রধান ভূমিকা নেবে, এই কথা বলে স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক আঝদার কুরতভ বলেছেন:

 “এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হল উল্লেখ করা যে, হাক্কানির আন্দোলন, আমেরিকার লোকদের আফগানিস্তান ছেড়ে চলে যাওয়ার পরে ও কারজাই প্রশাসনের পতনের পরে এই দেশে নিজেদের অংশের ক্ষমতার দাবী করতে পারে. ওয়াশিংটন ও পাকিস্তান, প্রত্যেকেই ন্যাটো জোটের সেনা বাহিনী সরে যাওয়ার পরে নিজেদের মত করে “হাক্কানি নেট ওয়ার্কের” সঙ্গে সহযোগিতা করার কথা ভেবেছে, যাতে এই দেশে নিজেদের প্রভাব রাখা আর বেশী করাই সম্ভব হয়”.

 কিছু তথ্য অনুযায়ী, গত বছরে মার্কিন প্রশাসনের প্রতিনিধিরা “হাক্কানি নেট ওয়ার্কের” প্রতিনিধিদের সঙ্গে গোপনে আলোচনা করেছে. এই সব বৈঠক হয়েছে কারজাই প্রশাসনকে না জানিয়েই, আর পাকিস্তানের গোচরে না আসতে দিয়ে. প্রসঙ্গতঃ, এই বৈঠক থেকে কোনও ফল হয় নি. পরিস্থিতি আরও দ্রুত পরিবর্তিত হয়েছে, যখন গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে হাক্কানি গোষ্ঠীর জঙ্গীরা কাবুলে ন্যাটোর সদর দপ্তরে আক্রমণ করেছিল. কিন্তু এই ধরনের যুদ্ধের আহ্বানও, সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, ওয়াশিংটনের তরফ থেকে তালিবদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছাকে দমিয়ে দিতে পারে নি. আর সরকারি ভাবে “হাক্কানি নেটওয়ার্ক” কে সন্ত্রাসবাদী ঘোষণা করলে, তা বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেই এই ধরনের কাজ করার সম্ভাবনায় বাদ সাধতে পারে.