অর্থনৈতিক বিকাশের মেরু পাল্টাচ্ছে- পশ্চিম থেকে পূর্বে. এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকাতেই বিশ্ব অর্থনীতির পুনর্স্থাপন শুরু হচ্ছে – রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশেষজ্ঞরা ঐকতানে এই কথা বলছেন. এই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থায় সভাপতিত্ব ও একই সঙ্গে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যোগদান রাশিয়ার জন্য নতুন বাজার ও উন্নয়নের পথ খুলে দিয়েছে.

এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থায় এই অঞ্চলের ২১টি দেশ রয়েছে. এই সংস্থার বিগত ২০ বছরের ইতিহাসে তা বিশ্ব সমাকলনের সম্পর্কে নতুন টাটকা ধারণা উত্পন্ন করার জন্য এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় মর্যাদা অর্জন করতে পেরেছে, যেখানে বিশ্বের শতকরা চল্লিশ ভাগ জনগন বাস করে থাকেন. গত দশ বছরে এলাকা আরও বেশী করে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির জন্য এঞ্জিনের কাজ করেছে, যাদের আয়ত্বের মধ্যে রয়েছে বিশ্বের সমস্ত বাণিজ্য বিনিময়ের অর্ধেকেরও বেশী. ভবিষ্যতে এই সূচক গুলি আরও বেশী করে অভিভূত করার মতো হয়ে উঠবে, এই কথাই বলা হয়েছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের রিপোর্টে. রাশিয়ার এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থায় সভাপতিত্ব সুদূর প্রাচ্য ও পূর্ব সাইবেরিয়ার অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য ব্যবহার করতে সম্ভব করে দেবে, এই রকমই মনে করে মস্কো শহরের রাষ্ট্রসঙ্ঘের তথ্য কেন্দ্রের ডিরেক্টর আলেকজান্ডার গরেলিক বলেছেন:

“রাশিয়ার বহু দিন ধরেই এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে. কিন্তু এটা মূলত বৃহত্ কাঁচামাল সংক্রান্ত প্রকল্প গুলিই. সেই ধরনের যেমন, “সাখালিন”, যা এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার দেশ গুলিতে তরল গ্যাস সরবরাহের সম্বন্ধে করা হয়েছে. আজ রাশিয়া বিশ্ব অর্থনৈতিক সমাকলনের সম্বন্ধে নিজেদের আহ্বান করেছে আর এই অঞ্চলে নিজেদের উপস্থিতি বৃদ্ধির কথা বলেছে. এটা এই প্রশ্নে একটা গুরুতর ও নতুন প্রস্তাব”.

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, সেই সমস্ত প্রশ্ন নিয়ে, যা এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার আলোচ্যের তালিকায় রয়েছে, তা দিয়ে আধুনিক বিশ্ব অর্থনীতির পরিস্থিতি বিচার করা সম্ভব. যদি কয়েক বছর আগে শীর্ষ বৈঠকের আলোচ্য হত অর্থনৈতিক সঙ্কটে সঙ্গে লড়াই, তবে, এখন, এশিয়া  প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ গুলি লক্ষ্য নিয়েছে এই এলাকার অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য. রাশিয়াও এই ঝোঁকে সামিল হয়েছে. শীর্ষ বৈঠকের প্রধান আলোচনার বিষয় হিসাবে রাশিয়া ঘোষণা করেছে আঞ্চলিক সমাকলন, খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি, আর তারই সঙ্গে উদ্ভাবনী প্রযুক্তি বিষয়ে সহযোগিতা. এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থায় রাশিয়ার জোর দেওয়ার লক্ষ্য হয়েছে নির্দিষ্ট প্রকল্প গুলিকে বাস্তবায়ন করার ভিত্তিতে ও নিজেদের সাফল্যকে প্রদর্শন করা. এশিয়া অঞ্চলে স্বাধীন ভাবে বাণিজ্যে করা নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছনো, বাস্তবে, রাশিয়ার বিশ্ব জুড়ে পররাষ্ট্র সংক্রান্ত অর্থনৈতিক সম্পর্কের পরিকাঠামোকে সম্পূর্ণ করবে. তা জোড়া হয়েছে শুল্ক সঙ্ঘ তৈরী করা দিয়ে, যেখানে রাশিয়া ছাড়াও বেলোরাশিয়া ও কাজাখস্থান রয়েছে, ঐক্য বদ্ধ অর্থনৈতিক এলাকা রয়েছে, স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহের সঙ্গে অবাধ বাণিজ্য রয়েছে, আর তারই সঙ্গে রয়েছে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা, এই কথা ব্যাখ্যা করে “রেডিও রাশিয়াকে” রাশিয়ার এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থা গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর পাভেল কাদোচনিকভ বলেছেন:

“এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থায় রাশিয়ার সভাপতিত্ব এখন খুবই সময়োপযুক্ত হয়েছে. তা খুবই সফল ভাবে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্য পদ পাওয়ার সঙ্গে মিলেছে. এটা আমাদের সুবিধা করে দেবে খুবই সক্রিয় ভাবে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সমাকলন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করতে সাহায্য করবে ও এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় অবাধ বাণিজ্য এলাকা গুলি নিরুপণ ও তা নিয়ে সমঝোতা করতেও সহায়তা করবে. বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্য না হলে রাশিয়া এটা করতে পারতো না. এবারে শীর্ষ বৈঠকে আমরা বলতেই পারবো যে, ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের সমাকলনের চিত্র কি রকমের হবে, উত্পাদিত পণ্যের মান ও কাজের ধারা নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়া যাবে, আর তারই সঙ্গে আমাদের দেশ গুলির শুল্ক বিভাগের মধ্যে দিয়ে পণ্য চলাচলের বিষয় সহজ করা সম্ভব হবে”.

এখানে যোগ করবো যে, এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ বৈঠক রাশিয়ার প্রিমোরস্ক এলাকার রাজধানী ভ্লাদিভস্তকে হতে চলেছে এই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে. আর আগামী বছরের শুরুতেই সেখানে এই অঞ্চলের পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের সদস্যরাই সেখানেই এক বৈঠকে মিলিত হবেন. তাঁদের কাজ হবে এই খানে শীর্ষ বৈঠকে দেশের প্রধানদের নেওয়া সিদ্ধান্ত গুলিকে আইন সঙ্গত ভাবে গ্রহণ করা. কিন্তু এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থায়, যেখানে রাশিয়া প্রথমবার আমন্ত্রণ কারী দেশ হতে চলেছে, তার সঙ্গে পার্থক্য হল এই যে, এই অঞ্চলের পার্লামেন্টের সদস্যরা রাশিয়ার মাটিতে এর আগেই সাক্ষাত্কার করেছেন. ২০০৭ সালে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশ গুলির পার্লামেন্ট সদস্যদের পঞ্চদশতম সম্মেলন হয়েছিল মস্কো শহরে.